Posted in

দেশী ওল ভূমিকা রাখছে পারিবরিক পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তায়

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্রনাথ:
পবা উপজেলার দর্শন পাড়া ইউনিয়নের একটি গ্রাম হচ্ছে তেঁতুলিয়া ডাঙ্গা। এই গ্রামের বাসিন্দা মোছা. সুফিয়া বেগম। বসতবাড়ির পরিমাণ ১৮ শতক এবং ফসলী জমির পরিমাণ ১ বিঘা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫জন। বছরব্যাপী চাষ করেন ধান, সরিষা পিয়াজ, মরিচ, ইত্যাদি। বাড়ির আঙিনায় শিম, ফুলকপি, পুঁই, কুমড়া লেবু, পেঁপে গড়আলু এবং দেশী ওল চাষ করে থাকেন। গৃহপালিত প্রাণির মধ্যে পাতিহাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল কবুতর ইত্যাদি। তবে বাড়ির আঙিনায় অন্যান্য সবজির চেয়ে বেশ কয়েক বছর ধরে বেশি করে দেশী ওল চাষ করে আসছেন।

3তিনি সর্ব প্রথম তার শশুর বাড়ি গোদাগাড়ি উপজেলার নবগ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি দেশী ওলের বীজ নিয়ে আসেন। প্রথম বছর ১০টি বীজ বাড়ির পাশের জমিতে লাগিয়েছিলেন। কোদাল দিয়ে ৮ইঞ্চি পরিমাণ গর্ত করে চুলার ছাই, খড়কুটা গর্তে ব্যবহার করে এই ওল লাগানো হয়। গর্তে ছাই ব্যবহার করলে মাটি ফাঁপালো থাকে; তাতে করে ওল মাটির গভীরে যেতে পারে এবং তাড়াতাড়ি বেশি বড় হয়। ওল বপনের সাধারণ সময়কাল বৈশাখ মাসের শেষের দিকে। দ্বিতীয় বছর তাঁর কাছ থেকে গ্রামের আরো ৪টি পরিবার ২টি করে ওলের বীজ নিয়ে যান। পর্যায়ক্রমে এইভাবে গ্রামে ওল চাষীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে এই গ্রামের ৯০% বাড়িতে বা বাড়ির আনাচে-কানাচে এই ওলের চাষ হচ্ছে।

সুফিয়া বেগম বলেন, “শুধুমাত্র প্রথম বছর ওল বিক্রি করিনি। বাড়িতে খেয়েছিলাম এবং বীজ সংগ্রহ করেছিলাম। তাছাড়া প্রতিবছরই কম বেশি এই দেশী ওল বিক্রি করি। তবে গত বছরের তুলনায় এই বছর বাড়িতে তরকারী হিসেবে খাওয়ার পরও ৫৫ কেজি দেশী ওল গ্রামের তরকারী বিক্রেতার কাছে ২৫টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে এই ওল বিক্রির জন্য বাজারে যেতে হয় না- বাড়ি থেকেই কিনে নিয়ে যায়।”2

গ্রামের ওল চাষী কৃষাণীদের সাথে কথা বলে ওল চাষ জনপ্রিয় হওয়ার নানান কারণ উঠে আসে।
১. এই ওল চাষের জন্য বাড়তি জমির প্রয়োজন হয় না।
২. ওলর এর গাছ গরু ছাগলে খায় না। তাই ওল চাষের জন্য বাড়তি কোন প্রকারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করতে হয়না।
৩. বাড়ির পাশের খড়খুটা, চুলার ছাই ব্যবহার করলেই ওল চাষে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।
৪. শুধু বীজ ওল ছাড়া আর কোন খরচই নেই। তাই পুরোটাই লাভ।

যদিও দেশী ওলের গাছ গুলো অন্যান্য জাতের ওল গাছের মত মোটা এবং 1আকারে বড় হয় না। পাশপাশি মাটি এবং রৌদ প্রাপ্যতার ওপরে ওল হালকা পরিমাণে মূখচুলকাতে পারে। তবে ওল গাছ এবং ওল সবকিছুই খাওয়া যায়। কোন অংশই ফেলনা নয়। কেননা, ওল গাছের ডাল ও তার নিচের অংশফল তরকারী হিসেবে খাওয়া হয় ।

খাদ্য হিসাবে দেশী ওলের রয়েছে নানা খাদ্য এবং পুষ্টিগুণ। ওল খেলে শরীরে রক্ত পরিষ্কার হয়। তাছাড়া সহজে পচনশীল নয় বলে সারা বছর সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। ওল খেলে শরীরের কোন প্রকার পার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না বলেই এলাকাবাসীর অভিমত। পাশপাশি, ওল খেলে পেট পরিস্কার থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রনেও সহায়ক ওল। ওল প্রতিনিয়ত তরকারি হিসেবে খেলে পেটে খিদের পরিমাণ কমিয়ে দেয় ফলে বাড়তি মেদ শরীরে জমাতে পারেনা । নিয়মিত ওল খেলে নানা ধরনের অসুখ বিসুখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

এই সকল উপকারিতার জন্য গ্রামের মানুষেরা এই ওলকে সবজি হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে। পাশপাশি, নারীদের বাড়তি আয় এবং পারিবারিক খাদ্য নিরাপত্তায় নানাভাবে ভূমিকা রাখছে বলে দিনকে দিন এই গ্রামে দেশী ওল চাষ নারীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.