Posted in

সীমিত জমিকে কাজে লাগিয়ে টিকে থাকতে হবে

নেত্রকোনা থেকে খাদিজা আক্তার লিটা
নেত্রকোনা জেলা আমতলা ইউনিয়নে বিশ্বনাথপুর গ্রামে গাছগড়িয়া যুব ও কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে সম্প্রতি কৃষক নেতৃত্বে স্থানীয় জাতের ধান জাত গবেষণা কার্যক্রমের মাঠ দিবস পালিত হয়েছে। মাঠ দিবসে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বনাথপুর, গাছগড়িয়া ও পাঁচকাহনীয়া গ্রামের কৃষক –কৃষাণী, আমতলা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসিত কুমার ও বারসিক কর্মকর্তাগণ।


মাঠ দিবসে শুরুতে কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় ধান জাত গবেষণার গুরুত্ব বিষয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনার শুরুতে জাত গবেষণার উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন জাত গবেষণা কার্যকর কমিটির সভা প্রধান মো: আব্দুল কাদের। তিনি তার আলোচনায় বলেন, “আমাদের প্রয়োজনেই আমরা জাত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছি যাতে করে আমাদের এলাকার মাটির উপযোগি, ফলন ভালো, পোকা আক্রমন করবে না, সেই সাাথে খেতে ভালো হয় এমন ধরনে ধানের জাত পেতে পারি, যার মাধ্যমে আমরা বীজ সংগ্রহ করতে পারব।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তার বক্তবে বলেন, “আমাদের জমির পরিমাণ সীমিত মানুষের চাহিদা বাড়ছে কিন্তু জমির পরিমাণ বাড়ছেনা, আমাদের সীমিত জমিকে কাজে লাগিয়ে টিকে থাকতে হবে, নিজের সম্পদ চার পাশের জমির সঠিক ব্যবহার ও বাজার নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘জাতগবেষণা থেকে বাচাইকৃত প্রতিটি জাতের বীজ সংগ্রহ করতে হবে।” । তিনি এলাকার কৃষি বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সকল ধরনে সহায়তা করা ও সব সময় সাথে থাকার আশ্বাস দেন।
বারসিক কর্মকর্তা শংকর ¤্রং জাতগবেষণা জমি রোপণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, “জমির ভালো রাখতে সার প্রয়োগ যেমন প্রয়োজন সেই সাথে ধানের জমিতে যাতে সঠিক ভাবে সূর্যের আলো ও পানি চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। কারণ সূর্য থেকে গাছ খাদ্য সংগ্রহ করে থাকে।” তিনি জাতগবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির যুব ও কৃষক সংগঠনের সদস্যদের বারসিক’র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।
আলোচনা শেষে গবেষণা প্লটের ধান কাটা শুরু হয়। অংশগ্রহণ কারী যুব, প্রবীণ কৃষক ,কৃষাণী সকলে বয়সের ব্যবধান ভুলে সকলে মেতে উঠে নবান্নের ধান কাটার উৎসবে। চলতি বছর চাষকৃত দশটি ধানের জাত হলো-গুটি স্বর্ণা, রমহান ইরি, রহমত, স্বর্ণা, খেকশিয়াল, সুবাশ, লালবিরই, খাটে বারী.ডি এস- ০৬, ঋতু পাইজাম ইত্যাদি। এর মধ্য থেকে কৃষকরা ৩টি ধান (গুটি স্বর্ণা, রমহান ইরি, রহমত) বাছাই করেন এবং আগামী মৌসুমে চাষ করবে বলে জানায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.