Posted in

হরিরামপুরে বট পাকড়ের বিয়ে

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর পদ্মা তীরবর্তী প্লাবন ভুমি। হরিরামপুরে পদ্মা, ইছামতি নদী ছাড়াও দয়ারবাড়ি, ভাতচালা বিল, গোপিনাথপুর বিল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানিতে মাঠ-ঘাট, বিল ভাউর প্লাবিত হয়। ফলে পানির সাথে হিজল, কড়চ গাছের বীজ এলাকার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে পড়ে। এই বীজ থেকে গাছের চারা হয়ে এক সময় বড় গাছ হয়। বিশেষ করে হিজল ও কড়চ গাছ নদী খাল বিলের পাড়ে দেখা যায়।


তেমনিভাবে আমাদের দেশে বট, পাকড় গাছ দেখা যায় বিভিন্ন স্থানে। এই বট পাকড় গাছের চারা সুন্দর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়। প্রক্রিয়া হলো বট বা পাকড় গাছের ফল পাখি খায়। এই ফল পাখির পেটে হজম হয় না। ফলে যে স্থানে লেদায় বা পায়খানা করে সেখানে মাটির অংশ থাকলে চারা হয়। মানুষের শক্তি নাই বট পাকড়ের বীজ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় চারা তৈরি করার। তবে পরিবেশ পেলে এক পর্যায়ে বট, পাকড় চারা বড় গাছ হয়।
মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ২০১২ সাল থেকে বারসিক বট, পাকড় চারা রোপন উদ্বুদ্ধকরণ ও চারা দিয়ে জনগনের উদ্যোগে বাজারে, মন্দিরে, শ্মশান, কবরস্থানে, রাস্তার পাশে প্রায় ২০০ বট পাকড় গাছের চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে এই বট পাকড়ের গাছগুলোতে অধিকাংশ ফুল ফল আসতে শুরু করেছে। গ্রামে-গঞ্জে প্রথা আছে বট পাকড় গাছের চারা রোপণ করা হলে (বয়স হলে) বিয়ে দিতে হয়। এই প্রেক্ষিতে হরিরামপুর আন্ধারমানিকের মাষ্টার গোবিন্দ চন্দ্র সরকারের উদ্যোগে নিজের হাতে রোপনকৃত বট পাকড় গাছের মহা ধুমধামে হরিরামপুরের বয়ড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাথে কর্মকারকান্দি গ্রামে বট পাকড়ের বিয়ে দেওয়ার আয়োজন করে ও বিয়ে দেয়।


বিয়ে অনুষ্ঠানে সমাজের সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করেন। কর্তা বা ঠাকুর বট পাকড় গাছকে সাদা ও লাল কাপড় পড়ান। বিয়ে অনুষ্ঠানে বাঁশের কুলা, চালন, চন্দন, আগরবাতি, মুমবাতি, তুলসি পাতা, দুর্বা, মাটির ঘট, পানি, আমপ্লক, ধান, ফুল নিয়ম নীতি মেনে আচার অনুষ্ঠানের মাধ্রমে বিয়ে পড়ান। অনুষ্ঠানে অতিথিগণ ব্যতিক্রমী বট পাকড়ের অনুষ্ঠান দেখে মুগ্ধ হয়। বিয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোগী মাষ্টার গোবিন্দ চন্দ্র সরকার ও এলাকার লোকজন বট পাকর গাছের মেলা করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেন। বট পাকর নিচে গাছটির নিচে বৈশাখে মেলা হয়। তাছাড়াও গরমে বটের নীচে শীতল বাতাস ও গল্প করেন এলাকার লোকজন। পদ্মা নদীর পাড়ে গাছ, পাখি প্রাণ প্রকৃতি আজীবন বেঁচে থাকার প্রত্যয় ও উদ্যোগ গ্রহন করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.