সাম্প্রতিক পোস্ট

একটি ঘর এবং প্রান্তজনের স্বপ্ন পূরণ

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাধাইর ইউনিয়নের তেলোপাড়া গ্রামের সুরুজ মনি (৬৫) বলছিলেন, ‘একটি ঘরের স্বপ্ন সবাই দেখে। আমার সামর্থ্য নেই। সে স্বপ্ন পূরণ করেছে সরকার। এ স্বপ্নের রাস্তায় বারসিক ছিল বলে সহজ হয়েছে অনেক কিছু।’ তিনি স্বামী বিপীন মুন্ডা (৭৫) কে নিয়ে থাকেন তেলোপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের একটি ঘরে। আগে থাকতেন পাশের জুমার পাড়া গ্রামে একটি খাস জমিতে ঝুপড়ি ঘরে। সারাজীবনের স্বপ্ন দিয়েও একটি ঘর তৈরি করতে পারেননি বলে তিনি জানান।


একই জায়গায় থাকেন রুমালী কর্মকার (২৮)। নতুন বিয়ে হয়েছে কিন্তু শ্বশুর,শ্বাশুরী ননদ মিলিয়ে একটি মাত্র ঘরে বসবাস করা খুবই কষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো। তাই চিন্তায় ছিলেন এই কষ্ট থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যাবে। লোকমুখে শুনেছেন ভূমিহীনদের সরকার থেকে একটি করে ঘর দেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় গেলে কিভাবে ঘর পাওয়া যাবে তা বুঝতে পারছিলেন না। অনেকের কাছে এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলেও আশানুরূপ তেমন কোন ফল পাননি।
২০২০ সালের জুন মাস। সে সময় তানোরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন সুশান্ত কুমার মাহাতো। উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘বারসিক তো প্রান্তিক পর্যায়ে কাজ করে। সরকার ভূমিহীন প্রান্তিক মানুষকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি করে ঘর দিবে। বারসিক তালিকা দিয়ে সহযোগিতা করতে পারে। তালিকা পাওয়ার পর আমরা যাচাই বাছাই করে নির্বাচন করব।’ সে সময় বারসিক থেকে এমন ২২টি প্রান্তিক মানুষের তালিকা দেওয়া হয়। বাধাইর ইউনিয়নের ঝিনাপাড়া গ্রাম থেকে ৫টি, জুমার পাড়া থেকে ৫টি পরিবারের তালিকা দেওয়া হয়েছিলো। এরপর সেখান থেকে যাচাই বাছাই করে ৫টি পরিবার একটি করে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। এর মধ্যে জুমার পাড়া গ্রামের সুরুজ মনি, রুমালী কর্মকার, সুবেল মুন্ডা, ঝিনাপাড়া গ্রামের মুলচান মুন্ডা ও বিশ্বনাথ হেম্ব্রম।

এ বিষয়ে সুবেল মুন্ডা বলেন, ‘বারসিক থেকে আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে যায়। এরপর ইউএনও এসে আমাদের সাথে আলোচনা করেন আমাদের ভরসা দিয়ে যান। তার কিছুদিন পর আমাদের সে সময়ের বাধাইর ইউনিয়নের ৮নং তেলোপড়া ইউনিয়নের মেম্বার ভঞ্জন মাহাতো এসে জানান যে আমরা কয়েকজন একটি করে ঘর পাব।’
প্রবীণ নারী সুরুজ মনি আরও বলেন, ‘এ বয়সে এসে আমাদের একটি ঘরের স্বপ্ন পূরণ হবে তা কোন দিন চিন্তা করিনি। আমি শেষ বয়সে একটু ভালো থাকতে পারব।’


সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় ভালো হলে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন বেশি ও স্থায়িত্বশীল হয়। একজন আদিবাসী প্রবীণ নারী সুরুজ মনির একটি ঘর পাওয়া তার অন্যতম উদাহরণ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: