সাম্প্রতিক পোস্ট

তাপ কমে,পুষ্টিও মেলে

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাঁধাইর ইউনিয়ন ভৌগলিকভাবে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে পরিচিত। পানির সংকটের কারণে এখানে ফসল চাষসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাধাপ্রাপ্ত হয় স্বাভাবিক জীবনযাপনে। এই ইউনিয়নের একটি গ্রাম তেলোপাড়া। এই গ্রামেই ১৩টি সাঁওতাল, মুন্ডা, বর্মণ আদিবাসী পরিবার সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি করে ঘর বরাদ্দ পেয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। জায়গাটি ফাঁকা এবং কোন গাছপালা ছিলো না। শীতের সময় এখানে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন বলে বরেন্দ্র খরতাপ সেভাবে অনুভব করেননি বলে জানালেন বসবাসকারী রুমেলা রানী মুন্ডা (৩৪)। আস্তে আস্তে যখন গ্রীষ্মের সময় এলো প্রচন্ড তাপে দিনের বেলা এখানে বসবাস অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে।


বারসিক থেকে এই ঘর পেতে তাঁদের সহযোগিতা করার হয় বলে এখানে বারসিক প্রত্যক্ষভাবে কাজও শুরু করে। শীত শেষ যখন গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষের সময় আসে তখন এই ১৩টি পরিবারগুলোতে মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, মরিচ ও পেঁপে চারা ও বীজ সহযোগিতা করা হয়। উদ্দেশ্য ছিলো প্রান্তিক এ পরিবারগুলোতে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সহযোগিতা করা। গত মার্চ-২২ মাসে এ বীজ ও চারাগুলো সহযোগিতা করা হয়। প্রথমেই গাছগুলো পরিকল্পনা করে রোপণ করা হয় যাতে ঘরের চালায় উঠিয়ে দেওয়া যায়। আস্তে আস্তে গাছগুলো বড় হতে থাকে এবং ঘরের চালায় উঠে যেতে থাকে। আর এখন চালার উপর গাছগুলো সবুজের একটি আস্তরন তৈরি করে নিয়েছে। সম্পতি সেখানে একটি গ্রাম সভায় সেখানে যাওয়া হয় এবং দেখা যায় ঘরের চালাগুলো যেন সবুজের একটি চাঁদও বিছিয়ে রেখেছে এর মাঝে মাঝে মিষ্টি কুমড়া ধরে আছে। ঘরগুলোর পাশে বেগুন ও মরিচ ধরে আছে। পেঁপে গাছগুলো বড় হচ্ছে কয়েকটাতে ফুলও এসছে। এ বিষয়ে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের আলতী সরেন(৪৫) বলছিলেন, ‘আমাদের এখানকার কারও আর মরিচ বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া কিনে খেতে হয় হয়। পালা করে মিষ্টিকুমড়া সংগ্রহ করে সবাই ভাগ করে নিয়ে রান্না করি। যার যতটুকু মরিচ প্রয়োজন তা গাছ থেকে তুলে নিয়ে রান্নার কাজে লাগাই।’


গ্রীষ্মকালে প্রকৃতি এখন রুক্ষ এবং রোদে প্রচন্ড তাপ থাকায় আশ্রয়নের ঘরগুলোর টিনের চালা তারাতারি গরম হয়ে ঘরগুলোর তাপ বৃদ্ধি হয়ে যায়। কিন্ত এখন প্রতিটি ঘরে মিষ্টি কুমড়ার গাছ গুলো সবুজের আস্তরন তৈরি করায় ঘরের মধ্য আর তেমন তাপ আসে না বলে বলছিলেন আশা রানী (৫০)। তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য এ কাজটি খুবই ভালো হয়েছে আমরা একদিকে খাবার পাচ্ছি অন্যদিকে গরমে ঠান্ডাও থাকছে ঘরগুলো।


জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যখন চারিদিকে উতপ্ত হচ্ছে তখন কিছু মানুষ নিজেদের কাজের মাধ্যমেই তা মোকাবেলা করে টিকে থাকছে। তেলোপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ছোট্ট একটি কাজ তেমনই একটি উদাহরণ। আবার তারা পরিকল্পনাও করছে জুন-জুলাই মাসে যখন গাছ লাগানোর সময় আসবে তখন বড় বড় গাছ হয় যেমন বট, পাকুর, মেহগনী জাতের গাছের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করে সামাজিক বনায়ন সৃষ্টি করার।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: