নারীরা-বীজ পেয়ে খুশি

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

কৃষির মূল উপকরণ হচ্ছে বীজ। বীজ উদ্ভিদ জগতের ধারক ও বাহক। বীজই ফসল উৎপাদনে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। সাধারণত আমাদের দেশের চাষিরা নিজ নিজ ফসলের অপেক্ষাকৃত ভালো অংশ পরবর্তী ফসলের বীজ হিসাবে ব্যবহার করে। তবে এখন সময়ের প্রেক্ষীতে বীজের মালিকানা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোম্পানিনির্ভর হয়ে গেলেও কৃষক-কৃষাণীরা নিরন্তর প্রচেষ্টায় বৈচিত্র্যময় ফসল ফলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে চলেছে।

বেসরকারী গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক এর উদ্যোগে উপকূলীয় ৮০০ শত অতি দরিদ্র ও জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাাঝে বর্ষাকালীন বীজ সহযোগিতা করা হয়। বারসিক সাতক্ষীরা অঞ্চলে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ (পরিবেশ) প্রকল্প এর মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর, গাবুর, মুন্সিগঞ্জ ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের প্রকল্পের ৮০০ অংশগ্রহণকারীদের মাঝে (লাউ, মিষ্টিকুমড়া, করলা, চালকুমড়া, ঢেড়স ও পুইশাক) মোট ৬ প্রজাতির বর্ষাকালীন এই বীজ সহযোগিতা করা হয়।

পরিবেশ প্রকল্প জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিযোজন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, কৃষি অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে টেকসই ফসলের জাত বাছাই, বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, কৃষক কৃষক বীজ ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ অভিযোজন উদ্যোগ গ্রহণ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনমান উন্নয়নসহ প্রকল্পটি পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলা করে কিভাবে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ২০০ শত অংশগ্রহণকারী নিয়ে ১০টি দল গঠন করা হয়। এভাবে ৪টি ইউনিয়নের ৪০টি দল সুন্দরী সিএসও, গোলপাতা সিএসও, গরান সিএসও, খলিশা সিএসও, কেওড়া সিএসও, বাইন সিএসও, কাঁকড়া সিএসও, গেওয়া সিএসও, হেতাল সিএসও, ধুন্দল সিএসও , মাছরাঙা সিএসও, ময়না সিএসও, টিয়া সিএসও, দোয়েল সিএসও, শালিক সিএসও, কোয়েল সিএসও, পায়রা সিএসও, কাকাতুয়া সিএসও, গাংচিল সিএসও, ময়ুর সিএসও, জবা সিএসও, গোলাপ সিএসও, কদম সিএসও, বকুল সিএসও, শাপলা সিএসও, কৃষ্ণচুড়া সিএসও, পদ্মফুল সিএসও, সূর্যমুখী সিএসও, চামেলী সিএসও, নয়নতারা সিএসও, কলাগাছিয়া সিএসও, নীলকমল সিএসও, দোবেকী সিএসও, পুষ্পকাঠি সিএসও, কাঠেস্বর সিএসও, রায়মঙ্গল সিএসও, খোলপেটুয়া সিএসও, মালঞ্চ সিএসও, মান্দারবাড়িয়া সিএসও, কপোতাক্ষ সিএসও গঠন করা হয়। এই ৪০টি দলের ৮০০ জন নারী সদস্যের মাঝে উক্ত বীজ তুলে দেওয়া হয়। এসকল বীজগুলো স্থায়ীয় কৃষক-কৃষাণী ও আংশিক বীজ স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়।
উপকূলীয় উক্ত নারীরা বীজ সহযোগিতা পেয়ে খুশিতে জানান, ‘আমরা বারসিক থেকে যে বীজ গলো সহযোগিতা পেয়েছি সেগুলো আমাদের নিজেদের যার যেটুকু জায়গা আাছে আমরা যতœ সহকারে লাগাব।” বীজ থেকে ফষল উৎপাদনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তাদের পারিবারিক চাহিদা পূরণ হবে অপরদিকে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা পাবে।

happy wheels 2

Comments