Posted in

বীজ পেয়ে আমাদের বড় উপকার হলো

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ^জিৎ মন্ডল

‘করোনার সময়ে আমাদের এলাকা দিয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা বড় সমস্যার মধ্যে আছি। করোনার প্রভাব যদিও আমাদের গ্রামের দিকে খুব একটা অনুভব করতে পারিনি। তারপরও আমরা সবাই আতঙ্কে ছিলাম। আমাদের বড় ছোট সবার মুখে মুখে করোনার নাম। এর ভয়ে আমাদের কাজ কর্ম বন্ধ ছিলো অনেক দিন। সেখান থেকে আমরা বের হয়ে এখন স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছি। আমাদের কৃষি কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করছি। বারবার আমাদের এলাকা দিয়ে নানান ধরনের দুর্যোগ হওয়াতে আমাদের নানান ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যার মধ্যে আমাদের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ রাখাও একটা বড় সমস্যা। নিজেরা বীজ রাখতে না পেরে বাজারের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শীত মৌসুমে সকলে কম বেশি বীজ কিনে লাগিয়েছিলাম কিন্তু তার মধ্যে বৃষ্টি হওয়াতে অনেকের পুনরায় আবার বীজ কিনতে হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমারা বারসিক’র নিকট শীতকালীন সবজি বীজের চাহিদা দিয়েছিলাম সে অনুযায়ী আমারা বীজ পেয়েছি, যা পেয়ে আমাদের বড় উপকার হলো।’

উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন শ্যামনগর উপজলোর চিংড়াখালী ও কালমেঘা গ্রামের বীজ গ্রহণকারী কৃষক-কৃষাণীরা। গত নভেম্বর মাসে বারসিক’র সহায়তায় এবং কালমঘো কৃষি নারী সংগঠনের উদ্যোগে বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে বীজ গ্রহণের পর তারা এ কথাগুলো বলেন।
বারসিক’র সহায়তায় মহামারী করোনা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পান পরবর্তী সময়ে পুষ্টিভিত্তিক কৃষির মাধ্যমে তৈরিকৃত ‘পুষ্টি ব্যাংক’ বা শত বাড়ির তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সে অনুযায়ী আগ্রহী ও উদ্যোগী এবং পেশাভিত্তিক বিভিন্ন বাড়ি নির্বাচন করা হয়। যে সমস্ত বাড়িগুলো এক একটি সংগঠন হিসাবে ভূমিকা রাখবে। তাদের পরামর্শে ও চাহিদার উপরে বিভিন্ন সহায়তা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী গত নভেম্বর মাসে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতবাড়ি বা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে শীতকালীন সবজি বীজের চাহিদা আসে।


সে লক্ষ্যে এলাকার কৃষি বাড়ি ও স্থানীয় বাজার থেকে ৮ প্রকার সবজি (লাউ, মিষ্টিকুমড়া, লালশাক, পালং শাক, মূলা, গাজর, কলমি শাক, টক পালন), ৩ প্রকার মসলা (পেঁয়াজ, রসুন ও ধনিয়া) ও সরিষা বীজ ক্রয় করা হয়, যা শ্যামনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের (পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া, কাশিমাড়ি, ভুরুলিয়া, রমজাননগর, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জ, ইশ^রীপুর ও শ্যামনগর) ২৫টি গ্রামের (বিড়ালক্ষèী,হাওলভাঙ্গী, পাখিমারা, গড়কুমারপুর, কামালকাটি, গুমানতলী, কাঠালবাড়ি, কাচড়াহাটি, জাওয়াখালী, কালমেঘা, ভেটখালী, রমজাননগর, চাঁদখালী, গুচ্ছগ্রাম, মথুরাপুর, কেওড়াতলী, হরিনগর, ধল, সিংহরতলী, জয়নগর, শংকরকাটি, দাদপুর, পানখালী, বেতাঙ্গী, ভুরুলিয়া) ৪১৯ টি পরিবারের মাঝে শীত কালীন সবজী বীজ সহায়তা করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.