সাম্প্রতিক পোস্ট

কদর বেশি যখন বরই জাতে দেশি

কদর বেশি যখন বরই জাতে দেশি

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন

দেশী ফলের মধ্যে বড়ই বেশ জনপ্রিয়। রাস্তাঘাট, নদীরপাড়, পুকুরপাড়, বাড়ীর আশে পাশে বসতভিটায় জন্ম নেয় এ সব দেশী জাতের টক মিষ্টি বড়ই গাছ। পরিচর্যা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই বড়ই গাছ গুলো বড় হয়ে উঠে। গায়ে কাঁটা থাকায় ছাগল গরু থেকে সহজে রক্ষায় পায়। হরিরামপুর চরাঞ্চলে পাটগ্রামচর, হালুয়াঘাটা, খড়িয়াচর, নটাখোলা, বালিয়াচকসহ বিভিন্ন গ্রামে রাস্তা ঘাটে, পুকুরে, চালায়, বসতবাড়ির আশেপাশে বড়ই গাছগুলো জন্মায়।

কাঁচা, পাকা, আধাপাকা বয়স অনুযায়ী ভিন্ন স্বাদ খেতে এই টকমিষ্টি বরই। শিশু-কিশোর ছোট বড় সবার নিকট প্রিয়; বিশেষ করে নারীদের নিকট অধিক প্রিয় বরই। স্বাদ ও পুষ্টিগুনে বরই এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। বরই ফলটি পুষ্টিকর- রযেছে ভিটামিন সি। মানব দেহের রোগ প্রতিরোধে অনেক ভুমিকা রাখে। টক বরই গাছের অনেক ঔষুধি গুনাগুন রয়েছে। শরীরে ফোড়া হলে তা পেকে গেলেও ফাঁটতে চায়না অনেক যন্ত্রণা করে। বরই পাতা বেটে ফোড়ায় লাগালে তা তাড়াতাড়ি ফেঁটে যায়। বোলতা, ভিমরুল, মৌমাছি কামড়ালে ডুমুর ও বরই পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ব্যাথা উপশম হয়।

হরিরামপুর চরাঞ্চলের হালুয়াঘাটা গ্রামের আন্না বেগম (৩৫) বলেন, “আমরা এই বরই দিয়ে আচার বানাই, কাচা খাই, ছোট ছেলে মেয়েরা বেশি খেতে পছন্দ করে। বরই শুকনা করে হাট বাজারে বিক্রি করা যায়। মানুষের কাছে দেশী জাতের বরই এর কদর বেশি।” দেশী ফল তাই কোন ধরনের সার বা বিষ ব্যবহার করা হয় না। নিরাপদ খাদ্য একটি অন্যতম দেশি বরই। খরিয়াচর গ্রামের কৃষানী (৬০) তিনি বলেন, “আচার তৈরিতে টক বরই প্রয়োজন। এ বরই দিয়ে আচার তৈরি করে আমরা ভাতের সাথে এবং খিচুরীর সাথে খেয়ে থাকি।” বরই পাকলে শুকিয়ে অনেকদিন সংরক্ষন করা যায়। মৌসুম শেষে টক ডাল, ঢোকলা খিচুরী, সাধারণ খিচুরীতে বরই ব্যবহার করা যায়। সবচেয়ে বড় কথা হলো চরাঞ্চলে টকমিষ্টি বরই গাছ এমনি এমনি অযত্ন আর অবহেলায় বড় হয়। কোন প্রকার রোগ বালাই না থাকায় এই বরই গাছে কোন প্রকার কীটনাশক দিতে হয় না। কোন ধরনের খরচ করতে হয় না এই বরই চাষে। চরের অনেক কৃষাণী এই টক বরই শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করে আয় করে থাকে। বাজারে ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়।

পাটগ্রাম চরের কৃষক সোনামুদ্দিন বলেন, “এসব বরই গাছ চরাঞ্চলে অনেক। আমরা আগাছা মনে কেটে ফেলতাম। আগে এ সব টক বরই কেউই খেত না। তাই আমরা এসকল বরই গাছকে আমরা গুরুত্ব না দিয়ে কেটে ফেলতাম। ফলে দিন দিন এ সকল বরই গাছের সংখ্যা কমতে শুরু করে। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ফলে অনেক বরই গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর আমরা এসকল বরই গাছ নষ্ট করি না।” সাধারণত একটি বরই গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে ৩- ৫ হাজার টাকার বরই বিক্রি করা সম্ভক। এবং এই গাছে একটা টাকাও খরচ করতে হয় নাই পরিচর্যা বাবদ।

বারসিক মানিকগঞ্জ জেলায় স্থানীয় জাতের ফলমুল ঔষুধি বৃক্ষ রোপনে কৃষক পর্যায়ে উবুদ্ধ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জাতের ফলমুল সংরক্ষণ ও ব্যবহার বিষয়ক মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে। স্থানীয় জাতের টক মিষ্টি বরই সব জায়গা জন্ম নেয়। চরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। বছরের অক্টোবর মাসে সাদা সাদা ফুল আসে, নভেম্বর মাসে ধরতে শুরু করে এবং জানুয়ারী মাস থেকে পাকা শুরু করে। মার্চ মাস পর্যন্ত ফলটি পাওয়া যায়। ফলটি পাকলে হলুদ ও লালচে বর্ণের হয়। পাখিদের খাবার হিসেবে টক বরই খুবই পছন্দের।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: