Posted in

মৌমাছি বলছে, ‘প্রকৃতিতে ফুল ফুটতে দাও’

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
মাটি বলছে…‘আমাকে অতিরিক্ত রাসায়নিক দিয়ে মেরে ফেলো না’, পানি বলছে…..‘আমাকে অপচয় করে প্রাণবৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলো না’। মৌমাছি বলছে….‘প্রকৃতিতে ফুল ফুটতে দাও।’ খাল, খাড়ি, নদী, বিল বলছে, ‘আমাদের কষ্টের কথা শুনতে কি পাও। গতকাল ২২ মে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবসে একটি যুব সংগঠনের আয়োজনে ছাত্র-শিক্ষক ও গ্রামের মানুষেরা প্রকৃতির হয়ে প্রাণবৈচিত্র্যর কষ্টের কথাগুলো মানববন্ধনে সম্মিলিত হয়ে উপস্থাপন করেছেন।


রাজশাহীর তানোর উপজেলার মোহর গ্রামের স্বপ্ন আশার আলো যুব সংগঠন ও বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে মোহর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস উৎযাপন উপলক্ষে ব্যতিক্রমি এ মানববন্ধনের আয়োজন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ওই স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষক যুব সংগঠনের সদস্য ও মোহর গ্রামের প্রকৃতিপ্রেমি মানুষ। প্রকৃতিপ্রেমীরা বলেছেন, প্রকৃতিতে ভারসাম্য রক্ষায় সকল প্রাণের প্রয়োজন আছে। প্রকৃতি থেকে মৌমাছি হারিয়ে গেলে বা মাটিকে মেরে ফেল্লে মানুষসহ সকল প্রাণের মধ্য নেমে আসবে বিপদ। তাই এ বিষয়ে মোহর স্বপ্ন আশার আলো যুব সংগঠনের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা আজ প্রকৃতির হয়ে তাঁদের কষ্টের কথাগুলো উপস্থাপন করেছি। প্রকৃতির ভারসাম্য সুরক্ষায় আমরা সবাই মিলে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করলে সকল প্রাণের মধ্য ভারসাম্য ফিরে আসবে এটা আমাদের সবার জন্যই মঙ্গল।’


নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরির জন্য মোহর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় অবদান রাখার এ সংহতি প্রকাশে মানববন্ধনটি আয়োজিত হয়।


অংশগ্রহণকারী সকলে নিজের হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রকৃতির প্রকৃতির উপাদানগুলোর পক্ষে তাদের কষ্টের কথাগুলো উপস্থাপন করেন। এ আয়োজন বিষয়ে বারসিকের কর্মকর্তা অমৃত সরকার বলেন, “প্রকৃতি থেকে আমরা সকল কিছু পেয়ে থাকি, প্রকৃতির সকল উপাদানের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আমরা নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা ও প্রাণবৈচিত্র্যর প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমি এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছি।’
বরেন্দ্র এলাকার জন্য পানি সমস্য প্রকট আকার ধারণ করেছে। এতে করে মানুষসহ সকল প্রাণই সহ্য করছে নিদারুণ কষ্ট। তাই প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় পানির অপচয় রোধ করা এখনই জরুরি। মোহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রমজান আলী মোলা বলেন, ‘প্রকৃতির কোন কিছু বাদ দিলে মানুষ হিসেবে আমরা আমাদের অস্তিত্ব হারাবো। তাই সকল প্রাণের সুরক্ষায় আর কোন অঙ্গীকার না দিয়ে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে।’


উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বারসিক’র কর্মসূচি কর্মকতা অমৃত সরকার, মোহর স্বপ্ন আশার আলো যুব সংগঠনের সদস্যসহ গ্রামের প্রায় ২৫০ জন মানুষ, যারা প্রত্যকেই প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে সকল প্রাণের পক্ষে তাদের কষ্টের কথা উপস্থাপন করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.