সাম্প্রতিক পোস্ট

বরেন্দ্রভূমির রুক্ষ্ম মাটিতে সবুজ সবজির শ্যামলীমা

:: এবিএম তৌহিদুল আলম ও অমৃত সরকার

Untitvl্রনানাdsaedএকজন উদ্যোগী মানুষের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয় অগণিত মানুষ। তাঁর দেখানো পথেই হাজারো মানুষ সাফল্য খুঁজে ফেরে। রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বহড়া গ্রামের মো. আব্দুল হামিদ (৫৫) এমনই একজন মানুষ যিনি বরেন্দ্রভূমির রুক্ষ্ম-শুষ্ক-উষর মাটি সবজি ফসলের সবুজ সবজির শ্যামলীমায় ভরিয়ে দিয়েছেন।

উপজেলা সদর থেকে উত্তরে কুড়ি কিলোমিটার দূরের এক অজপাড়া গাঁ ‘বহড়া’। বোরো মৌসুমে যতদূর চোখ যায় সিঁড়ির মতো দিগন্ত বিস্তৃত ধানক্ষেত। মাঝে মধ্যে ছিটেফোঁটা আলু ক্ষেত। এ দুটোই ছিল এই গ্রামের মানুষের প্রধান ফসল। কিন্তু এখন এই চিরচেনা দৃশ্যপটটি বিগত ছয় বছরে ক্রমান্বয়ে বদলে গেছে। আর এর পেছনের কারিগর হলেন এই গ্রামেরই সম্পন্ন কৃষক মো. আব্দুল হামিদ। কৃষি নিয়ে তার দূরদৃষ্টি আর সুদূর প্রসারী চিন্তা ভাবনা বদলে দিয়েছে তার নিজেরসহ অনেকের ভাগ্য। উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ আর না মিললেও তার ভাবনার জগত অন্য অনেকের চেয়েই ভিন্ন। ২০০৪ সালে পাশ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার অন্য এক অভিজ্ঞ সবজি চাষীর সাথে তার পরিচয় হয়। তিনিই তাকে সবজি চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেন। সেই বছরই তিনি প্রথম ১.৫ বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ করে শসা চাষ করেন। আশানূরূপ ফলন ও বাজারদর তাকে আকৃষ্ট করে। উৎপাদন ও অনুসাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে ৫৫ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে নিজের জমি এবং জমি লিজ নিয়ে করেছেন শিম, বেগুন, করলা, কচু, বরবটির চাষ করেন। আব্দুল হামিদ গত ছয় বছরে ক্রমান্বয়ে বাড়িয়েছেন সবজি চাষের জমি। চলতি মৌসুমে নিজের মালিকানাধীন ১১ বিঘা জমির মধ্যে ৫বিঘা জমিতেই চাষ করেছেন নানা জাতের সবজি। আর দৈনন্দিন খাবারের প্রয়োজনে ৪বিঘা জমি লিজ নিয়ে Untitvl্রনাdsaedকরছেন ধানের চাষ। সবজি চাষের নানা কলাকৌশল সরেজমিনে দেখার জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে গিয়েছেন সবজি প্রধান নাটোর, বগুড়া ও নওঁগা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে। পাশাপাশি সংগ্রহ করে পড়ে থাকেন কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন বই পুস্তকও নানা প্রকাশনা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করেও তিনি কৃষি বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘কৃষিকথা’র নিয়মিত পাঠক ও গ্রাহক।

‘বরেন্দ্র এলাকার আঠালো লালমাটি সবজি ফসল চাষের জন্য তেমন ভালো নয়’ মন্তব্য করে মো. আব্দুল হামিদ বলেন, ‘এজন্য ২০১৪ সালে ৫০ হাজার কেঁচো দিয়ে বাড়িতেই বড় আকারের কেঁচো কম্পোস্ট খামার করেছি। আগামীতে সবজি ক্ষেতে রাসায়নিক কীটনাশকের বদলে জৈব পদ্ধতিতে বালাইনাশক বাড়িতেই তৈরি করার জন্য বাড়ির আশেপাশে লাগিয়েছি নিম, আতা আর মেহগনি গাছ’।

কেঁচো কম্পোস্ট খামার থেকে তিনি নাচোলের রহনপুরের একজন কৃষকের কাছে ৩৫ মণ ও পাশের গ্রামের একজন পেয়ারা চাষীর কাছে ৪০ মণ কেঁচো কম্পোস্ট বিক্রি করেছেন। এছাড়াও বর্তমানে খামারে বিক্রির জন্য রয়েছে ৫২ মণ কেঁচো কম্পোস্ট।

আব্দুল হামিদের সাফল্যে গ্রামের কৃষকরা সবজি যেমন আগ্রহী হয়েছেন তেমনি অনেক কৃষকই সবজি চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য তাঁর খামারে আসেন। সাফল্য লাভের ঐকান্তিক বাসনাই আজ আব্দুল হামিদকে বরেন্দ্রভূমির রুক্ষ্ম মাটিতে সফল সবজি চাষীর উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: