Posted in

মানসিক সুস্থ্যতাই শারীরিক স্বাস্থ্য

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বারসিক এর উদ্যোগে দিলারা মোস্তফা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ এ পালিত হলো বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০১৮। দিবসকে কেন্দ্র করে কর্মসূচির শুরুতেই ছিল নিরাপদ খাদ্য ও ভেজাল খাদ্য বিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টরী প্রদর্শন। ডকুমেন্টরী প্রদর্শন শেষে আলোচনা সভা। আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন শারমিন সুলতানা, প্রধান শিক্ষক, দিলারা মোস্তফা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ডা: উত্তম কুমার সরকার, এম ও ডিসি, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, মানিকগঞ্জ।

সভার শুরুতেই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে অনেক ত্রুটিপূর্ণ শিশু জন্মগ্রহণ করে। এর জন্য মায়েরা কোন ভাবেই দায়ী নয়। দায়ী হচ্ছে দূষিত পরিবেশ ও ভেজাল খাদ্য। সর্বত্রই খাবারে ভেজাল মিশে আছে। এই ভেজাল খাবার গ্রহণ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “শিশুদের সুন্দরভাবে বিকাশের জন্য তাদের বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এখানে যেসব শিশু আছে তারা অনেকেই ভাল নাচে, গান গায়। বারসিক এই ধরণের প্রতিভাকে সামনে নিয়ে আসতে চায়। এই বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা যাতে মূলধারায় যুক্ত হতে পারে সেই অধিকার বাস্তবায়নে বারসিক কাজ করে যাচ্ছে।”

43573305_304713776784448_2175534599101218816_nপ্রধান অতিথির বক্তব্যে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের এম ও ডিসি ডা: উত্তম কুমার সরকার বলেন, “আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এমন একটি দিনে এই রকম প্রোগ্রাম সত্যিই ভাল উদ্যোগ। এখানে মায়েরা যারা আছেন তাদের কষ্ট অনেক জানি। কিন্তু আপনারা আপনাদের সন্তানদের সাথে কখনও খারাপ আচরণ করবেন না যাতে তারা বুঝতে না পারে তারা অন্য ভাই-বোনদের চেয়ে আলাদা। তাহলে তাদের উপর মানসিক চাপ পড়বে যা তার শারীরিক সুস্থ্যতার ক্ষেত্রেও বাঁধার সৃষ্টি করবে। বাচ্চাদের নিয়মিত কাউন্সিলিং করবেন। দেখবেন তারাও বুঝতে পারবে।” সমাজ সেবা কর্তৃক প্রদানকৃত বিভিন্ন সুযোগ- সুবিধা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তিনি প্রধান শিক্ষককে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান। সেই সাথে এই ধরণের প্রোগ্রামে সব সময় পাশে থাকার আহবান জানান।

বিশেষ অতিথিন বক্তব্যে স্যাক এর সভাপতি এ্যাড. দীপক কুমার ঘোষ বলেন, “এই অটিস্টিক শিশুরা বিশেষ কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী হয়ে থাকে। তাদের সুযোগ দিলে তারাও একদিন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। আমাদের ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। মনোবল হারালে চলবে না। সাহসিকতার সাথে এই কঠিন বাস্তবতা আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। তাদের সামনে চলার ক্ষেত্রে আমাদের সকলের সহযোগিতা করতে হবে।”

43669741_1860898377281334_1654176842686398464_nসভাপতির বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন সুলতানা বলেন, “আজকের এই প্রোগ্রাম সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। এই শিশুরা অনেক অবহেলিত। তাদের উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নেই। চিকিৎসা সেবাও তারা সঠিকভাবে পায়না। এই ধরণের বাচ্চাদের মানসিক ভাবে ডাক্তারী পরীক্ষা করা দরকার। আজকে এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাচ্চারা অনেক আনন্দ পেয়েছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ঘটবে।” তিনি এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ডা: উত্তম কুমার সরকারকে অনুরোধ জানান।

আলোচনা সভা শেষে অটিস্টিক শিশুদের অংশগ্রহণে নাচ, গান ও খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার এবং অংশগ্রহণকারী সকলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অটিস্টিক শিশু, অভিভাবক, শিক্ষকসহ ৮৫ জন উপস্থিত ছিলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.