তলার হাওর ও গঙ্গাঝুলি হাওরের অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর করলেন নেত্রকোনার কৃষকগণ

নেত্রকোনা থেকে মো: আলমগীর ও সুমন তালুকদার
নেত্রকোণা জেলার তলার হাওরের কৃষক সংগঠনের ৭ সদস্যদের একটি দল হবিগঞ্জের গঙ্গাঝুলি হাওরের কৃষকের সাথে হাওরের ধান চাষ, কৃষি, কৃষিকেন্দ্রিক জ্ঞান অভিজ্ঞতা তথ্য ও লোকপ্রযুক্তি, আগাম ধান চাষ, ইরির আঞ্চলিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গভীর পানির ধান গবেষা কেন্দ্র, হাওরের দুর্যোগ, কৃষকের নিজস্ব প্রযুক্তি ও উদ্যোগ জানা ও আদান প্রদানের জন্য অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর করেন।


নেত্রকোণা জেলার তলার হাওরের কৃষকগণ হবিগঞ্জের সৈয়দাবাদ গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলীর হাওরে আগাম ধান চাষ পদ্ধতি, পোখরা গ্রামের দুলাল মিয়া, জসিম উদ্দিনের ব্রিধান-৬৭, ৮৪, ৮৮, ৮৯, ৯২ এর চাষ ও হাওরের কৃষকদদের কৃষি কাজ পরিদর্শন করেন সম্প্রতি। উক্ত কৃষকদের ধান চাষ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ শেষে কৃষকগণ হবিগঞ্জের নাগুয়া এলাাকায় অবস্থিত ইরির এর আঞ্চলিক ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখেন (বীজ সংরক্ষণ, বর্ধন, মূল জাত গবেষণা )। আমাগ ধান: ব্রি-৪৫, ও ব্রি-৮৪ নেত্রকোণার কৃষকদের কাছে ভালো মনে হয়েছে। গঙ্গাঝুলি হাওরের কৃষকেরা নেত্রকোণার জেলার মদন উপজেলার তলার হাওর ও বাগরা হাওরের কৃষকের সবজি চাষ ও ফসলবৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন। আগামি মৌসুমে নেত্রকোণার কৃষকেরা ব্রি-৪৫ ও ব্রি-৮৪ ৮৮,৮৯ চাষ আরো ব্যাপকভাবে করা কথা বলেন। যদিও এখন অনেকেই নেত্রকোণার হাওরে চাষ করেন। গভীর পানির ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে কৃষককেরা গভীর পানির ধান বিষয়ে জানতে পেরেছেন।


কৃষকের কার্যক্রম উদ্যোগ ও গবেষণা পরিদর্শন শেষে এসেড কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হবিগঞ্জের কৃষক ও নেত্রকোনার কৃষক ছাড়াও এসেডের নির্বাহী পরিচালক জাফর ইকবাল চৌধুরী, সমন্বয়কারী জুলফিকার আলী শিকদার, বারসিকের কর্মকর্তা মো. আলমগীর, সুমন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, ভৌগোলিক কারণেই হাওরের মানুষ প্রাকৃতিক সকল দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে টিকে আছেন যুগের পর যুগ। খরা, বন্যা, আগাম বন্যা, পাহাড়ি ঢল, আফাল, আফার, বজ্্রপাত, গরম, ঠান্ডা, শৈতপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, কৃষি উপকরণের চড়া দাম, ফসলের মূল্য কম, পোকার আক্রমণ, বীজের সমস্যা, সেচের সমস্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, যোগাযোগ ও পরিবহন সমস্যা মোকাবেলা করে পাড়ি দেয় জীবনের অধিকাংশ সময় ।

happy wheels 2

Comments