Posted in

পার্থেনিয়াম একটি বিষাক্ত উদ্ভিদের নাম

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ

পার্থেনিয়ামের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য সম্প্রতি দর্শনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ১৫০টি পরিবারের ২০০ জন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক স্কুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুল ক্যাম্পেইনে শিক্ষার্থীদের মাঝে পার্থেনিয়াম কি এবং এর কুফল সর্ম্পকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন বারসিক’র অমৃত সরকার।

আলোচনায় অমৃত সরকার জানান, পার্থেনিয়াম মানুষের হাতে পায়ে লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় হাত পা চুলকায়, লাল হয়ে যায় এবং পায়ে ত্বকে ক্যানসার সৃষ্টি হতে পারে। ব্যক্তির ঘন ঘন জ্বর ও মাথা ব্যথা হয়। এই গাছ গাভী খেলে গাভীর দুধও তিতা হয়।

11111 (1)

দর্শন পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল বারী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই উদ্ভিদটি আমাদের বাড়ির আশে পাশে রাস্তার ধারে অনেক দেখতে পাই কিন্তু এই উদ্ভিদটির নাম কি এবং মানুষ, গরু ও ছাগলের জন্য এতই ক্ষতিকর তা আমরা আগে জানতাম না। তাই এখন এই বিষয়ে জানতে পেরে ভালো লাগছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমরা সকলে নিজ নিজ এলাকার মানুষদের এই গাছের ক্ষতিকর দিক সর্ম্পকে সচেতন করবো এবং আমাদের বাড়ির আশে পাশের পার্থেনিয়ামের ফুল আসার আগে গোড়া থেকে কেটে ফেলবো।’ মো. আঃ বারি বলেন, ‘বারসিক’র কাছে আমার প্রত্যাশা তারা যেন পবা উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ক্যাম্পেইন অভিযান আয়োজন করে। এতে করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।’

66666

উল্লেখ্য, প্রকৃতির অন্যতম একটি উপাদান হচ্ছে উদ্ভিদ। কোনো কোনো উদ্ভিদ যেমন আমাদের উপকারে আসে তেমনি কোনো কোনো উদ্ভিদ আমাদের ক্ষতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তেমনি ক্ষতিকর একটি উদ্ভিদের নাম পার্থেনিয়াম। প্রকৃত অর্থে পার্থেনিয়াম এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা, যা মানুষ ও প্রাণীদের নানা ক্ষতি করে। পার্থেনিয়ামের মূল উৎপত্তিস্থল মেক্সিকো। সেখান থেকে এই বিষাক্ত আগাছা ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, আফ্রিকা, ওয়েস. বাড়ির আশপাশে, রাস্তার ধারে, বন-জঙ্গলে বা ফসলের ক্ষেতে পার্থেনিয়াম জন্ম ও বিস্তার লাভ করে। এই বিষাক্ত উদ্ভিদটি সাধারণত উচ্চতায় ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। পার্থেনিয়াম শাখা বিস্তারের মাধ্যমে গম্বুজ আকৃতির অথবা ঝোপ আকারের হয়। পাতা শাখাযুক্ত ত্রিভুজের মতো। নির্দিষ্ট বয়সে ফুল ফোটে। একটি গাছ বাঁচে তিন থেকে চার মাস। এই সময়ের মধ্যেই তিনবার ফুল ও বীজ দেয়। গোলাকার, সাদা, আঠালো এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে এর ফুল। পার্থেনিয়ামের একটি গাছ ৪ থেকে ২৫ হাজার বীজের জন্ম দিতে পারে। এই বীজ এতই ছোট যে সাধারণত গবাদিপশুর গোবর, গাড়ির চাকার কাদামাটি, পথচারীদের জুতা-স্যান্ডেলের তলার কাদামাটি, সেচের পানি ও বাতাসের সঙ্গে এর বিস্তার ঘটে।

222222

এই বিষ মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীদের জন্য ক্ষতিকর। এ ছাড়াও এই বিষাক্ত আগাছা এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা কীটপতঙ্গ ও ফসল উভয়েরই ক্ষতি করে। পার্থেনিয়াম আগাছা ফসলি জমিতে থাকলে ফসলের উৎপাদন প্রায় চল্লিশ শতাংশ কমিয়ে দেয়। পার্থেনিয়াম আগাছাযুক্ত মাঠে গবাদিপশু চরানো হলে পশুর শরীর ফুলে যায়, তীব্র জ্বর, বদহজমসহ নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। এ ছাড়া পার্থেনিয়াম মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে প্রাথমিক অবস্থায় হাত-পা চুলকায়, লাল হয়ে যায় এবং পরে ত্বক ক্যান্সারের সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনঘন জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে পারে। কৃষিবিদরা এ আগাছা নিয়ে বেশ শঙ্কিত। তারা এটিকে বিষাক্ত আগাছা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি শুধু বিষাক্তই নয়; যে কোনো ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিও করে। প্রায় ৪০ শতাংশ ফসল কম ফলে যদি কোনো খেতে পার্থেনিয়াম থাকে। এসব ক্ষতিকর দিকগুলো পর্যালোচনা করে কৃষিবিদরা গাছটি পুড়িয়ে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু সেক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। যেমন: এটি কেউ কাটতে গেলে ব্যক্তির হাতে-পায়ে লাগতে পারে। পোড়াতে গেলে ফুলের রেণু দূরে উড়ে বংশবিস্তার ঘটাতে পারে। আবার ব্যক্তির নাকে, মুখেও লাগতে পারে। তাতে করে তিনি মারাত্মক বিষক্রিয়ায় পড়তে পারেন। এ ক্ষেত্রে খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রথমে গাছটিকে কাটতে হবে। হাতে গ্লাভস, চোখে চশমা থাকলে ভালো হয়। পা ভালোমতো ঢেকে রাখতে হবে। মোটা কাপড়ের প্যান্টের সঙ্গে বুটজুতা পরা যেতে পারে, সঙ্গে মোটা কাপড়ের জামাও পরতে হবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.