Posted in

ঘিওরের তিন যুবকের সাফল্যকথা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ॥

“কলা রুয়ে না কেটো পাত/
তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত”

 

বাঙালির এই চিরন্তন প্রবাদ বাক্যকে সফলতায় রূপ দিয়েছেন ঘিওরের তিন শিক্ষিত যুবক। তাদের উদ্যোগে বাণিজ্যিকভিত্তিক কলা চাষে বেশ সাড়া ফেলেছে এলাকাবাসীদের মাঝে। অল্প বিনিয়োগে বেশি লাভবান হওয়ার পাশাপাশি, তাঁরা করেছেন কয়েকজনের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানও।

মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওরের মাইলাগী গ্রামে বিষমুক্ত কলা চাষ করে মো. রাসেল মিয়া, মো. রিপন মিয়া এবং মো. শরিফ। তারা ৩ একর পরিমাণ জায়গায় রঙিন সাগর জাতের কলা আবাদ করেছেন। তাদের বাগানের উৎপাদিত কলা মানিকগঞ্জ জেলা বিভিন্ন হাট-বাজারসহ রাজধানীর ব্যবসায়ীরা পাইকারি ক্রয় করছেন।

আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায়, তাদের দেখাদেখি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে কলার চাষ। ঘিওর সদরের মাইলাগী এলাকার অনেক পরিবার কেবল কলা চাষ করেই ঘুচিয়েছেন দারিদ্রতা। এ এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে কলা গাছ। বাড়ির উঠান, আঙিনা যেখানেই ফাঁকা জায়গা, সেখানেই কলা গাছ লাগানো হয়েছে। কলা চাষের বিস্তৃতি আর সাফল্যে ‘মাইলাগী” গ্রাম এখন পরিচিত কলার গ্রাম নামে। কলা পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট।

ghior banana pic -1

তিন যুব কৃষক রাসেল, রিপন ও শরিফদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, গত নভেম্বর মাসে কলার চারা রোপণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত তাঁদের খরচ হয়েছে ৪ লাখ টাকার মতো। বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত যে কলা আছে তা আরও ৪ লাখ বিক্রি করা যাবে বলে তারা জানান।

এসময় তারা অনেকটা অভিযোগের সুরে জানান, কলা চারা রোপণ থেকে কলা আহরণ পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের আক্রমণের শিকার হয়। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন সহায়তা পান না তারা।

মানিকগঞ্জ জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রতি শতকে কলার চারা বপন করা যায় ৬০টি। প্রতিটি কলা গাছে খরচ বাবদ ব্যয় ৭০ থেকে ৮০ টাকা করে। এক বিঘা জমিতে কলা চাষ করতে ১৫/২০ হাজার টাকা খরচ পড়লেও প্রতি বিঘা জমি থেকে কলা বিক্রি হয় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা অন্য কোন ফসলে সম্ভব নয়। তিনি কলা চাষের সাথে জড়িত কৃষকদের সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ, স্বল্প শর্তে ঋণ প্রদান এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ বিপুল হোসেন বলেন, ‘কলা চাষ করে ওই তিন যুব কৃষকদের সাফল্য দেখে অনেকেই এখন বাণ্যিজিকভিত্তিক কলা চাষে ঝুঁকছে।’ তিনি আরও জানান, একবিঘা জমিতে কলার জাত ভেদে ৩শ’ থেকে সাড়ে ৩শ’ কলার চারা রোপণ করা হয়ে থাকে। যত্নসহকারে কলা চাষ করলে একটি গাছ থেকে ২ থেকে আড়াই মণ কলা পাওয়া যায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.