সাম্প্রতিক পোস্ট

গাছের মত শক্তি কোন কিছুতেই নেই

সাতক্ষীরা থেকে চম্পা মল্লিক

প্রকৃতির এখনো কতো না কিছু রয়েছে অজানা। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই মানুষের ও অন্যান্য প্রাণের কাজে লাগে। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানই রয়েছে নানান অজানা বিষয়। কোনটা ওষুধ, কোনটা খাবার, কোনটা বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়াদিতে কাজে লাগে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির কাছে শিখতে পারি। প্রকৃতিতে রয়েছে অগাধ জ্ঞানের ভান্ডার, রয়েছে নানান অজানা তথ্য।


রফিকুন্নেছা খাতুন প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, বিশেষ করে প্রকৃতির গাছ ও বিভিন্ন অচাষকৃত উদ্ভিদের প্রতি রয়েছে তাঁর অগাধ ভালোবাসা। এখন বয়স তাঁর ৬৫ বছর প্রায়। অল্প বয়সে সংসার করার কারণে তিনি সংসারের অনেককিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। তাই অধিকাংশ সময়টা তিনি কখনো মায়ের কাছে আবার কখনো শাশুরির কাছে কাটাতেন। এভাবে চলতে চলতে নির্দিষ্ট একটি সময়ে এসে তিনি দুটি ছেলে সন্তান ও দুটি মেয়ে সন্তানের মা হন। বিয়ের আগে যেমন তিনি মায়ের সাথেই চলতেন, শিখতেন তেমনিভাবে তিনি প্রতিটি সন্তান হওয়ার পর আরো বেশি মায়ের সঙ্গ চাইতেন। কারণ সন্তান লালন পালন সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতেন না। সন্তানদের একটু সর্দি, কাশি হলেই তিনি চলে যেতেন মায়ের কাছে। তবে সেই সমস্যায় মা কি করছেন তা তিনি শিখে নিতেন।


তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানদের বড় করতে ‘ঔষধ’ কি জিনিস তা আমি কখনো ব্যবহার করেছি বলে আমার মনে পড়েনা। সর্দি /কাশি হলেই আমার মা তুলসি পাতা, লাল চটি (যেটা এখনো মুদি দোকান বা ছরমার দোকানে পাওয়া যায়) এর সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ালেই ভালো হয়ে যেতো। আর জ্বর হলে সাদা চটি, তুলসিপাতা ও মধু একসাথে মিশিয়ে খেতে দিতো। অমনি জ্বর ভালো হয়ে যেতো। সে সময় এত ডাক্তার ছিলোনা, আমার মা, নানীরা অনেক শাক, লতা পাতার ব্যবহার জানতেন।’ তিনি আরও বলেন, যদি কারো আমাশায়, রক্ত আমাশায় হতো তখনিই ‘গলগুটে শাক’ (যা এখনো অনেকেই চেনেনা) তুলে এনে পর পর তিন দিন রান্ন্া করে খাওয়াতো, ভালো হয়ে যেতো আমাশায় ও রক্ত আমাশায়। তখনকার সময়ে কারো কোন সমস্যা হলে আগে চলে যেতো কোথায় কোন শাক পাওয়া যাবে তা খোঁজ খবর নিতে। আর এখন কিছু হলেই আগে যায় ডাক্তারের কাছে। তবে আমার মা, নানীর কাছ থেকেই শেখা জিনিস আমি আজও ধরে রেখেছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমি গাছকে বিশ্বাস করি, ভালোবাসি। আমি সব গাছের উপকারিতা বলতে না পারলেও যেগুলো চিনেছি, যেগুলো খেয়েছি জানি এগুলোর সব কিছুই উপকারী। ছেলে, বৌমা সবাই সবটা না মানলেও কিছুটা মানে। আমি ওদেরকে অনেক শাক চিনিয়েছি, খাওয়ায়েছি। আমি ছোট থেকেই শাকের ভক্ত, প্রায় প্রতিদিনই আমি একটা করে শাকের তরকারি রান্না করি। এমনকি কোন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানেও শাক খুঁজি। কারণ মাছ বা মাংস আমি বড় করে দেখিনা। গাছকে সবাই জানি না কিভাবে দেখে! আমি কোন গাছকে ছোট করে দেখি না। আসলে গাছের মত শক্তি কোন কিছুতেই নেই।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: