Posted in

মিশ্র ফসল চাষ সফল একটি চাষবাস

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার
বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষ ও বীজ উৎপাদনে বেশ উপযোগী। পেঁয়াজ চাষের বিখ্যাত জেলার মধ্যে মানিকগঞ্জ অন্যতম। এ কারণে মানিকগঞ্জ জেলার ৭ টি উপজেলার মধ্যে ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, দৌলৎপুর, সিংগাইর, সাটুরিয়া ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ হয়। পেঁয়াজ চাষ করে ফসল ও মোট উৎপাদন বৃদ্ধি করা যায়। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করা যায়। আমাদের দেশে প্রায় সব মসলা ফসলের চাহিদা উৎপাদনের চেয়ে কম। পেঁয়াজ উৎপাদন ভালো হলে অধিক মুনাফা অর্জনে রাখা সম্ভব হলেও ভারত-বার্মার পেঁয়াজের কারণে বাজারের দর নিয়ে কৃষকরা হতাশার অভিমত ব্যক্ত করেন!


তবে এবার পেঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ায় তারা অনেকটাই উৎসাহী হয়ে পেঁয়াজ আবাদে ঝুঁকছেন। ঘিওর উপজেলার গাংডুবী কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রফুল্ল মন্ডল (৭০) বলেন, ‘পেঁয়াজ চাষ করতে যেমন আবহাওয়া প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন সেচ ও জল নিষ্কাশন। পেয়াঁজ চাষে দোআঁশ ও পলিযুক্ত মাটি, প্রচুর আলো, সহনশীল তাপমাত্রা এবং মাটির উপযোগী রস প্রয়োজন।’ প্রবীণ কৃষক প্রফুল্ল মন্ডল তাঁর কৃষি জ্ঞানের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রথমে পেঁয়াজের জাত নির্ধারণ করেন।


বীজ বপনের জন্য তিনি ১২০ শতাশং জমিতে গোবর ও খৈল প্রয়োগ করে ৬ কেজি তাহেরপুরী পেঁয়াজের বীজ বপন করেন। বীজ বপনের সাত দিন পর জল ছিটিয়ে দেন। এভাবে তিনি ৩৫-৪০ দিনের চারা ৯০ শতাংশে জমিতে বপন করেন। মোটামুটি তাঁর ভালো ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত তিনি ১৫ হাজার টাকার পেয়াঁজ বিক্রি করেছেন বলে জানান। তিনি আশা করছেন প্রতি শতাংশে জমিতে আরো ৬০ কেজি করে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৪-৫ লাখ টাকা হবে।


গাংডুবীর এই প্রবীণ কৃষককে দীর্ঘদিন যাবৎ বারসিক মিশ্র ফসল চাষের পরামর্শ দেয়। বারসিক’র পরামর্শ মতে তিনি পেঁয়াজের সাথে সাথী ফসল হিসেবে মিষ্টি লাউয়ের বীজ বুনে দিয়েছেন এবং পেঁয়াজের জমির চারদিকে বড় সজ ও কালিজিরা বুনে দিয়েছেন। এই সাথী ফসল চাষ করার মধ্য দিয়ে তাঁর লাভই হয়েছে। কারণ সজ ও কালিজিরার গন্ধে তার পেঁয়াজে পোঁকার আক্রমণ কম হয়েছে এবং এই সাথী ফসলগুলো তাঁর পেঁয়াজের জমিতে বেড়ার কাজ করেছে বলে তিনি জানান। কৃষক প্রফুল্ল মন্ডল বলেন, ‘আমি সত্যিই আনন্দিত যে, মিশ্র ফসল অনুশীলন করে আমার বাড়তি খরচ কমেছে এবং সাথী ফসলগুলো বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পেরেছি। বারসিক’র পরামর্শ আমার অনেক কাজে লেগেছে।’ এখন অনেক কৃষক তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আসেন কীভাবে মিশ্র ফসল চাষবাস করা যায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.