সাম্প্রতিক পোস্ট

কৃষক সবার অগ্রগণ্য সম্মান দিয়ে কর মান্য

বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার

কৃষক শুধু খাদ্যর যোগানদার নয় তাঁরা ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাঁদের কাজের মাধ্যমে টিকে আছে হাজার বছরের বাঙালি ঐতিহ্য। খাদ্য ও খাদকের এ জগতে কৃষক শুধুই উৎপাদক নয়, নিজেও একধরনের খাদ্য। কৃষকের শ্রম খেয়ে জমিদার মোটা হয়েছে, রাজারা মহারাজ হয়েছে। অথচ যে মানুষটি সবার খাদ্য জোগায়, সেই থাকে খাদ্যশৃঙ্খলের সবার নিচে। কৃষককে সবাই খায়, শোষণ করে, কিন্তু কৃষক কাউকে শোষণ করতে পারে না। কারণ, তাঁর তলায় ঠকানোর মতো কোনো শ্রেণি নেই। কৃষক নানা অভাব অনটন, সমস্যার মধ্যও টিকিয়ে রাখে তার পেশা ও ঐতিহ্যর উৎসব।


‘কৃষক সবার অগ্যগণ্য সন্মান দিয়ে কর মান্য’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বারসিক ও মোহর স্বপ্ন আশার আলো যুব সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার মোহর গ্রামে সম্প্রতি আয়োজন করে ‘কৃষকের আনন্দ উৎসব ও বীজ প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আবু বাক্কার। সভাপতিত্ব করেন মোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রমজান মোল্লা। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবক মো. রইস উদ্দিন, তালন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার মো. হযরৎ আলী ও অনীল শর্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠানটিতে গ্রামের পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি কৃষকের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা যেমন বদন, হাড়ি ভাঙ্গা, লাঠি খেলা, তৈলাক্ত কলা গাছে আরোহণ, নারী কৃষকদের বালিশ খেলা, চেয়ার খেলা, যুবকদের ফুলবল, লংজাম্প, ছোটোদের মোরগ লড়াই ও শিক্ষার্থীদের অংক দোড় প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে গ্রামের সকল বয়সী জনগোষ্ঠি আনন্দের মধ্য দিয়ে দিনটি অতিবাহিত করেন।

হাড়ি ভাঙ্গা প্রতিযোগিতা প্রথম হন কৃষক মো. আহাদ আলী (৬১),ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলায় বিজয়ী হন মো. আরমান আলীর (৫১) দল। নারী কৃষকদের মধ্য বালিশ খেলায় প্রথম হন মোছাঃ মূর্শেদা বেগম(৪৫), চেয়ার খেলায় প্রথম হন মো. আমেনা বেগম (৩৫)। পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গ্রামের সকল বয়সী নারী ও পুরুষের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. রইস উদ্দিস ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বাক্কার।

উক্ত আয়োজন নিয়ে লাঠি খেলা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদলের দলপতী মোঃ আরমান আলী বলেন, ‘আগে আমরা এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করতাম বা কোন অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো লাঠি খেলা দেখানোর জন।্য কিন্তু এখন আর এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন হয় না; আমাদেরও আর ডাকা হয় না লাঠি খেলা দেখানোর জন্য।’ মোহর গ্রামের সমাজ সেবক মোঃ রইস উদ্দিন(৫৫) বলেন, ‘বারসিক সব সময় চিন্তা করে কিভাবে কৃষকের মঙ্গল হবে। তারা আমাদের নিয়ে দাবি করছে বয়ষ্ক কৃষকের পেনশন কথা। তারা আমাদের পাশে থেকে আমাদের দাবি আদায়ে সহযোগিতা করছে।’ তিনি কৃষকদের এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বারসিককে ধন্যবাদ প্রদান করেন।


কৃষক সারাবছরই নিজেদের কাজের মাধ্যমে পরিবার ও সমাজ তথা দেশের মানুষের মুখের খাবার যোগানে ব্যস্ত থাকেন। তারা ভুলে যান আনন্দ আয়োজনের কথা। একটি দিন কৃষকে নিজের মত করে দিতে পেরে বারসিক গ্রাম বাংলার হাজারো কৃষকের কাছে কৃতজ্ঞ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: