Posted in

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের করণীয়

নেত্রকোনা থেকে মো. অহিদুর রহমান

২১ মে, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবস এবং ২২ মে প্রাণবৈচিত্র্য দিবস। এ দু’টি দিবসের মূল বিষয়টির মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। কেননা মানুষের অনেকগুলো সংস্কৃতির উপাদান হচ্ছে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান। সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করার জন্য তাই প্রয়োজন এসব প্রাকৃতিক উপাদানকে রক্ষা করা। সেক্ষেত্রে প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষার মাধ্যমে মানুষের সংস্কৃতিকে বাঁচানো সম্ভব। প্রতিটি সমাজের ভিন্ন সংস্কৃতি রয়েছে। কেননা প্রতিটি সমাজের ভিন্ন ভিন্ন জনগোষ্ঠী বাস করে। শুধুমাত্র একটি সংস্কৃতিকে রক্ষা করলে হবে না বরং প্রতিটি সংস্কৃতিকে সুরক্ষা করা জরুরি। কারণ প্রতিটি সংস্কৃতি সুরক্ষিত হলেই প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণ, উপাদান সুরক্ষা পাবে। কলাপাতা থেকে শুরু করে বেল গাছ, কৃষ্ণচূড়া, বট, নিম, হরিতকি গাছসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে মানুষের সংস্কৃতি সম্পৃক্ত। মানুষের ভেতরে প্রতিটি সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তাসহ প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের গুরুত্ব তুলে ধরার জন্য নেত্রকোনার বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও প্রাণবৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়েছে।

DSC04012
‘বৈচিত্র্য সুরক্ষা করি সকলে মিলে স্বদেশ গড়ি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে, সকল প্রাণবৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে নেত্রকোনার সদর উপজেলা, আটপাড়া উপজেলা সদর, কলমাকান্দা সদর ও চন্দ্রডিঙ্গা ইউনিয়নে বারসিক, নেত্রকোনা  সম্মিলিত যুবসমাজ ও  আটপাড়ার সিটি পাইলট উচচ বিদ্যালয়, আটপাড়া সম্মিলিত যুব সমাজ, জানমা উপজেলা কমিটি, আটপাড়া উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটি,চন্দ্রডিঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষ এর যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন মধ্য দিয়ে এই বিশ্ব সংস্কৃতি বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক প্রাণবৈচিত্র্য দিবস পালিত হয়েছে।

এ দিবস পালনে এবং সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন পেশার মানুষ, যুবক, কৃষক, প্রবীণ, কিশোর কিশোরী, নারীসহ নানান মানুষ বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে অংশ নেন। তাদের হাতে সচেতনতামূলক বাণী সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার, প্লাকার্ড শোভা পায়। আলোচনা সভায় অংশ নেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারী কাদরী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক, উপজেলা সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা শহীদুল হক, গাজী মোবারক হোসেন, বারসিকের শংকর ¤্রং, সম্মিলিত যুবসমাজের তপতি শর্ম্মা, আটপাড়া কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক, বানিয়াজন সিটিপাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক আ: হেলিম, মনসুরপুর আ: হামিদ উচ্চবিদ্যালওয়ের প্রধান শিক্ষক সুরঞ্জন সরকার সজল, শিক্ষক DSC04024সাফায়েত আহমেদ সিদ্দিকী তপন, নেত্রকোনা জেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটির সভাপতি সায়েদ আহমেদ খান বাচ্চু, উপজেলা জনসংঠনের সভাপতি আ: ওয়াদুদ খান, মানবাধিকার নেত্রী ফৌজিয়া নাসরিন, কলমাকান্দা উপজেলা প্রেসক্লাবের সম্পাদক ফখরুল ইসলাম খসরু, সাংবাদিক জাফরউল্লাহ, বেসরকারী স্স্থংা ডিসএসকের প্রতিনিধি মুক্তা পারভিন, বারসিক’র মো. অহিদুর রহমান, আলোচনায় আলোচকরা বলেন, “আমরা যে প্রকৃতি থেকে জীবনধারণ করি তার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা থাকলেই প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। প্রাণবৈচিত্র্যর সাথে যেহেতু মানুষের উন্নয়ন জড়িত তাই সকলে মিলে আমাদের প্রয়োজনে সকল প্রাণকে রক্ষা করতে হবে।” তারা বলেন, “প্রাণআছে বলেই আমরা আছি, গাছ আছে বলেই আমরা আছি, সৃষ্টির সকল জীবকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। শ্রদ্ধা জানাতে হবে। সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে হবে”।

বক্তারা বলেন, “বৈচিত্র্যতাই আমাদের জীবন, উন্নয়ন, শান্তি, সমৃদ্ধি। বৈচিত্র্যতা আছে বলেই আমাদের জীবন এত সুন্দর। আমাদের আছে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মানুষে মানুষে বৈচিত্র্য, প্রাণীতে প্রাণীতে বৈচিত্র্য, ভাষার বৈচিত্র্য, জ্ঞানের বৈচিত্র্য, পেশার বৈচিত্র্য, ফসলের বৈচিত্র্য, জীবন যাত্রার বৈচিত্র্য, চিন্তার বৈচিত্র্য, গাছে গাছে, মাছে মাছে, খাবারে বৈচিত্র্য, প্রতিটিরই রূপ, রস, গঠন, আচার, আচরণ, কন্ঠ, সুর, আলাদা, এগুলোকে রক্ষা করা পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বাড়ানো, শ্রদ্ধাবোধের জায়গা তৈরি ও আমাদের জীবনের জন্যই টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন।”

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.