মানিকগঞ্জ থেকে আব্দুর রাজ্জাক ॥
আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে ব্যাপক ধান আবাদের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সিংগাইরের কৃষকরা। এখন তারা বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত। কাঁদা মাটিতে বীজতলা তৈরির পাশাপাশি পলিথিন পদ্ধতির বীজতলা তৈরির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন এলাকার কৃষকরা। ক্রমেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এ পদ্ধতি। জেলার উপজেলায় বীজতলা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
একাধিক কৃষক জানান, রোপণের সময় কাঁদা মাটির চারার বয়স বেশি হয়ে যায়। ফলে কাক্সিক্ষত ফলন হয় না। আর পলিথিন পদ্ধতির চারা সঠিক বয়সে জমিতে রোপণ করা যায় । ফলনও হয় ভালো। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩শ’ ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৫ হেক্টরই পলিথিন বীজতলা। ইতিমধ্যে ২২জন কৃষককে শুকনো বীজতলা তৈরি করতে ৬ কেজি করে পলিথিন বিতরণ করা হয়েছে। চাষীরা আগে এ পদ্ধতি এড়িয়ে চলতেন। উপকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ অনুযায়ী চাষীরা এখন পলিথিন বীজ তলায় উৎসাহী হয়ে উঠেছেন। কাঁদা মাটির চেয়ে এ বীজের তলার চারায় ধানের ফলনও অনেক ভালো।
এ ব্যাপারে জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আলিমউজ্জামান বলেন, “আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বীজতলায় এ পর্যন্ত কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়নি। আশা করছি এ বছর লক্ষমাত্রার চেয়েও এ উপজেলায় বেশি জমিতে ইরি-বোরো আবাদ হবে।”



ধন্যবাদ পাভেল ভাই। আপনার উত্থাপিত বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি।
রাজ্জাক ভাই নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন মানিকগঞ্জের নানা বিষয় নিয়ে। পলিথিন বীজতলার খবরটিও তেমন। ধন্যবাদ এ বিষয়টি নজরে আনার জন্য। কিন্তু রাজ্জাক ভাই পলিথিন বীজতলা নিয়ে আমার কিছু জানার আছে। প্রথম জানার বিষয় যে পলিথিন ব্যবহৃত হচ্ছে তা কোন ধরণের পলিথিন? কারণ আইনত বাংলাদেশে পলিথিনের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিক্রি নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। এই পলিথিন কী সরকারিভাবে কৃষকদের দেয়া হচ্ছে? নিষিদ্ধ পলিথিন কী ‘শুকনো বীজতলা’ পদ্ধতির মাধ্যমে এর উৎপাদন ও ব্যবহারকে বৈধতা দিতে চাইছে? পরের বিষয়টি হলো কোন কোন ধানের জাতের বীজ এই পলিথিন বীজতলায় ভাল হচ্ছে এটি জানা জরুরি। কারণ আমাদের দেশিয় ধানজাতগুলোর ক্ষেত্রে সরাসরি মাটি-বাস্তুসংস্থানের সংস্পর্শ থাকা জরুরি। এখানে ধান গাছের সাথে মাটির নানা রসায়ন, অণুজীব, শামুক, মাছ নানাকিছুর সম্পর্ক তৈরি হয়। আসলে আমি খুব ভালভাবে বুঝতে চাই পলিথিন বীজতলা আমাদের জন্য কতটা দরকারি? রাজ্জাক ভাইয়ের কাছে দাবি করবো এ বিষয়ে আরো বেশকিছু বীজতলা ঘুরে এবং প্রবীণ-নবীন কৃষক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, কৃষিবিদ, গবেষকদের মতামত নিয়ে আরো বিস্তারিত লেখার জন্য। তা না হলে এই খবরটি দেখে অনেকে বোঝে না বোঝে উৎসাহিত হতে পারে। এভাবে কৃষির কতটুকু সুবিদা হবে জানিনা, তবে নিধিদ্ধ পলিথিন অন্যভাবে বৈধতা পেতে পারে।