সাম্প্রতিক পোস্ট

আমরা সাংগঠনিকভাবে অধিকারগুলো অর্জন করতে চাই

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান
‘করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে প্রতনিয়তই যুদ্ধ করছে মানুষ। প্রান্তিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এই সংকট মোকবেলায় বাংলাদেশ সরকার বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নানামূখী প্রণোদনা ঘোষণা করে। আমরা আমাদের সংগঠনের সদস্যদের সেই প্রণোদনায় যুক্ত করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপসহকারি কৃষি অফিসার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে সাংগঠনিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমরা করোনা প্রতিরোধে নিজেরা টিকা নিচ্ছি এবং অন্যান্য মানুষকে টিকা নিতে পারিবারিকভাবে সচেতন করি, করোনাকালিন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বসতবাড়িতে সবজি চাষ করি, পতিত জায়গা ব্যবহার করছি, বীজ সংকট কাটাতে কৃষক-কৃষক বীজ বিনিময় করি, করোনাকালিন সময়ে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতন করি।’
বলধারা ইউনিয়ন কৃষি উন্নয়ন সংঠনের সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ষান্মাষিক সভায় উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম।


সভায় সংগঠনের সভাপতি আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে বারসিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমানের সঞ্চালনায় বারসিক কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাসের স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি মো. করম আলী মাস্টার, সহ-সভাপতি মো. হযরত আলী, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, কোষাধক্ষ্য সুভাষ মন্ডল, গোলাই কালিগঙ্গা কৃষক কৃষাণি সংগঠনের সভাপতি সেলিনা খাতুন, বারসিক কর্মকর্তা গাজী শাহাদাৎ হোসেন বাদল ও শারমিন আক্তার প্রমুখ।


আলোচনায় সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের কাজই হলো একতাবদ্ধ থেকে নিজেদের অধিকারগুলো অর্জন করা। আমারা সাংগঠনিকভাবে অধিকারগুলো অর্জন করতে চাই। আমরা সংগঠনের মাসিক সভায় জেনেছি স্থানীয় সরকার এর বাৎসরিক বাজেট জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানে না কিভাবে বাজেট হয়, বাজেটে কি থাকে। এ বিষয়ে আমাদের জানা বোঝা বাড়াতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের প্রথম কাজ হবে ইউনিয়ন স্ট্যান্ডিং কমিটিতে নিজেদে যুক্ত করে কমিটি সক্রিয় করা। তাহলে এই কমিটির মাধ্যমেই জনগোষ্ঠীর সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবো।’ সাধারণ সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সংগঠনের যা নেতৃত্ব প্রদান করেন তাদের মধ্যে সততা, উদারতা ও নৈতিকতা থাকতে হবে। যে কোন ধরনের সেবা সহযোগিতা করতে হলে সকল সদস্য যেন সেই সেবাগুলোতে যুক্ত হতে পারে তাই সংগঠনের নেতার দায়িত্ব। আমাদের গ্রাম পর্যায় থেকে জেলা পর্যন্ত নারী পুরুষদের নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠন ও নেতৃত্ব রয়েছে। আমরা একতা থেকে ইচ্ছা করলে নিজেদের অধিকার আদায় করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিজেদের মধ্যে থেকে নেতৃত্ব তৈরি করতে পারি যারা অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা বলবে। কাজেই সংগঠনের সক্রিয় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।


জেলা কৃষি উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি করম আলী মাস্টার, ‘বলেন সকলের একতাই একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণ করতে পারে। আমাদের সমাজকে ভালো রাখতে হলে সাংগঠনিকভাবেই সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কাজেই অধিকার আদায় করতে হলে আমাদের একতা থাকতে হবে সেই সাথে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আমরা একতাবদ্ধ আছি বলেই সরকারি সেবা পাই। আমাদের এই একতা ধরে রাখতে হবে।’ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থা নুরানীগঙ্গা ও কালিগঙ্গা নদী কেন্দ্রিক। তাছাড়া নদীকে কেন্দ্র করেই আমাদের জেলে সম্প্রদায় জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। নদীর জলজ প্রাণী ও দেশীয় মাছ সংরক্ষণের উৎস হিসেবে নুরানী গঙ্গা নদী খনন ও কালিগঙ্গার নদীর দূষণ রোধে আমরা কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। সংগঠনের সদস্যদের দায়িত্ব কর্তব্য তুলে ধরে বারসিক কর্মকর্তা শিমুল বিশ্বাস বলেন, ‘একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। সরকারি ও বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে হলে আমাদের একতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, বারসিক দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষক সংগঠন, সাংষ্কৃতিক সংগঠন, প্রবীণ সংগঠন, নারী সংগঠন যুব সংগঠন, কিশোরী সংগঠনের পাশাপশি গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা জেলা পর্যায়ের ৪টি প্লাটফর্ম তৈরি করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: