Posted in

মানিকগঞ্জে আখ চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী

fresh sugarcane in garden

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ॥

মানিকগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে আখ চাষ অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় লাভ বেশি পাওয়ায় আখ চাষে ঝুঁকেছে মানিকগঞ্জের কৃষকরা। বছরের কার্তিক মাসে জমিতে হালী করে আখের চারা লাগায়। হালীর ফাঁকে ফাঁকে সাথী ফসল হিসেবে চাষীরা সরিষা, মরিচসহ অন্যান্যও ফসলও চাষ করে থাকে। দুই-তিন মাসে এসব ফসল উঠলেও আখ পরিপক্ক হতে সময় লাগে আরো কয়েক মাস। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পরিপক্ক আখ কেটে ফের কার্তিক মাসে নতুন করে চারা লাগানো হয় পরের বছরের জন্য।

fresh sugarcane in garden
সামান্য পরিচর্যায় এ অর্থকরী ফসল আখ চাষে লাভ হয় অধিক। এখন আশ্বিন মাসের শুরু। পরিপক্ক হয়ে গেছে প্রায় ক্ষেতের আখগুলো। শুরু হয়েছে আখ কাটা। আগামী মাস পর্যন্ত (কার্তিক মাস) চলবে এ আখ কাটার কাজ। কিন্তু আখ কাটতে গিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। ক্ষেতের আখগুলোর বেশিরভাগই শিষ রোগে (আঞ্চলিক ভাষায় ক্যান্সার রোগ) নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, গত কার্তিক মাসে বোনা আখগুলো এখন পরিপক্ক হয়ে গেছে। দেখতে আখগুলো সুন্দর, মোটা ও পরিপক্ক হলেও কাটার পর ভেতরে নষ্ট বেরুচ্ছে। ল্যাদা পোকা ও শিষ রোগে আখ ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় তারা এখন হতাশায় পড়েছে।কৃষকরা জানান, চারা গাছ থেকে পরিপক্ক আখ হওয়ার সময় ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। তখন কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা হলে কৃষি কর্মকর্তারা ডগা ও কান্ডে কীটনাশক প্রয়োগ করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী তারা কীটনাশক স্প্রে করেন আখ ক্ষেতে। এখন পরিপক্ক আখ কাটতে গিয়ে দেখেন আখের ভেতরে লালচে রঙ হয়ে গেছে। প্রতিটি পাকে পাকে পোকায় খেয়ে ফেলেছে। পোকায় নষ্ট হওয়া আখ বাজারে নিয়েও বিক্রি করতে পারছেন না। নষ্ট হওয়া এসব আখ কিনছেন না ক্রেতারাও। এতে মহা হতাশায় পড়েছেন আখ চাষীরা। লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচ উঠবে কিনা এমন সংশয়ও করছেন কোন কোন কৃষক।

2

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সবচেয়ে বেশি আখ চাষ হয়ে থাকে সিংগাইর উপজেলায়। এবছর জেলায় আখ চাষ হয়েছে ১২৮০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদিত এসব আখ শুধুমাত্র খাওয়ার জাত। সুইং, বোম্বে, গেন্ডারী, কুশুল জাতের এসব আখের চাহিদা রয়েছে সারা দেশেই। জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও চলে যায় এ অঞ্চলের আখ। পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।

4

কম খরচ ও বেশি লাভ পাওয়া অর্থকরী ফসল আখ চাষ দিন দিন বাড়লেও পোকার আক্রমণের কারণে হতাশায় পড়ছেন আখ চাষীরা। এখন দরকার পোকার হাত থেকে নিস্তার। সরকারিভাবে পোকা দমনে সহায়তা পেলে এক দিকে আখের উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অর্থকরি এই ফসল রপ্তানী করে কৃষক লাভবান হবে, দেশও হবে সমৃদ্ধ-এমনটাই মনে করছেন কৃষকরা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.