Posted in

দূর্যোগ মোকাবেলায় তাল বীজ বপন

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা ও মুকতার হোসেন:
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলা ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে চর এলাকার অর্ন্তভুক্ত ৪টি ইউনিয়ন, নদী গর্ভে (ইউনিয়নগুলোর কিছু অংশ নদীর মধ্যে রয়েছে) ৬টি এবং ৩টি ইউনিয়ন মূল ভূখন্ডের সাথে সম্পৃক্ত। হরিরামপুর পদ্মা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা, নদী ভাঙন, বন্যায় রাস্তা ঘাট ভাঙ্গন এবং সাম্প্রতিক বজ্রপাত প্রতি বছর হয়ে থাকে। চর এলাকায় বজ্রপাতে প্রতি বছর ২-৩ জন মানুষ মারা যায়। বিগত দুই বছরগুলোর বজ্রপাতের তথ্য তেমনটাই প্রমাণ দেয়। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জনগনের জানমাল রক্ষাায় খেঁজুর ও তালবীজ রোপণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

22237206_495068490872314_936282575_n[1]দূর্যোগ মোকাবেলায় হরিরামপুর এলাকার শিক্ষার্থী, তরুণ, কৃষক-কৃষাণী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বারসিক এর যৌথ উদ্যোগে তাল বীজ রোপণ এর জন্য ৫০০০ (পাঁচ হাজার) তাল বীজ সংগ্রহ করা হয়। হরিরামপুর উপজেলায় তাল বীজ রোপণ উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ মো. আব্দুল হান্নান, পরিচালক সরেজমিন উয়িং, কৃষিবিদ আলীমোজ্জামান মিয়া, উপপরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আরেফীন রেজওয়ান হরিরামপুর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাশার সবুজ হরিরামপুর, উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল হক হরিরামপুর এবং স্থানীয় পর্যায়ের কৃষকগণ।

অতিথিগণ তালবীজ রোপণ উদ্বোধনে বলেন, ‘প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেমন: নদী ভাঙন, রাস্তা ঘাট ভাঙন, প্রভৃতি মোকাবেলায় তালবীজ বপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরিরামপুর উপজেলায় বিভিন্ন রাস্তাঘাট এর ধারে এবং পদ্মা নদীর বাঁধে তালবীজ বপন অত্যন্ত আবশ্যক। তালগাছসহ অন্যান্য লম্বা দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ প্রাকৃতিক দূর্যোগ (বন্যা, বন্যায় রাস্তা ঘাট ভাঙন, বজ্রপাত) থেকে রক্ষার সহজ উপায়। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যৌথউদ্যোগে তালবীজ বপন খুবই ভালো উদ্যোগ।

22215355_495068394205657_884106924_n[1]তালবীজ বপন উদ্যোগ বাস্তবায়নে হরিরামপুর চর এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যগণ তালবীজ সংগ্রহ করেন। স্বেচ্ছাসেবক টিম, কৃষক সংগঠন, কৃষক-কৃষাণী ও এমএ রউফ ডিগ্রি কলেজের বিএনসিসি টিম এর যৌথ উদ্যোগে কৌড়ি থেকে সাপাইর, লাউতা থেকে হেলাচিয়া, আন্ধারমানিক নৌকা ঘাট থেকে দাসকান্দি, হরিনা ঘাট থেকে পাটগ্রামচর বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে ৬০০০ (পাঁচ হাজার) তালবীজ বপন করা হয়। তালবীজ বপনে হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে কাজী আরেফীন রেজওয়ান, কৃষি অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল হক, অধ্যাপক বিজয় কুমার রায় এ রউফ ডিগ্রি কলেজ কৌড়ি, হরিরামপুর বিশেষভাবে সহায়তা করেন।
রাস্তার দুই পাশে তালবীজ বপনের মাধ্যমে মাটির ক্ষয় রোধ এবং রাস্তাঘাট ভাঙ্গন রোধে সহায়ক হবে। হরিরামপুরে তালবীজ বপনে কৃষিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। তালগাছ বপনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা ও পাখির খাবারে সহায়ক হবে। হরিরামপুরের চর এলাকায় গাছ পালা খুবই কম, তালগাছ নেই বললেই চলে। ফলে বজ্রপাতে পাতে প্রতি বছর মানুষ সহ ও প্রাণি সম্পদের ক্ষতি হয়। এ অবস্থায় তালগাছ বপন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় সহায়ক হবে। রাস্তার দুই পাশে তাল গাছ হলে সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্য ও কৃষকগণ তালের বীজ রাস্তায় লাগানোর পাশাপাশি নিজ জমিতে, বাড়ির পাশে, রাস্তার পাশে বপনে উদ্যোগি হবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.