Posted in

ব্রি ও বিনাকে স্থানীয় ধানের চারা সহায়তা করলো সেবা কৃষক সংগঠন

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডলঃ
কোন একটি সংগঠনের সাফল্য বা টিকে থাকা না থাকার পেছনে বহু বিষয়ের অবদান থাকে। একটি সংগঠন কোন পটভূমি বা প্রক্রিয়ার মধ্যে গড়ে উঠেছে তা থেকে শুরু করে এর পরবর্তী ব্যবস্থাপনা এবং কর্মকান্ডের উপর তা নির্ভর করে। তেমনিভাবে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার হায়বাতপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠন হায়বাতপুর সেবা কৃষক সংগঠন। ২০০২ সাল থেকে কৃষি ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়নের জন্য কৃষকদের একত্রিত করে এই সংগঠন তৈরি করেন। উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের নিয়ে প্রতিটি মৌসুমে সভা করে সম্মিলিত উদ্যোগে ফসল চাষ করার চেষ্টা করেন। নিজ গ্রামসহ অন্যান্য গ্রামে কৃষকদেরর সকল প্রকার বীজের চাহিদা পূরণে সর্বান্তক সহযোগিতা করেন। সংগঠনের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়ে বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় করেন।
কৃষকদের বীজ নিরাপত্তার কথা ভেবে ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্টান বারসিক’র সহায়তায় এলাকা উপযোগী ধানের জাত নির্বাচনে স্থানীয় জাতের বীজ সংগ্রহ করে সংগঠনের অভিজ্ঞ কৃষকদের নিয়ে কাজ শুর করেন। গড়ে তোলেন “স্থানীয় জাতের বীজ ব্যাংক’।


আর সেখান থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় ধান জাত সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলমান রেখেছে। এবছর মোট ১৬৮টি জাত নিয়ে গবেষণাটি পরিচালনা হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে কৃষকদের মাঝে নিজের সংরক্ষিত বীজ এবং উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে কৃষকদের নানানভাবে সহায়তা করছেন। বিষয়টি এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তা প্রচারিত হয়েছে। অনেকেই এলাকা এবং এলাকার বাইরে থেকে এসে তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করেন।


সম্প্রতি আমন মৌসুমে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয় বিনেরপোতা সাতক্ষীরা তাদের গবেষণার জন্য ধানের পাতা সহায়তার আবেদন জানান। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)কে ৯২টি স্থানীয় ধান জাতের চারা এবং গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)কে ১৫৯টি জাতের চারা সহায়তা করা হয়।


বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) পক্ষ থেকে মিজানুর রহমান জাইদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) থেকে তমাল কৃষক সিরাজুল ইসলামের নিকট থেকে স্থানীয় ধানের চারাগুলো গ্রহণ করেন।


এ বিষয়ে ধান সংগ্রহকারী বিনা ও ব্রি কর্মকর্তারা জানান, ‘এটি একটি ভালো কাজ। আমরা সেবা সংগঠন ও বারসিককে ধন্যবাদ জানাই। তাদের যেকোন প্রয়োজনে আমরা সব সময় সহায়তা করবো। আমরা এ জাতগুলো নিয়ে আমাদের নিজস্ব কার্যালয় জার্মপ্লাজম সেন্টারে সংরক্ষিত ধানের স্থানীয় জাতের সঙ্গে মিলিয়ে পরীক্ষা করে দেখবো।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.