সাম্প্রতিক পোস্ট

কোন কাজই ছোট নয়

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা থেকে আল্পনা নাফাক

কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের খারনৈ গ্রামে বাস করেন মোছা: ছালেহা বেগম। বয়স ৪৫ বছর। প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী মারা যান। তারপর ২ বছরের ছোট মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। সেই থেকে জীবনধারণের জন্য হাতে যে কাজ পান সে কাজই করে আসছেন। অনেক সময় মেয়েকে নানীর কাছে রেখে ঢাকায় কাজ করার জন্য যেতেন। এভাবে তিনি অনেক কষ্ট করে মেয়েকে বড় করেছেন। মেয়ের যখন বিয়ের বয়স হয় তখন ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে দেন। এখন মেয়ে আর মেয়ে জামাই দুজনে ঢাকায় কাজ করেন।

ছালেহা বেগমের জমিজমা বলতে কিছ্ ুনেই। তিনি অন্যের জায়গায় ছোট একটি ঘর তৈরি করে সেখানে থাকেন। তিনি কখনও কাজ ছাড়া থাকেন না। ছালেহা বেগম আজ থেকে ৫ বছর আগে একটি এনজিও থেকে রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেছিলেন। সেখানে পরিচয় হয় একজন নারীর সাথে। যার কাছ থেকে তিনি খেজুর পাতা দিয়ে ঝাড়– তৈরির কৌশল শিখেন। মাটি কাটার পর বিশ্রামের সময় তিনি ওই নারীর কাছ থেকে ঝাড়– বানানো শিখতেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি সেটি আয়ত্ব করেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়– তৈরির কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন।


এই প্রসঙ্গে ছালেহা বেগম বলেন, ‘আমি তখন শখের জন্য শিখেছিলাম। নিজের জন্য বানিয়ে ব্যবহার করব এই ভেবে। খেজুর পাতার ঝাড়– বানাতে লাগে খেজুর গাছে পাতা, বাঁশের কাঠি আর সুতলী। প্রথমে খেজুর পাতা সংগ্রহ করে ছোট ছ্টো করে ছিড়ে রৌদ্রে শুকিয়ে নিই। শুকনো পাতা দিয়ে ঝাড়– তৈরি করি। যে কোন কাজ করার জন্য ইচ্ছা থাকতে হয়। ইচ্ছাটা যদি নিজের মধ্যে না থাকে তবে সে কাজ করা যায় না।’ তিনি আরো বলেন, ‘শহরের নারীরা এই খেজুর পাতার ঝাড়– বেশি পছন্দ করেন। কারণ পুলের ঝাড়–গুলো ভেঙ্গে নষ্ট হয়। কিন্তু খেজুর পাতার ঝাড়– ভেঙ্গে যায় না। ভালোভাবে ব্যবহার করলে ৪/৫ বছর পর্যন্ত টেকসই হয়। আমি একটি ঝাড়ু ৬০/৭০ টাকায় বিক্রি করি। উকরণগুলো তৈরি থাকলে দিনে ৪/৫টি ঝাড়– বানানো যায়।’


ছালেহা বেগমের এক ভাই কলমাকান্দায় থাকেন। সেই ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সঙ্গে করে তিনি একবারে ১০ থেকে ১৫টি ঝাড়– নিয়ে আসেন। তা প্রতিটি ঝাড়– ৬০-৭০ টাকা বিক্রি করতে পারেন। এমনও হয়েছে কিছু ক্রেতা তাকে অগ্রীম টাকা দিয়ে দেয় ঝাড়–র জন্য। নিজের খেজুর গাছ না থাকায় খেজুর পাতা সংগ্রহ করতে পারেন না। ফলে সব সময় ঝাড়– বানানো সম্ভব হয় না। ঝাড়– বিক্রির টাকা দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করেন। এছাড়াও তিনি খেজুর পাতা দিয়ে পাটিও তৈরি করেন। কিন্তু পাটি বানাতে অনেক খেজুর পাতার প্রয়োজন হয় যা সংগ্রহ করা খুবই কষ্টকর।

ছালেহা বেগম এমন করে বিভিন্ন জায়গা থেকে খেজুর পাতা সংগ্রহ করে ঝাড়– বানিয়ে তা বিক্রি করে তার সংসার চালাচ্ছেন। তবে তিনি প্রতিমাসে কিছু টাকাও সঞ্চয় করেন ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: