সাম্প্রতিক পোস্ট

হাতে মাছ মুখে হাসি
Exif_JPEG_420

হাতে মাছ মুখে হাসি

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন

ইচ্ছাশক্তি, মনোবল এবং একতা থাকলে সাফল্য নিশ্চিত। এ কথা প্রমাণ করে দিল মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের লেছড়াগঞ্জ চর উন্নয়ন কৃষক সংগঠনের সদস্যরা। লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের পাটগ্রামচর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ আওতায় ২ একর জায়গায় একটি পুকুর রয়েছে। দিন দিন বালি পড়ে পাড় ভেঙ্গে গিয়ে মাটি ভরাট হয়ে পুকুরটি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। যেখানে সারাবছর পানি থাকবে, মানুষ গোসল করবে, গরু, ছাগল সাতরাবে, পশুপাখি পানি পান করবে। পাশাপাশি মাছ চাষ করে নিজেদের পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। কিন্তু সেখানে চৈত্র-বৈশাখ মাসে শুকনা জায়গায় গরু ছাগল ঘাস খেতো। বর্ষা মৌসুমে ৪ মাস পানি থাকলেও বাকী ৮ মাস পানি থাকতো না।

DSC04379

পাটগ্রামচর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এ বসবাসরত ১০০ পরিবার এবং আশেপাশের আরও ১০০ পরিবারের মানুষ পুকুরটি সারাবছর পানি না থাকার কারণে তাদের পারিবারিক নানা কাজ, যেমন গোসল করা, গরু-বাছুরকে সাতরানো, কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন কাজে টিউবওয়েল পানি এবং আধা কিলোমিটার দূরের পদ্মা নদীতে গিয়ে করতে হতো। তাদের দৈনন্দিন কাজে কষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। এই সমস্যাকে দূর করার জন্য গ্রামের মানুষের মধ্যে আলাপ আলোচনা শুরু কিভাবে পুকুরটি খনন করে মানুষের ব্যবহার উপযোগি করে তোলা যায়। সে সময় লেছড়াগঞ্জ চর উন্নয়ন কৃষক সংগঠন ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত সকলে মিলে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পুকুরটি খনন করার পদক্ষেপ নেয়। ৩০ সদস্য একটি কমিটি গঠন করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে জুন/২০১৫ সালে পুকুরটি খনন করা হয়। ২০১৫ সালে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পুকুরটি পুনঃখনন করার পর ২০১৬ সালে কৃষক সংগঠনের সদস্যরা উপজেলা মৎস্য অফিসে যোগাযোগের মাধ্যমে ৪০ কেজি মাছের পোনা চাষ করার জন্য পায়। সংগঠনের সকলের সম্বনিত প্রচেষ্টায় উক্ত পুকুর থেকে ২০১৭ সালে ৩০০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকা আয় করেন। এ বছর পুকুরটিতে স্থানীয় জাতের শোল মাছ, টেংরা, শিং মাগুর, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন জাতের মাছ চাষ করা হয়। পাশাপাশি উপকারভোগীদের খাবারের মাছ রেখে ২০০০০ হাজার টাকা আয় হয়।

Exif_JPEG_420

এখন লেছড়াগঞ্জ চর উন্নয়ন কৃষক সংগঠনের সদস্যদের হাতে মাছ মুখে হাসি ফুটেছে। এ ছাড়া পুকুরটিতে এখন সারাবছর পানি থাকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসবাসরত ১০০ পরিবার ও আশে পাশের আরও ৫০টি পরিবারের মানুষ গোসল করে। কাপড় ধোয়াসহ বিভিন্ন ধরনের দৈনন্দিন কাজ করতে পারছে। আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ পুকুরটি পুনঃখননের উদ্যোগ দেখে পাটগ্রামচর আশ্রয়ণ প্রকল্প-১ এর আরও পরিত্যক্ত পুকুর খননের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগি করে তুলেছে। চরাঞ্চলের কৃষক সংগঠনের সাথে হরিরামপুর উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে একটি যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবছর সরকারিভাবে মাছের পোনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাচ্ছেন। হরিরামপুর উপজেলার সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মজিব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “চরাঞ্চলে বিশেষ করে আশ্রয়ণ প্রকল্পে আওতায় যে সকল পুকুরগুলো রয়েছে। সেই পুকুরগুলো পুনঃখনন, প্রতিবছর মাছের পোনা, কারিগরি পরামর্শসহ বিভিন্ন সরকারি সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।”

এ প্রসঙ্গে লেছড়াগঞ্জ চর উন্নয়নের কৃষক সংগঠনের সদস্য সেলিম উদ্দিন বলেন, “সকলে মিলে কোন সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিলে মোকাবেলা সম্ভব। তার উজ্জল প্রমাণ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পুকুর খনন করে আমরা এখন লাভবান হতে পারছি ।” একটি ভালো উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে যদি সফল হওয়া যায় তাহলে উদ্যোগটি দেখে এলাকার আরও অনেক মানুষ উপকৃত হতে পারে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসরত ১০০ পরিবারের মানুষ এবং কৃষক সংগঠনের সদস্যদের একটি আন্তরিক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করা ব্যাপারে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে।”

পুকুর খননের উদ্যোগ বাস্তবায়নে বারসিক সহায়তা করায় এলাকার মানুষ বারসিক কে ধন্যবাদ জানান।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: