সাম্প্রতিক পোস্ট

নিজস্ব সম্পদেই কৃষক আবার ঘুরে দাঁড়াবে

নেত্রকোনা থেকে মো. অহিদুর রহমান

নেত্রকোনার হাওর, পাহাড়, সমতলের মানুষ প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে আজ দিশেহারা। কলমাকান্দার চন্দ্রডিঙ্গার সুবিমল,রেনুকা, নাহা হাজং, মতি ঘাগ্রা শতবাড়ি ভরে গেছে বালি আর ছোট ছোট নুরি পাথরে আটপাড়ার সিদ্দিকুর রহমান, সায়েদ আহমেদ খান, রেহেনা, মোজাম্মেল,মর্জিনার শতবাড়ি চলে গেছে পানির নীচে। নেত্রকোনার কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে শুরু করে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত বন্যার পানিতের একাকার। কলমাকান্দায় বালি, নুরিপাথর এসে এলাকার কৃষি জমি নষ্ট করছে, সবজি, ফসলের মাঠ, বাড়ির পুষ্টির উৎস, ফলজ,বনজ গাছ, অচাষকৃত খাদ্যসম্পদ, সবই গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাজার, দোকান, হাসপাতাল, শিক্ষালয় সব বন্ধ। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগের রাস্তা। বন্ধ হয়েছে খেলার মাঠ।


মদন উপজেলার গুচ্ছগ্রামের সবুজ পরিবেশ,তাদের পুষ্টি বাগান, বীজের ঘর, থাকার ঘর, গোয়ালঘর, কিছুই নেই শুধু পানি আর পানি। হাওর নার্সারি, তালুকদার নার্সারি, হাওর বীজঘর সবই পানির নিচে। পানি আর ঢেউয়ের মাঝে গ্রামগুলো আর চেনা যায়না। খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা, আটপাড়া, কেন্দুয়া, নেত্রকোনা সদর, পূর্বধলা, দূর্গাপুর গ্রাম কি শহর কি পৌরসভা আজ পানিবদ্ধ, ফলসের মাঠ নেই, প্রাণিসম্পদ বন্দী অবস্থায়। প্রাণিসম্পদের খাদ্যের অভাব। ঘটছে প্রাণিরমৃত্যু ঘটনা। মানুষ নিজে তার প্রাণসম্পদ, খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান নিচ্ছে। সকল ফিরারি ডুবে গেছে।


প্রতিবছরই বন্যা, আগাম বন্যা, খরা, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, হট ইনজুরি, কোল্ড ইনজুরি, ধানে চিটা লেগেই আছে। মানুষ সব দুর্যোগ সামাল দিয়ে আবার আশা নিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়ায়।
আসাম মেঘালয়ের অতিবৃষ্টি, হাওরের তলদেশ ভরাট, নদী নালা, খাল-বিল,ডোবাভরাট, হাওরের অপরিকল্পিত বাঁধ ও অপরিকল্পিত ব্রীজ, কালভার্ট, বেড়িবাঁধ, সড়ক, অবকাঠামো, উন্নয়ন কর্মকান্ড পানি প্রবাহে বাঁধা তৈরি হচ্ছে, পানি সহজে চলাচল করতে পারছেনা।


পরিবেশ প্রকৃতি সুরক্ষা রেখে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করতে করা জরুরি। তা নাহলে আমরা শুধু নেত্রকোনার সর্বস্তরের মানুষ নয় সারা বাংলাদেশের মানুষ চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখিন হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আ: ওয়াদুদ বলেন “আমরা প্রতিবছর কোন না কোন দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। আবার আমরা নিজরাই ঘুরে দাঁড়াই। সরকার আর কি সাহায্য করে।”


বন্যার পরবর্তী সময়ে কৃষিকাজে যাতে ধান, সবজি, তেল, মসল্লার বীজ ও কৃষি উপকরণ সহায়তা পেতে পারে তার জন্য বারসিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: