Posted in

পরিবেশ সুরক্ষায় সবারই দায়িত্ব আছে

নেত্রকোনা থেকে সুমন তালুকদার,খাদিজা আক্তার,হেপী রায়, পার্বতী রাণী, গুঞ্জন রেমা,রোখসানা রুমি

একটাই পৃথিবী। আসুন বাঁচি প্রকৃতির ছন্দে। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বারসিক নেত্রকোনা অঞ্চলে সপ্তাহব্যাপী পরিবেশ বন্ধুদের নিয়ে নানা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে রাজেন্দ্রপুর গ্রামে অচাষকৃত খাদ্যমেলা, পরিবেশ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতার পুরষ্কার প্রদান, গাছের চারা বিরতণ, মুক্তার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগিতা, লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের দরুন হাসামপুর গ্রামে নারীদের অংশগ্রহণে গ্রামীণ খাদ্য ও ফলমেলা, দেওপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বৃক্ষরোপণ ও প্রকৃতি রক্ষায় শপথ, দরুণবালি সবুজ গ্রামে সাজনা গ্রাম ও আশুজিয়া ইউনিয়নের নগুয়া নিমগ্রামে নীমের চারা রোপণ, সবুজ ক্যাম্পাস রাজুরবাজার কলেজিয়েট স্কুলে পরিবেশ রক্ষায় স্কুল পর্যায়ে বক্তৃতামালা, কলমাকান্দা উপজেলার পাতলাবন গ্রামে আদিবাসীদের নিয়ে বালুময় স্থানে বৃক্ষরোপণ, মদন উপজেলায় উচিতপুর মদন রাস্তায় সৌন্দর্য্যবর্ধন গাছ রোপণ ও দুর্গাপুরের সেভ দ্যা এ্যানিমেলস অব সুসং সংগঠন ও বৃক্ষপ্রেমিক আ: হামিদ পরিবেশবন্ধু সম্মাননার মাধ্যমে পরিবেশ দিবসের সমাপ্তি করা হয়।

রাজেন্দ্রপুর গ্রামবাসি, বারসিক ও পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোনা যৌথভাবে রাজেন্দ্রপুর আইপিএম ক্লাবের হলরুমে আলোচনা, অচাষকৃত খাদ্যমেলা, গাছবিরতণ ও রচনা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদ। রাজেন্দ্রপুর আইপিএম ক্লাবের সভাপতি কামরুল হাসান বাদশা। বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: অহিদুর রহমান, সহযোগি সমন্বয়কারী শংকর ¤্রং, মোক্তাল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী, কিশোরী সংগঠনের সদস্যসহ গ্রামের উদ্যোগী নারীরা। অচাষকৃত খাদ্যমেলায় সর্বোচ্চ ৪৭ জাতের খাদ্যসম্পদ প্রদর্শন করা হয়।
লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের দরুণ হাসামপুর গ্রামের নারীদের অংশগ্রহনে গ্রামীণ খাদ্য ও ফলমেলার আয়োজন করা হয়। গ্রামের নারীরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে সংগৃহীত স্থানীয় খাদ্য ও ফল প্রদর্শন করেন। মেলায় ১৯ জন নারী অংশগ্রহণ করেন।

মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলারঘাট থেকে কুলিয়াটি রাস্তা পর্যন্ত দুপাশ দিয়ে কৃষ্ণচূড়া, কাঞ্চন, জারুল, নীম, বহেরা, গর্জনের চারা রোপণ করা হয়। চারা রোপণের উদ্বোধন করেন মদন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ, আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর কমিশনার ঝলমল দাস,ইউপি সদস্য হেলিম মিয়া । কুলিয়াটি যুব সংগঠনের ২২ জন সদস্য এসময় চারা রোপণে সহযোগিতা করেন।
কেন্দুয়ার আশুজিয়া ইউনিয়নের নগুয়া নিম গ্রামের বীজঘর ও ফসলের হাসপাতালের ব্যবস্থাপক কৃষক আবুল কালাম পরিবেশ দিবসকে কেন্দ্র করে আলোচনা, নিম ও কাঁঠাল গাছের চারা বিরতণ, বীজ বিতরণ এর মধ্য দিয়ে দিবসকে উদযাপন করেন। গ্রামের ৬০ জন নারী পুরুষকে কাঠাল ও নিমের চারা দিয়ে সহায়তা করেন। চারা বিতরণে উপস্থিত ছিলেন আশুজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজুরুল হক। রাজুর বাজার কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষার্থীদের সাথে গাছ, পরিবেশ, আমাদের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ লেখক মতিন্দ্র সরকার।

কলমাকান্দা উপজেলার মেঘালয় পাদদেশে পাতলাবন গ্রামে আদিবাসী ফোরামের সদস্যদের নিয়ে আলোচনা ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। গ্রামের নারীপুরুষ ও আদিবাসী ফোরামের সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমতলা ইউনিয়নের দেওপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চিত্রাংকন, প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় শপথ গ্রহণ, আলোচনা ও বৃক্ষ রোপণের মধ্য দিয়ে বিশ্বপরিবেশ দিবস পালান করা হয়।


ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার সাধুপাড়া গ্রামের সাধুপাড়া কৃষক সংগঠন ও জনউন্নয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সাধুপাড়া গ্রামের রাস্তায় ১০০ জামের চারা রোপণ করা হয়। ৫ জুন সমাপ্তি দিনে নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। শহরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিলবোর্ড স্থাপন, মুক্ত আলোচনা, পুরস্কার বিতরণ, গাছ বিরতণ, পরিবেশবন্ধু সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে দিবসটির সমাপ্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোর্শেদা খাতুন, সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনির হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম, নেত্রকোনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মুখলেছুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ মাহমুদ,জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর সরকার, বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: অহিদুর রহমান সাংবাদিকসহ সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বারসিক’র মো: অহিদুর রহমান, শিক্ষা সংস্কৃতি পরিবেশ ও বৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি নাজমুল কবীর সরকার, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মুখলেছুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি তালুকদার। প্রধান অতিথির ভাষণে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ মহোদন বলেন, ‘প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানকে তার মতো থাকতে দিতে হবে। নদীকে, জলাভূমিকে, বনকে, হাওরকে ভরাট, দূষণ থেকে রক্ষা করতে হবে। মানুষ প্রকৃতিকে পরিবর্তন করে অত্যাচার করে প্রাণীকুলকে বিলুপ্ত করছে। আমরা যখন পাহাড় কাটি তখন নিজেরই ক্ষতি করছি। নদী দখল, দূষণ করছি নিজেরই সর্বনাশ ডেকে আনাছি। নদী, বন, পাহাড়কে নিজের মতো থাকতে দিতে হবে। তবেই আমরা ভালো থাকবো।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় সেভ দ্যা এ্যানিমেলস অব সুসং সংগঠন ও বৃক্ষপ্রেমিক আ: হামিদ কবিরাজকে পরিবেশবন্ধু সম্মাননা প্রদান করা হয়। সবশেষে ফলজ, ঔষধি, বনজ গাছ বিরতণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মনির হোসেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.