সাম্প্রতিক পোস্ট

শামুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে

জালাল উদ্দিন সাঁথিয়া (পাবনা) থেকে

শামুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। শামুককে প্রাকৃতিক ফিল্টারও বলা হয়। কারণ এই প্রাণী প্রাকৃতিকভাবে পানি পরিষ্কার করে বিশুদ্ধ করে তোলে। তবে জীবন ও জীবিকার তাগিদের পাবনার অনেক দরিদ্র মানুষ শামুক নিধনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। পাবনার সাঁথিয়ায় শহস্রাধিক দরিদ্র নারী-পুরুষ বিল-ঝিলের শামুক ও ঝিনুক আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। শামুকগুলো পাঠানো হচ্ছে খুলনায় একটি প্রতিষ্ঠানে। সেখানে সাঁথিয়ার এই শামুকগুলো দিয়ে তৈরি হচ্ছে পোল্ট্রি ও চিংড়ির খাদ্য। অপরদিকে শামুকের খোলস দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাঙ্গাস মাছের খাদ্যও।

samuk image -2

জানা গেছে, সাঁথিয়া উপজেলার সোনাই বিল, মুক্তাহার বিল, গৌরীগ্রামের বিল, ঘুঘুদহ বিল, ধলাই বিল, হাড়িয়া কাহন, মটকা, ডেমরা, ধুলাউড়ি প্রভৃতি জলাশয় থেকে স্বল্প শ্রমে শামুক আনা হচ্ছে। সরেজমিনে এলাকা ঘুরে জানা যায়, গৌরীগ্রাম এর নূর ইসলাম, মনসুর, সাতানির চরের নুরজাহান, মাজেদা, মটকার সুরুজ, খানমাহমুদপুরের মতিন, ভিটাপাড়ার করিম ফকির, সোনাতলার নজরুল, মাঝগ্রামের সবুজ, নাগডেমড়ার ছালাম, আফড়ার রাবেয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র শহস্রাধিক নারী-পুরুষ এসব বিল-ঝিল ও বিভিন্ন নিচু মাঠ থেকে শামুক আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

শামুকের ক্রিয়াকর্মের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রঞ্জন কুমার প্রামাণিকের সাথে আলোচনায় জানা যায়, শামুক পোকামাকড় খায় বলে ধানের উপকার হয়। যে কোন মরা প্রাণীর খোলস মাটির সাথে মিশে জৈবিক সারের কাজ করে বলে উৎপাদন বেশি হয়। শামুক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। তবে শামুক ডিপওয়াটার রাইচের একটি পেস্ট হিসাবে কাজ করে ধানের গোড়া কেটে দেয়, ফলে ধান গাছ মরে যায়।

Samuk image-1FM

কেন শামুক নিধনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন জানতে চাইলে শ্রমিকেরা জানান, বর্ষা মৌসুমে মাঠের কাজ না থাকায় প্রায় বিনা পুঁজিতে ও স্বল্প শ্রমে ভালো আয় করা যায় বলে তারা অন্যান্য কাজ না করে শামুক আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন তাদের আয় হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এদিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কোনমতে জীবনযাপন করা যায়। সাঁথিয়া থানার সামনে, নন্দনপুর, গৌরীগ্রাম, সাতানিরচর, মনমথপুর, পুরানচর, শিবরামপুর, হাড়িয়া, ঘুঘুদহ, বিলমহিষারচর, ডেমড়া, ধুলাউড়ি, পুরাট, জোড়গাছাসহ প্রভৃতি স্থানে ইতোমধ্যে শামুক ক্রয় কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

শামুক ব্যবসায়ী সাঁথিয়া বাজারের জুলহাস, সাতানিরচরের মহির উদ্দিন, বন্দিরামচরের বাতেন মন্ডল এবং গৌরীগ্রামের নুর ইসলাম প্রমুখের কথায় শুধুমাত্র পাবনার সাঁথিয়ায় শামুক নিধনের চিত্র উঠে আসে। তারা জানান, কয়েক বছর হলো তারা এ ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ বস্তা শামুক ট্রাকে করে খুলনা একটি প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে। উপজেলার ক্রয় কেন্দ্রগুলোতে প্রতি কেজি শামুক ৩ থেকে সাড়ে ৩ টাকায় কেনা হচ্ছে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: