Posted in

শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় জাগো তারুণ্য, জাগাও জীবন

বরেন্দ্র অঞ্চল থেকে শহিদুল ইসলাম

নানা সংকটে সবসময় সর্বকালেই তরুণরা এগিয়ে এসেছে। রক্ষা করেছে তার নিজস্ব শিক্ষা সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস ঐতিহ্য এবং নিজের অধিকার। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সৃষ্টির প্রতিটি পরতে পরতে তারুণ্যের শক্তি এবং জয়ের কথা আমরা জানি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ভাষা এবং ইতিহাস রক্ষায় তরুণদের হাজারো দৃষ্টান্ত থাকলেও “পাছে লোকে কিছু বলে” এমন লোকগুলো তরুণদের উন্নয়নের গল্পগাথা চেপেই ধরে রাখতে চান। শক্তির প্রেরণাদায়ী হয়ে উঠার আগেই যেন তারা তারুণ্য শক্তিকে শুরুতেই ফেলিয়ে দিতে চায় করুণ অন্ধকারে। আবার এমন বহু মানুষ আছে তরুণদের প্রেরণাদায়ী হয়ে তরুণদের শক্তি সংগঠিত এবং উজ্জীবিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। সেই মানুষগুলোর মতো একজন প্রেরণাদায়ী মানুষ সিনিয়র সাংবাদিক মো. সাইদুর রহমান বলেন, “তরুণদের জানিয়ে দিতে হবে, বোঝাতে হবে ‘আমার জীবনটা শুধু আমার না’। আমার চারপাশটার জন্যে আমি, আমি তাদের এবং আমার জন্যে তারা। সব মিলেই আমরা। কেউ এককভাবে বাঁচতে পারেনা। ”

fine

কামিনী রায়ের পাছে লোকদের মতো লোকদের মাঝে মাঝে বলতে শোনা যায় তরুণরা তাদের শক্তি এবং উদ্যমতা হারিয়ে ফেলেছে। এখানে বলা উচিত কে বলেছে তরুণ তার শক্তি হারিয়েছে, উদ্যমতা হারিয়ে ফেলেছে? তরুণরা এখনো জাগিয়ে আছে, তরুণরা এখনো তার শক্তি দিয়ে সব কিছুকে জয় করে, কল্যাণ ছিনিয়ে আনে। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ কে তোয়াক্ক না করেই তরুণ এগিয়ে চলে সামনে কল্যাণের দিকে। প্রয়োজন শুধু সংগঠিত নৈতিকতা শক্তিগুলোকে এক করা, সহায়তা করা।

বরেন্দ্র অঞ্চল তথা সমগ্র বাংলাদেশেই দিনে দিনে নানামূখী উন্নয়নের কারণে এগিয়ে চলেছে দেশ। এগিয়ে যাচ্ছে তার অর্থনীতি। এখানে তরুণদের ভূমিকা একটা বড় অংশ জুড়ে আছে। কৃষক তরুণ তার শক্তি দিয়ে ফসল ফলাচ্ছে বলেই দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করেছে। যেখানে প্রবীণরা তার অভিজ্ঞতা দিয়ে সহযোগিতা করছে। তরুণরাও এগিয়ে নিচ্ছে তার সমাজ, সংস্কৃতি এবং প্রতিবাদ গড়ে তুলছে বৈষষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার। রক্ষা করছে তার প্রাণ প্রকৃতি এবং পরিবেশ। একই সাথে শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় জাগিয়ে তুলছে তার পাশের মানুষগুলোকে। ঐক্য এবং সাংগঠনিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে নানা সংকট মোকাবেলায়। তেমনি একটি জনসংগঠন বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্র। ছাত্র, শিক্ষক, কৃষকসহ নানা পেশাজীবীর মানুষ সংগঠিত হয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় নানা ধরনের কর্মসূচী ও উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।

fine--

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (আগস্ট ২০), “ শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষায় জাগো তারুণ্য, জাগাও জীবন” শ্লোগানে নগরীর ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী কলেজের কামরুজ্জামান ভবন চত্বরে বারসিক ও বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রর যৌথ আয়োজনে রাজশাহীতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণদের প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়। একই সাথে বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উক্ত প্রচারাভিযানটি উদ্বোধন করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হবিবুর রহমান।
তরুণরা নিজের পরিবেশ প্রতিবেশ এবং মানসম্মত শিক্ষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় আলোচনা কুইজ প্রতিযোগীতার আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে তরুণরা জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বলানিনির্ভর জীবন ব্যবস্থার দিকগুলো তুলে ধরেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে আমদের পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং অর্থ দুই বাঁচবে, একই সাথে বাঁচবে আমদের মূল্যবান জীবন বলে তরুণরা জানান। প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ধ্বংস হলে যেমন পরিবেশ অবক্ষয় হয় তেমনি আমদের প্রাণবৈচিত্র্যের সংকট ডেকে আনবে। তরুণরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে প্রান্তিক মানুষের অধিকারের পথগুলো যেন আরো প্রতিষ্ঠিত হয় সেদিকগুলোও দাবি করেন। এছাড়াও প্রচারাভিযানে বরেন্দ্র অঞ্চলের জ্বালানি ও পরিবেশিক দিকগুলোর প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ বিষয়ে কথা বলেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম।

2 - Copy

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিইসিডিপিসি এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক তরুণ নেতা মো. উজ্জল হোসেন। প্রচারাভিযানে কলেজের শিক্ষার্থীদেরকে পরিবেশ নিয়ে সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানানো হয় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যাগী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের লিফলেট প্রদান করা হয়। বিইসিডিপিসি এর আদর্শ ও কর্মকান্ড সম্বলিত প্রচারপত্র ও বিভিন্ন পরিবেশমূলক বিষয় নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিইসিডিপিসি এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, বিইসিডিপিসি এর উপদেষ্টা, তথ্য ও গবেষণা স¤পাদক জরিনা খাতুন, শিক্ষা স¤পাদক আফিফা তাজরিন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি স¤পাদক জিনাতুন নিসা, যুগ্ন-প্রচার ও প্রকাশনা স¤পাদক মো. জুবায়ের হোসেন নির্বাহী সদস্য আফরিনা তাসনিম কেয়া, আফসানা মুন্নি হিরা এবং বিইসিডিপিসি এর রাজশাহী মহানগর ইউনিট এর সভাপতি ইবনেসিনা জ্যোতি, সহ সভাপতি আব্দুস সোবহান প্রমুখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.