Posted in

সম্মিলিতভাবে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান
‘মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে বাঁচার জন্য নিরাপদ থাকার জন্য। আমরা যেসব খাবার খাচ্ছি তার সবই কি নিরাপদ? আসলে ভেজালের এই সময়ে সব খাবারই কি মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ কিনা? যে খাবরাগুলো আমরা প্রতিদিন খাই তা যদি নিরাপদ না হয় তাহলে প্রশ্ন জীবন কীভাবে নিরাপদ থাকবে? কীভাবে মানুষ রোগমুক্ত থাকবে? যদি মানুষ সুষম, ভেজালমুক্ত, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে না পারে তাহলে সে নিরাপদ জীবনের কথা কি ভাবে ভাবতে পারে। ভেজালযুক্ত অনিরাপদ খাবার একজন মানুষকে কি সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম। প্রতিদিন আমরা যা খাচ্ছি তা বিষমুক্ত কিনা ভাবতে হয় প্রতিনিয়ত। যদি খাবারে মধ্যে ভেজালের সংমিশ্রণ ঘটে বা রাসায়নিক সার বিষয় যুক্ত হয় তাহলেই সেটাই হচ্ছে অনিরাপদ খাদ্য। এ খাদ্যগুলোই মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনে।’


বারসিক কৃষকের অধিকার কর্মসূচি প্রকল্পের আওতায় সম্প্রতি বলধারা, ইউনিয়ন কৃষি উন্নয়ন কমিটি ও যুবকল্যাণ উন্নয়ন সংঘের যৌথ আয়োজন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে, সংকট, সম্ভাবনা প্রস্তাবনা ও জৈব বাজার সক্রিয়করণে উৎপাদক, ভোক্তা ও বাজার কমিটির সাথে সংলাপে উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন আলোচক যুব সদস্য মনির হোসেন।


সংলাপে ব্রী কালিয়াকৈর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ডাঃ আব্দুল জলিল বলেন, ‘বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য জরুরি হলেও তার চেয়ে বেশি জরুরি নিরাপদ খাদ্য। অনিরাপদ তথা ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য ও নিরাপদ পানীয় ভাবনা আজ বিশ্বব্যাপী দারুণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে মানবজাতিকে। এ ভাবনা থেকে অর্থাৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে নিরাপদ খাদ্য এবং পুষ্টির গুরুত্ব সম্পর্কে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের দেশে বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার না পাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে-ফসলে রাসায়নিক সার, কীটনাশকের ব্যাপক প্রয়োগ এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। একই সঙ্গে মজুতদার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা খাদ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক তথা ফরমালিন, ক্যালসিয়াম, কার্বাইড, কীটনাশক, কাপড়ের রং, মিশ্রিত তেলসহ নানা ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপকরণ, হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক খাদ্যে মেশানো অন্যতম কারণ।’


বলধারা ইউনিয়ন কৃষি উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, ‘অনিরাপদ খাদ্য শুধু স্বাস্থ্যে ঝুঁকিরই কারণ নয়, বরং দেহে রোগের বাসা বাঁধারও অন্যতম কারণ। তাছাড়া জমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার বিষের ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট করে। খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার দ্বার পর্যন্ত খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত রাখা একটি বড় সরকারি ও বেসরকারি দায়িত্ব।’ যুব কল্যাণ উন্নয়ন সংঘের সভাপতি শামিম হোসেন বলেন, ‘অধিক জনসংখ্যার মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়ার চ্যলেঞ্জ নিতে গিয়ে কৃষি পণ্যের গুণগত মান যাচাই বাছাই করার সুযোগ আমাদের নেই। ফসলের উৎপাদেনের জন্য রাসায়নিক সার, কীটনাশক, হরমোন এন্টিবায়োটিক এর উপর নির্ভর হয়ে গেছে আমাদের কৃষি ব্যবস্থাপনা।

উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো: মিরাজ বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য কৃষককে স্বাস্থ্যসম্মত চাষাবাদ সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন, যথাযথ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুমোদন ছাড়া ফসলে কীটনাশক ব্যবহার করা যাবে না। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরিু তেমনি খাদ্যের মান ঠিক রাখতে সরবরাহকারীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিক্রয় ও ভোক্তার খাদ্য গ্রহন প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’


স্থানীয় ইউ পি সদস্য মোঃ হায়দার আলী তারা বলেন, ‘যে খাদ্য আমরা জীবন বাঁচানোর জন্য খেয়ে থাকি তা যদি রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হয়, তাহলে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা কোথায়। তাই সময় এসেছে এই নীরব ঘাতকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।’ নিরাপদ সবজি চাষি সন্তোষ মন্ডল বলেন, ‘শাকসবজিতে বিকেলে কীটনাশক দিয়ে সকালে তা বিক্রি করছেন কৃষকরা। কেউ এটা জেনে করছেন, কেউ খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে করছেন। সে কারণেই এসব খাদ্য খুবই অনিরাপদ।’

আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কৃষক মোস্তাফা, বারসিক কর্মকর্তা শিমুল কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.