Posted in

এলাকার মানুষকে সচেতন করার জন্য যুবকদের উদ্যোগ

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার:
ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের গাংডুবী, ঠাটাংগা, কেল্লাই, দিয়াইল, শোলধারাসহ কয়েকটি গ্রাম বর্ষার জলে প্লাবিত হয়েছে। মাঠঘাট এবং উঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এ অবস্থায় এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে নৌকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এছাড়াও গৃহপালিত পশুগুলো চরম কষ্টের মধ্যে আছে। কেননা চারদিকে কেবল পানি আর পানি। গরু-ছাগল চরানোর মতো কোন স্থান নেই। অন্যদিকে বন্যার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসেরও সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানির কারণে এলাকার মানুষের বেশ কষ্টে দিন অতিবাহিত করতে হয়েছে।
বর্ষার জল ও করোনার কারণে মানুষ জীবনযাপন করতে হিমসিম খাচ্ছেন। বন্যা পরিস্থিতি তৈরির কারণে গ্রামে বিষধর সাপের উপদ্রপ লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় সাপগুলো জীবন বাঁচাতে উচু ভিটায় ও মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। সাপের কামড়ে অনেকসময় মানুষের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে চারদিকে বর্ষার জলের কারণে অনেক শিশু সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে অকালে মৃত্যুবরণও করেছে-এমন সংবাদও আমরা পত্রিকায় দেখে থাকি।
একদিকে করোনা সংকট অন্যদিকে বর্ষার কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এলাকার মানুষ উভয় সঙ্কটে পড়েছেন। তবে গ্রামের মানুষের মধ্যে এখনও পরস্পরকে সহযোগিতা করার রেওয়াজ চালু রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে এমন দুঘর্টনা থেকে মানুষকে সচেতন করার জন্য এলাকার যুবকরা এগিয়ে আসছেন। বন্যায় যাতে কোন শিশু ডুবে না যায় কিংবা সাপের কামড় থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য এ যুবকরা সচেতনমূলক লিফলেট ও বিলবোর্ড স্থাপন করছেন। তারা রাস্তার মোড়ে, বাজারে ও বাসস্ট্যান্ডে এ বিলবোর্ড স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেছে। বারসিক’র সহযোগিতা নিয়ে তারা এ সচেতনমূলক কাজ করে যাচ্ছেন বলে তারা জানান।
বারসিক’র সহযোগিতায় যুবকদের এ কাজকে আরও গতিশীল করার জন্য এগিয়ে আসছেন এলাকার উদ্যোগী মানুষও। গাংডুবী কৃষক সংগঠন সদস্য এবং কেল্লাই বাজার কমিটি যুবকদের এ কাজকে প্রশংসা করেছে। তাই তো দেখা গেছে, বাজার কমিটির সদস্য মিল্টন মিয়া (৪৫) ও বিপ্লব মোল্লা (৪৩) বিল বোর্ড স্থাপনে সহায়তা করেন। এই প্রসঙ্গে বিপ্লব মোল্লা বলেন, ‘এ ধরনের সময় উপযোগী উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে অনেক মানুষ সচেতন হবে এবং সচেতনতার কারণে তারা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবেন।’
বাংলাদেশের প্রতিটি এলাকায় এরকম আরও অনেক উদ্যোগী মানুষ ও যুবক রয়েছেন যারা এলাকার উন্নয়নসহ মানুষকে সেবা দানের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.