সাম্প্রতিক পোস্ট

অনিন্দ্য সুন্দর ফুল দুপুরমনি: দুপুরে ফোটে- বিকালে ঝড়ে যায়

অনিন্দ্য সুন্দর ফুল দুপুরমনি: দুপুরে ফোটে- বিকালে ঝড়ে যায়

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) ॥

অরুণ রঙের অনিন্দ্য সুন্দর ফুল দুপুরমনি। ফুলটি বড্ড নিয়মের দাস। ফোটে দুপুরে, ঠিক ১২টায়। এজন্য এর নাম দুপুরমণি। এটি এক বুনো প্রকৃতির অনাদৃত গাছ। তবে রক্তরাঙা ফুলগুলো যখন ফোটে তখন কিন্তু আর এর সৌন্দর্যকে উপেক্ষা করা যায় না। টকটকে লাল, পিরিচের আকৃতিতে ছোট ছোট ফুল ফুটে গাছ আলো করে।

এই ফুল দুপুর সময়ে ফোটে। আবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেই ধীরে ধীরে নেতিয়ে পড়ে। ফুলপ্রেমি বা সৌখিন রুচি সম্পন্ন ব্যক্তিরা এটি বাগানের শোভা বর্ধনের জন্য বাড়ির সামনে বা বাগানে রোপণ করে থাকেন। ভেষজ চিকিৎসায় এই গাছের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। একে কেউ বলেন দুপুরচন্ডি। আবার কেউ ডাকেন দুপুর মালতি নামে। এছাড়াও এই ফুল অঞ্চলভেদে বহুনামে পরিচিত। এছাড়াও প্রচলিত বন্ধুক, কটলতা বন্ধুলী, দুপুরচণ্ডি বহুনামেই পরিচিত। তার মধ্যে Middaz Flower, Scarlet Mallow, Copper Cups, Florimpia, Noon Flower, Scarlet Pentapetes, Scarlet phoenician নামগুলো উল্লেখযোগ্য।

Dupur Moni flower 2

বাংলাদেশ প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনোমিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “দুপুরমনি গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Pentapetes phoenicea যা Malvaceae পরিবারের একবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর আদিনিবাস দক্ষিণ এশিয়া; পরে এটি সমগ্র দুনিয়াতে বিস্তার লাভ করেছে। একহারা লম্বা গাছ, কোমর সমান উঁচু, ডালপালা কম, কিনার কাটাকাটা, আগা সরু। পাতাগুলো ৬ থেকে ১০ সেমি হয়। ফুল ২ সেন্টিমিটার চওড়া. পাঁচটি চ্যাপ্টা পাপড়ি, সিঁদুরে লাল, কখনো হালকা গোলাপী বা সাদা। কোন গন্ধ নেই। ৫ প্রকোষ্ট বিশিষ্ট গোলাকৃতি ফল হয়, প্রতিটি প্রকোষ্ঠে ৮- ১২ টি করে বীজ থাকে।”

সৌখিন ফুলপ্রেমি নাহিদা জেনী জানান, পাপড়ির সঙ্গে চিকন ফিতার মতো লকলকে কয়েকটি উপাঙ্গ দুপুরমনি ফুলের শোভা বৃদ্ধি করে। এর কাণ্ড সাধারণত ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট হয়। শাখাগুলি লম্বা এবং বেশ ছড়ানো। ফুলগুলো দুপুরে ফোটে আবার বিকোলেই ঝরে পরে। বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এ ফুলের জুড়ি মেলা ভার।

Dupur Moni flower

পথের ধারে, পরিত্যক্ত জঙ্গলে শুষ্ক স্থানে অনেকটা অবহেলায় এই গাছটিকে বেড়ে উঠতে দেখা যায়। এই গাছ পানি জমে থাকে এমন স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে কিংবা খুব ছায়াযুক্ত স্থানে খুব বেশিদিন বাঁচতে পারে না। সাধারণত বীজ রোপণের মাধ্যমে এর বংশবৃদ্ধি হয়ে থাকে। তবে সৌখিন ফুল চাষীরা তাদের বাগানে, ছাদে, টবে কিংবা পার্কে এ ফুল গাছ লাগানো হয়ে থাকে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: