সাম্প্রতিক পোস্ট

ঐতিহ্য ও পরিবেশ রক্ষার সাক্ষী জমিদার তারান বাবুর পুকুর

রাজশাহী থেকে জিনাত-উন-নেছা

রাজশাহী নগরীকে পুকুরের শহর বলা হয়ে থাকে। শুকনো ও খরা প্রবলতার কারণে এখানে পানির সমস্যা লেগেই থাকতো। পানির সমস্যা সমাধানে একসময় রাজা বাদশারা এই অঞ্চলে পুকুর খনন করে প্রজাদের মন জয় করতেন। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্যমতে, কিছু পুকুর, পুষ্করনী ও খাল প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠে। কালের বিবর্তনে এবং মানুষের নানামূখী কার্যক্রমের কারণে রাজশাহীতে এখন আগের তুলনায় পুকুরের পরিমাণ কমে গেছে। কিন্তু এখনো কিছু পুকুর থেকে সাধারণ মানুষসহ সর্ব শ্রেণীর মানুষ পুকুরের পানি দিয়ে নানা কাজ করে থাকেন। তেমনি একটি পুকুর তারান বাবুর পুকুর।

BARCIK Rajshahi .
তারানবাবুর পুকুরটি রাজশাহীর ২৪নং ওয়ার্ডের রামচন্দ্রপুর বাসার রোডে অবস্থিত। তারান বাবুর পুকুরটি আজ থেকে প্রায় ৪০০-৫০০ বছর আগের পুকুর। পুকুরটি প্রায় ৭ বিঘা জমির উপর অবস্থিত। পুকুরটি অনেক প্রাচীন। সিটি কর্পোরেশন দ্বারা পুকুরের চারিদিকে পাকা করে ওয়াল দেওয়া আছে। সেখানে চারি পাড়ে চারটি পাকা করে ঘাট আছে। প্রতিদিন মানুষ তাদের দৈনিন্দন কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার করে থাকে। পুকুরটির পার্শে একটি শিব মন্দির এবং একটি মসজিদ রয়েছে। মসজিদ এবং মন্দিরের বিভিন্ন ধরনের কাজে এই পুকুরের পানি ব্যবহার হয়ে থাকে। বর্তমানে এই পুকুরটিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই পুকুরের পানি প্রায় ১০০টি পরিবার ব্যবহার করে। পুকুর পাড়ের বাসিন্দা সাজ্জাদ মিয়া বলেন, “এই পুকুরে পানি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০০ শত মানুষ ব্যবহার করে।” তিনি আরো বলেন, “গোসল করা, ওজু করা, কাপড় ধোয়া, থালাবাসন মাজন, অনেকে আবার পানি নিয়ে গিয়ে টয়লেটে ব্যবহারসহ নানা কাজে ব্যবহার করেন।”

BARCIK Rajshahi
বর্তমানে সেই পুকুরটির মালিক তাহা মিঞা। জানা যায়, অনেক আগে সেখানকার লোকজন বিবাহ অনুষ্ঠানে রান্নার কাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্রের প্রয়োজন হলে সেই পুকুরের কাছে গিয়ে মানত করলে শেষ রাত্রে সেই পুকুর পাড়ে গিয়ে হাড়ি, পাতিল, থালা বাসন পাওয়া যেতো। আবার আরো জানতে পারা জায় যে, সেই পুকুরে এক সময় রথযাত্রা মেলার সময় সেই পুকুরে রথ ডুবে গিয়েছিল। একসময় সেই পুকুরটি ভরাট করার জন্য একাধিকবার এর পানি সেচ দিয়ে শুকানো হয়েছিল কিন্তু পানি কখনো শুকায়নি বিধায় পুকুরটি ভরাট হয়নি। তবে আরো জানা জায় যে, সেই পুকুরটি খনন ছাড়াই উৎপত্তি হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে জানা গেছে যে, তারানবাবুর এই পুকুরটি আর কখনো ভরাট করা হবে না। তারান বাবুর এই পুকুরটি রাজশাহী শহরের একটি ঐতিহ্য বহন করে।

BARCIK-Rajshahi
তারান বাবুর পুকুরটি যেমন এলাকার মানুষের পানির চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি এলাকার পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখছে। এখানে শুধু মানুষ নয় শহরের অন্যান্য প্রাণী যেমন পাখিরা এসেও পানি পান করে থাকে। পুকুরটি একই সাথে সকল ধর্মের ঐতিহ্য বহন করছে। রাজশাহী শহরের সকল পুকুর এভাবে সুরক্ষিত হোক সেই প্রত্যাশা নগরীর সচেতন মানুষের।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: