সাম্প্রতিক পোস্ট

গাছের মতো একটা গাছ হলেই যথেষ্ট

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল
‘আমার জমি জমা বলতে বসতভিটাসহ মোট একবিঘা। জায়গাতে একটা পুকুর আছে এবং বেশির ভাগ জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ফলজ ও কাঠ জাতীয় গাছ গাছালিতে ভরে আছে। এতে করে বসতভিটায় সবজি করার মতো জায়গা খুবই কম। তারপরও নানান ধরনের সবজি চাষ করার চেষ্টা করি। বাড়ির উঠানের ঘরের সাথে লতানো সবজিই বেশি চাষ করি, যা সহজে উঠানে মাচান করা যায় এবং ঘরের চালে উঠিয়ে দেওয়া যাবে। পাশাপশি বসতভিটা ছাড়াও আমার এ বসতভিটার সামনে এবং দাদপুর খালের রাস্তার পাশে ২ কাঠার মতো খাস জায়গায় সারাবছর নানান ধরনের সবজি চাষাবাদ করি। আমি মনে করি সবজি চাষের জন্য খুব বেশি জায়গা লাগে না। তাছাড়া খুব বেশি সবজি গাছ না লাগিয়ে ভালো মানের কয়েকটি গাছ লাগালেই হয়। আমি এবছর আমার এই ক্ষেতে অন্যান্য সবজির সাথে একটি লাউ গাছ এবং তিনটি মিষ্টি কুমড়া গাছ লাগিয়েছি। আমার একটা লাউ গাছে এ পর্যন্ত প্রায় ১৮০ টি লাউ পেয়েছি। এছাড়াও গাছে এখনও প্রায় ছোট বড় মিলে একশ’র বেশি লাউ আছে এবং আরো হবে। একটি গাছ থেকে অনেক কিছু করা সম্ভব সেটা কোন সবজি গাছ কিংবা কোন ফলের গাছ যাই হোক না কেন। সেটি ভালো উপযুক্ত স্থানে লাগিয়ে একটু পরিচর্যা নিলেই হবে। সেজন্যই শুধু গাছের মতো একটা গাছ হলেই যথেষ্ট।’


উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের শত বাড়ির কৃষাণী ছুরাতুন বেগম। বিগত সময়ে শতবাড়ি পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ ও উন্নয়ন বিষয় আলোচনায় সময় তার মিষ্টি কুমড়া ও লাউ গাছের উৎপাদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ কথাগুলো বলেন।


ছুরাতুন বেগম বলেন, ‘আমার বাড়িটি একটি শত বাড়ি। এখানে নানান ধরনের প্রাণবৈচিত্র্য আছে। আমার বাড়িতে বারোমাস সবজি চাষ হয় যেমন কাকরোল, ঢেঁড়স, ডাটাশাক, পুঁইশাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, তুরুল, ঝিঙ্গা, বরবটি, শিম, উচ্ছে, কুশি, শসা, লালশাক, পালংশাক, আলু, চুবড়ি আলু,বেগুন, ওলকপি, মূলা, হলুদ, কচুরমুখী , ওল, মানকচু, জলপানকচু, সোলাকচু, বিষকচু ইত্যাদি ফসল চাষাবাদ করি।’ তিনি এসব সবজির পাশাপার্শি নানান ধরনের ফলজ ও কাঠ জাতীয় গাছ আছে যেমন আম, জাম, কলা, পেপে, কুল, নারকেল, ডালিম, জামরুল, ছবেদা, পেয়ারা, মেহগনি, খৈ, তাল, খেজুর, বেল, কদবেল ইত্যাদি। গবাদি পশুর মধ্যে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, কবুতর, শালিক ও আছে।’


ছুরাতুন বেগম আরো বলেন, ‘আমি প্রতি মৌসুমের জন্য বীজও সংরক্ষণ রাখি। এ বীজ প্রতিবছর গ্রামের প্রতিবেশীদের মাঝে বিনিময়ও করি। এছাড়াও আমার এ সবজি চাষ আমি জৈব পদ্ধতিতে করে থাকি। বাড়িতে গরু থাকায় যেমন গোবর ব্যবহার করি তেমনিভাবে কেঁচো সারও তৈরি করেও তা ব্যবহার করি। প্রতিবছর গ্রামের মানুষদের সবজি, বীজ, কেঁচো সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে থাকি। আমার কাছ থেকে কেঁচো সার তৈরি পদ্ধতি শিখে গ্রামের তিনজন ব্যবহার করছে। এছাড়াও আমরা গ্রামের নারীরা মিলে একটি নারী সংগঠন ও তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।’


উপকূলীয় এলাকায় নানান ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সন্মূখীন। কোন একটি দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে নতুন দুর্যোগ এসে হাজির হয়। আর সে দুর্যোগে নানান ক্ষতির মধ্যে সবজি ফসলের ক্ষতি থাকে অন্যতম। তাই সবজি চাষের ক্ষেত্রে সব রকমের দুর্যোগ মাথায় রেখে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করা দরকার।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: