সাম্প্রতিক পোস্ট

অবসর জীবনে সারওয়ার আলমের সমন্বিত কৃষি খামার

দেবদাস মজুমদার.বিশেষ প্রতিনিধি,উপকূল অঞ্চল :

গাজী মো. সারওয়ার আলম(৬২) এক সময় কৃষি বিভাগে উর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা ছিলেন। চাকুির জীবন শেষে তাঁর এখন অখ- অবসর। একেবারে নিভৃত গ্রামের ভিটে মাটিতেই এখন তাঁর অন্য এক জীবনযাপন। কৃষি প্রাণ সে এক সফল জীবন। অবসর জীবনে নিজ গ্রামে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সমন্বিত কৃষি খামার। এলাকায় অনুকরণীয় এক কৃষি প্রাণ মানুষ সারওয়ার আলম।

২০১০ সালে সরকারি চাকুরি জীবন থেকে অবসরে যান। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে ঢাকার খামার বাড়ি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ফিরে আসেন গ্রামে। কৃষিতে কর্মময় জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিভৃত পল্লীতে শুরু করেন নানা জাতের আমচাষ। গাজী সরওয়ার আলমের সৃজিত আমবাগানে সাত প্রজাতির আমের ফলনে এখন সমৃদ্ধ বাগান। সেই সাথে তিনি দুই একর ৫০ শতক জমি জুড়ে গড়ে তুলেছেন সমন্বিত এক কৃষি খামার। অবসর জীবনে কৃষি কাজে কর্মমূখর বরগুনার বানা উপজেলার পশ্চিম শফিপুর গ্রামের গাজী মো. সরওয়ার আলম।
[su_slider source=”media: 126,127,128″]
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বামনা উপজেলার পশ্চিম শফিপুর গ্রামের কৃষি অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক চাকুরি জীবন থেকে অবসর নিয়ে শহরে নয় নিভৃত পল্লীতে ফিরে আসেন। এরপর তিনি নিজ মালিকানাধীন দুই একর জমির কিছু অংশে প্রথম শতাধিক সাত প্রজাতির আমের আবাদ করেন। তার আমবাগানে এখন হিমসাগর, বোম্বাই, আম্রপলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, লতা ও গুটি আমের ফলনে ভরে গেছে। শতাধিক আম গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে তিনি দেড় লক্ষাধিক টাকা আয় করেন।

শুধু আম গাছই নয় দুই একর জমিজুড়ে তিনি গড়ে তুলেছেন সমন্বিত কৃষি খামার। নাম দিয়েছেন শীতল ছাঁয়া সমন্বিত কৃষি খামার। তাঁর কৃষি খামারে রয়েছে তিনটি ছোট বড় পুকুর, আমবাগান, নানা জাতের মৌসুমি সবজি বাগান। এছাড়া গাভী, ছাগল, কবুতর ও হাস, মুরগির খামার। সারওয়ার আলম দীর্ঘ চাকুরি জীবনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন এ খামার রাজ্য। অবসর জীবনে নিভৃত পল্লীতেই এখন দিনভর সময় কাটছে কৃষি প্রাণ এ মানুষের যা অন্য সবার দৃষ্টান্ত।

তিনি জানান, খামারে গড়ে তোলা সব কিছুই একে অন্যের পরিপূরক ও সম্পূরক। তিনটি পুকুরে সাদা মাছের পোনা আবাদে এক লাখ টাকা, আমের বাগান হতে দেড় লাখ টাকা, মৌসুমি সবজি আবাদে ৫০ হাজার টাকা ও গরু, ছাগল, হাস, মুরগি ও কবুতর পালনে আর এক লাখ টাকা আয় হচ্ছে তার। বছরে এ সমন্বিত কৃষি খামার থেকে তিনি প্রায় চার লাখ টাকা আয় করে থাকেন। এ খামার নিজেই পরিচর্যার পাশাপাশি গ্রামের আরও ছয়জন কৃষি শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। ফলে তিনি শুধু একা নন দরিদ্র ছয়জন কৃষি শ্রমিকের পরিবারের ভরণপোষণও এ খামার দিয়ে চলছে।
তিনি জানান, খামারে একটি উদ্যান নার্সারি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। যেখানে উন্নত ফলনশীল জাতের গাছের চারা উৎপাদন হবে। সমন্বিত কৃষি খামারটি একটি মডেল খামার হিসেবে তিনি গড়ে তোলার নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে গাজী সারওয়ার আলম বলেন, “সমন্বিত কৃষি খামার ছাড়া কৃষিতে যথার্থ সফলতা সম্ভব নয়। কৃষিতে কেউ সফল হতে চাইলে এর বিকল্প নেই। কেননা পরিকল্পিত সমন্বিত কৃষি খামার একে অন্যের পরিপূরক ও সম্পূরক। কৃষি আসলে আমাদের অর্থনীতির মূল নিয়ামক।”

এ বিষয়ে বামনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. শফিউদ্দিন বলেন, “অবসর জীবনে এমন একটি সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলা একটি ভালো দৃষ্টান্ত। অবসর জাবনেই নয় যে কেউ পরিকল্পিতভাবে এমন খামার গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হতে পারেন। কেননা কৃষি নির্ভর আমাদের জীবন জীবিকায় সমন্বিত কৃষি খামার আসল উৎস।

এ বিষয়ে বামনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাজিউল ইসলাম বলেন, “সমন্বিত কৃষি খামারে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ একটি অন্যটির সম্পূরক ও পরিপূরক। সারওয়াল আলম একজন সফল কৃষিবিদ। তাঁর গড়ে তোলা খামার এলাকায় একটি কৃষি প্রাণ দৃষ্টান্ত।

happy wheels 2
%d bloggers like this: