Posted in

বেঁচে থাকার জন্য প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণ করতে হবে

মানিকগঞ্জ হরিরামপুর থেকে মুকতার হোসেন

মানিকগঞ্জ হরিররামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে হরিহরদিয়া গ্রামে বাবলু মেম্বারের বাড়িতে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ বাবলু। মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃষক, যুবক, ব্যবসায়ী, বারসিক হরিরামপুর অফিসের প্রোগ্রাম অফিসার মুকতার হোসেন ও সত্যরঞ্জন সাহাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ।

হরিরামপুর চরাঞ্চল প্রাণ-প্রকৃতি নির্ভরশীল কৃষিভিত্তিক এলাকা। কৃষির উপর এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত। কিন্তু দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এলাকা থেকে অনেক প্রাণের দেখা মিলছে না। বিশেষ করে হরিরামপুর চরাঞ্চল নিম্ন হওয়ার কারণে প্রতিবছর বন্যা ও নদী ভাঙন হয়। ফলে রাস্তাঘাটসহ গাছপালা, কৃষি আবাদি জমি নষ্ট হয়। ফলে এলাকার মানুষ প্রতিনিয়তই সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্যসহ অনেক গুল্ম উদ্ভিদ। নদী নালা, খাল বিল, ডোবা নদীর কোল প্রাকৃতিক জলাশয়, কৃষি জমি, মাইটাল ভরাট করে অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি নির্মাণ করার ফলে প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে, যা জনজীবনে মানুষ টিকে থাকার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় মানুষ জানান, চরাঞ্চলে অনেক কাশবন ছিল সেগুলো কেটে ফেলার ফলে শিয়াল, বেজি, খাটাস, পাতি শিয়ালসহ অনেক বন্য প্রাণী কমে যাচ্ছে। জমিতে রাসায়নিক সার, বিষ ব্যবহার করার ফলে কেঁচো, বাঙ, উরচুঙ্গা মরে যাচ্ছে। খাল বিল থেকে কমে যাচ্ছে গেছে স্থানীয় জাতের মাছ ও জলজ উদ্ভিদ। এ সকল উদ্ভিদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

ইউপি সদস্য বাবলু বলেন, ‘আমরা চরের মানুষ, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই এলাকার নদী খাল বিল, গাছ পালা, মাছসহ সকল ধরনের উদ্ভিদ আমাদের রক্ষার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করতে না পারলে আমাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’ তিনি হরিহরদিয়া নতুন হাট সংলগ্ন আশ্রয়ন প্রকল্প থেকে সাহেব আলীর বাড়ি পর্যন্ত একটি খাল খননের আহবান জানান।

মতবিনিময় সভায় বারসিক কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য বসতবাড়িতে ফলজ গাছ রোপণের জন্য কৃষকদের মধ্যে পেয়ারা, কাগজি লেবু, কাঠাল ও পেপে চারাসহ ৫০টি ফলজ গাছের চারা দিয়ে সহযোগিতা করে।

বারসিক চরাঞ্চলে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় তাল ফলজ, বনজ,তাল খেজুর, বট পাকর গাছের চারা রোপণে সহযোগিতা করে। এছাড়াও বারসিক প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় বিল বোর্ড, লিফলেট, আলোচনা, মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.