সাম্প্রতিক পোস্ট

কাউখালীতে জলাবদ্ধ জমিতে আমনের ভাসমান বীজতলা

দেবদাস মজুমদার,বিশেষ প্রতিনিধি,উপকূলীয় অঞ্চল :

জলবায়ূর প্রভাবজনিত কারণে উপকূলীয় পরিবেশে নানা পরিবর্তন ঘটছে। কৃষির ওপর এ প্রভাবে তিন ফসলী জমি এক ফসলী হয়ে পড়ছে। নানা প্রজাতির দেশী জাতের ধানের আবাদ কমে দেশী জাতের অনেক ধান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের জীবনধারার সাথে মানানসই কৃষি। কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে। ফলে জমি অনাবাদী হয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর মতো কৃষি পদ্ধতি কৃষককে অনুসরণ করতে হচ্ছে। কৃষকের লোকায়ত জ্ঞানে সম্প্রসারিত চাষাবাদ পদ্ধতি। জলাবদ্ধ কৃষি জমিতে ধানের বীজতলার তৈরি তেমনই একটি পদ্ধতি। এ ধারা অনুসরণ করে কৃষক সুফল পাচ্ছে।
পিরোজপুরের কাউখালীতে জলাবদ্ধ জমিতে পরীক্ষামূলক আমন ধানের ভাসমান বীজতলা তৈরিতে সাফল্যতা লাভ করেছে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের আমন চাষীরা। জলাবদ্ধ জমিতে আমনের ভাসমান বীজতলা তৈরির এ পদ্ধতি অনুসরণ করে চলেছে এলাকার বহু কৃষক।

????????????????????????????????????

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর কৃষি জমি বন্যার পানি ও জোয়ারের জলাবদ্ধতার কারণে এ আমন মৌসুমে বীজতলা করার মতো কৃষিজমি পাওয়া কষ্টকর। উঁচু জমি পাওয়া না গেলে অথবা পানি নেমে যাবার পর চারা তৈরির যথেষ্ট সময় পাওয়া না গেলে ভাসমান বীজতলা তৈরি ছাড়া কৃষক নিরুপায়। এক্ষেত্রে বন্যার পানি, পুকুর, ডোবা বা খালের পানির উপর বাঁশের চাটাইয়ের মাচা বা কলা গাছের ভেলা তৈরি করে তার উপর ২-৩ সে.মি পুরু কাদার আস্তরণ দিয়ে কাদাময় বীজতলার মতই বীজতলা তৈরি করছে কৃষকরা। বীজতলার আকার কলা গাছের আকৃতির উপর নির্ভর করে, তবে চার থেকে পাঁচটি কলা গাছ একত্র করে ভেলা তৈরি করে করাটা সুবিধাজনক। তৈরিকৃত ভেলায় প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হবে। পানির উপর ভাসমান থাকার কারণে এরূপ বীজতলায় পানি সেচের দরকার হয় না। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পরেই চারা রোপণের উপযোগী হয়ে যায়। এভাবে তৈরিকৃত এক বর্গমিটার বীজতলার চারা দিয়ে ২০ বর্গমিটার পর্যন্ত রোপণ করা যায় অর্থ্যাৎ ১ শতাংশ জমির চারা দ্বারা কমপক্ষে ২০ শতাংশ জমি রোপণ করা যায়। এ মৌসুমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচটি ভাসমান বীজতলা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
উপজেলার শংকরপুর গ্রামের চাষী মো. বারেক খান বলেন, “কৃষিজমি এখনও জলাবদ্ধ। তাই ভাসমান বীজতলা তৈরি ছাড়া ধানের চারার সংকট মোকাবেলা সম্ভব না। বন্যার কবল থেকে বীজতলাকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতে এধরনের বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।”
কাউখালীর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম বরণ মজুমদার বলেন, “আবহাওয়া ও জলবায়ূর নিয়ত পরিবর্তন ঘটছে। কাউখালী এমনিতেই নিচু এলাকা। অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জোয়ারের প্লাবণের পর কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা ধান আবাদের মৌসুমে যথা সময়ে বীজতলা তৈরি করতে বিপাকে পড়েন। এ ক্ষেত্রে জলাবদ্ধ জমিতে ভাসমান বীজতলা যথেষ্ট সহায়ক।
কাউখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অপূর্ব লাল সরকার জানান, আবহাওয়া ও জলবায়ূর প্রভাবে কৃষির পরিবশে বদলাচ্ছে। কৃষককে টিকে থাকতে হলে সময়ের মানানসই কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করেই টিকতে হবে। ভাসমান আমন বীতলা তেমনই একটি কৌশল।
তিনি আরও জানান, তৈরিকৃত ভাসমান বীতলায় প্রতি বর্গমিটারে ৮০-১০০ গ্রাম অংকুরিত বীজ ফেলতে হয়। পানির উপর ভাসমান থাকার কারণে এরূপ বীজতলায় পানি সেচের দরকার হয় না। বীজ বপনের ২৫-৩০ দিন পরই চারা রোপণের উপযোগী হয়ে যায়। এখানকার কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতিতে ধানের বীজতলা তৈরিতে আগ্রহ বাড়ছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: