Posted in

কৃষিতে নারীর অবদান স্বীকৃতি দেওয়া হোক

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

গ্রামের প্রতিটি পরিবারের মা, স্ত্রী, কন্যা কোনো না কোনোভাবে কৃষি কাজে জড়িত থাকেন। নারীরা সংসারের কাজ সেরে অধিকাংশ সময় কৃষি ও কৃষি কাজের সাথে যুক্ত হয়। গ্রামের নারীদের কাছে কৃষি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারীরা শুধুমাত্র শস্য উৎপাদনেই নয়; মৎস্য, গরু-ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর পালনে দৃশ্যমান কাজ করেন। শস্য সংরক্ষণ, বীজ বপন, ফসল উত্তোলন ও বাজারে বিক্রি করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি তাঁরা উৎপাদিত ফসল সংগ্রহ, রোদে দেওয়া, শস্য মজুদ এবং বীজ সংরক্ষণের কাজও করেন তাঁরা। কৃষি কাজ করে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে পরিবারে উন্নয়নে সহযোগিতা করেন।

Exif_JPEG_420

এরকমই একজন নারী ডালিমা বেগম (৫৫)। তাঁর গ্রাম পাটগ্রামচরে। নারীর বহুমূখী কাজের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামের নারীরা রান্নাবান্না করার পর সার্বক্ষণিক কৃষি কাজ করে থাকেন। বাড়িতে মাচা দিয়ে লতা জাতীয় শাকসবজি, আদা, হলুদ, মরিচ চাষ করেন। সকল প্রাণির খাদ্য কৃষি থেকেই সংগ্রহ করেন। আমরা রান্নার জন্য খড়িটাও কৃষি থেকে সংগ্রহ করি। বাড়িতে গরু রাখার জন্য ছন দিয়ে ঘর তৈরি করি। বর্তমানে যদিও টিন দিয়ে বেশি ঘর তৈরি করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা বাড়িতে প্রাণি সম্পদ পালন করে মাঠ থেকে তাদের খাবার সংগ্রহ করেন। নারীরা বাড়িতে, মাঠে শস্য বপন, দেখাশোনা, মাড়াই, সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজও করেন। কৃষিতে আবাদের জন্য বীজ বাছাই করে সংরক্ষণ করেন। তাদের এ কাজের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’

অন্যদিকে আন্ধারমানিকের আয়েশা বেগম (৪৬) বলেন, ‘কৃষি কাজ করেই আমার সংসার চলে। আমি বাড়িতে সংসারের কাজ ও কৃষির সকল কাজ করি। হাঁস-মুরগি, ছাগল, গরু পালন ও রান্না করে থাকি। পরিবারে ছেলে মেয়েদের থাকা খাওয়া ও লেখাপড়া নিশ্চিত করি।’ তিনি আরও বলেন, গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজও করি। শাকসবজি, মসলা, তেল ও ধান জাতীয় সকল ফসল আবাদ করি। ধান রোপণ, আগাছা বাছাই, ধান কাটা, মাড়াই, সংগ্রহ ও গড়ে তোলার কাজও করে থাকি। বাড়িতে ও মাঠে শাকসবজি চাষ করে ফসল উত্তোলন ও বাজারে বিক্রয় করে থাকি। গ্রামের নারীরা কৃষির সকল কাজ করে ফসল উৎপাদন করে থাকেন। কিন্তু ফসল উৎপাদন করলেও অধিকাংশ নারীরা বাজারে ফসল বিক্রয় করেন না। নারীরা বাড়িতে ও কৃষিতে অধিক সময় দেওয়ার পরও ফসল বিক্রির টাকা নারীর হাতে আসে না। কৃষি থেকে অর্জিত আয় সরাসরি নারীরা হাতে পাওয়ার মাধ্যমে কৃষিতে নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।’


একই কথা জানান, হাটিপাড়ার শোভা রাণি রায়।তিনি জানান, সকালে ঘুম থেকে উঠা পর সংসারের কাজ আর শেষ হয় না। প্রতি পরিবারের নারীরা পরিবারে জন্য সময় দিয়ে, বাকি অধিকাংশ সময় কৃষি কাজ করেন। ফসল উৎপাদনের জন্য নারীরা মাঠেঘাটে সব জায়গায় অবদান থাকে। বর্তমান সময়ে নারীরা সংগঠন করে নিজেরা সচেতন হচ্ছেন। দেশীয় বীজবৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে ফসল আবাদ করেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে নারীরা কৃষির সাথে সরাসরি জড়িত থেকে কাজ করনে। কিন্তু নারীদের কৃষি কাজকে মূল্যায়ন করে কৃষিতে নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হোক।


গ্রামের নারীরা অধিকাংশ সময় কৃষি কাজে ব্যয় করে জীবিকায়ন করে থাকেন। কৃষিতে নারীর অবদানকে মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। কৃষির সাথে যুক্ত গ্রামের নারীদের স্বীকৃতি দেওয়া হোক। এটা গ্রামের নারীদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.