সাম্প্রতিক পোস্ট

উপকূলীয় রান্না উৎসব

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে রুবিনা, মনিকা, ফজলু ও বিশ্বজিৎ মন্ডল

প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণ নানান গুণে ভরপুর। সেটা হোক উদ্ভিদ কিংবা কোন প্রাণী। এসকল উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্য বাংলাদেশের নগর, বন্দর, পাহাড়-পর্বত ও বনায়নে সব অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়ে থাকে। সেগুলোকে আমরা পৃথিবীতে নানান কাজে ব্যবহার করে থাকি। কখনো খাদ্য হিসেবে, কখনো ঔষধি হিসাবে। উপকূলীয় এলাকায় নানান ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য রয়েছে। এ সকল উদ্ভিদ ও প্রাণবৈচিত্র্যের ব্যবহার, সংরক্ষণ, উৎপত্তি স্থল, সম্প্রসারণ এবং নতুন প্রজন্মের নিকট পরিচিতিকরণসহ সকল স্তরের মানুষকে সচেতন করা জরুরি। সরকারি-বেসরকারিভাবে এগুলো সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা উচিত।


এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই সম্প্রতি উপকূলীয় এলাকার স্বেচ্ছাসেবক টিম সিডিও ইয়ুথ টিমের উদ্যোগে ও সিডিও ইয়ুথ টিমের বিভিন্ন ইউনিটের সার্বিক সহায়তায় কলবাড়ি গ্রামের টিমের নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে দিনব্যাপী রান্না উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। রান্না উৎসবে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ছেলেমেয়েরা অংশগ্রহণ করেন। রান্না উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যমুনা টিভির স্পোটস রিপোটার মো. সালাউদ্দীন সুমন। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমটির সভাপতি কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক শেখ সিরাজুল ইসলাম, ফুড নেটওয়ার্ক এগ্রো লিমিটেড এর পরিচালক মো. আরাফাত রহমান হিরা, বারসিক কর্মকর্তা বিশ^জিৎ মন্ডল সহ প্রমুখ।

রান্না উৎসব কর্মসূচিতে খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করেন এবং বিচারক হিসাবে স্পোটস রিপোটার যমুনা টিভির মো. সালাউদ্দিীন সুমন ও তার স্ত্রী সানজিদা তন্নী এবং উপজেলা জনসংগঠন সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম। দিনব্যাপি উৎসবমূখর পরিবেশে বিভিন্ন ইউনিয়নের যুবরা বিভিন্ন স্থান থেকে বিভন্ন অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, দেশীয় বিভিন্ন সবজি, হাঁস-মুরগি, মসলা, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ-কাকড়া ভিন্ন ভিন্নভাবে রান্না করে প্রদর্শন করেন। এগুলো এলাকাতে কেমন প্রাপ্তি, এগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণ, রান্নার বিভিন্ন সমস্যা প্রত্যেকের আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা সহভাগিতা করেন। রান্না উৎসবে তিন সদস্যের বিচারক মন্ডলী রান্নাগুলো বিচার বিশ্লেষণ করে ফলাফল ঘোষণা করেন। রান্না উৎসবে গাবুরা ইউইনিয়নের যুবরা প্রথম, মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের যুবরা দ্বিতীয়, কাশিমাড়ি, শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ও বারসিক যৌথভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।


রান্না উৎসবে অংশগ্রহনকারী যুবরা বলেন, ‘আমাদের নতুন অভিজ্ঞতা হলো। আজ এখানে এই উৎসবের মধ্যে দিয়ে আমাদের সম্পর্কগুলো আরো সুদৃঢ় হলো। ২০২০ সাল শেষ হয়ে যাচ্ছে আর এই শেষটা আমরা খুব ভালো একটি কাজ করে শেষ করতে পারছি। আমরাই সচেতন হলে সব কিছু রক্ষা করা সম্ভব হবে।’


অনুষ্ঠানের সভাপতি গাজী আল ইমরান বলেন, ‘বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ২০০১ সাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থেকে অচাষককৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। তাদের এ কাজ দেখে অনুপ্রাণীত হয়ে আজ আমরা এ কর্মসূচি আয়োজন করেছি। বিভিন্ন সম্পদ সংরক্ষণ হোক এবং তার বিকাশ ঘটুক এটা আমাদের সকলের চাওয়া। বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যুবদের অনুপ্রাণিত করতে পারলে তারা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: