Posted in

শিশুদের জন্য কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ শৈশব দিতে হবে

মানিকগঞ্জ থেকে মো. মাসুদুর রহমান

‘শিশুদের জন্য কীটনাশকমুক্ত নিরাপদ শৈশব চাই’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা মিলনায়তনে খেলাঘর, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম এবং বারসিক’র যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক শিশু দিবস পালিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক জগদীশ চন্দ্র মালো মহোদয়ের সভাপতিত্বে ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মো: শফিকুল ইসলাম। এছাড়া শিশু দিবস অনুষ্ঠানে বারসিক কর্ম এলাকার (সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ পৌরসভা ) প্রায় শতাধিক শিশু ও অভিভাবকগণ অংশগ্রহণ করেন।

শিশু দিবসে উপলক্ষে আয়োজিত মুক্ত সংলাপে প্রধান অতিথি বলেন, ‘আমরা সবাই শিশু ছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের ঘরে শিশু রয়েছে। শিশুরাই আগামী দিনের কান্ডারী। শিশুদের নিরাপদ ভবিয্যৎ গড়ার দায়িত্ব আমাদের। ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খেলনা, খাবার ও পোষাক যাতে নিরাপদ হয় সে দিকে অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিকর রাসায়নিক শুধু শিশুদের জন্যই নয় বড়দের স্বাস্থ্যের জন্যও হুমকিস্বরূপ। শুধুমাত্র নিজেদের চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকলে চলবেনা। শিশুদেরকে সময় ও গুরুত্ব দিতে হবে।’

স্যাক এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাড. দীপক ঘোষ বলেন, ‘আমরা শিশুদের কলকাকলী করতে দেইনা, গান গাইতে দেইনা, খেলতে দেইনা উল্টো ভয় দেখাই, শিশুদের জন্য মুক্ত বাতাস, নিরাপদ খাদ্য, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা আমাদের দায়িত্ব।’

শ্রীমতি লক্ষী চ্যাটার্জি বলেন, ‘সময় বাঁচানোর জন্য আমরা তাদের খাবার কিনে দিই, যা মোটেও নিরাপদ নয়। শিশুর উপযোগি খাবার আমাদের তৈরি করে দিতে হবে।’ তিনি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের কথা মনে করিয়ে দেন আজ তাকে তার অধিকার ছেড়ে দিতে হবে।


এছাড়া আরো আলোচনা করেন প্রভাষক বাসুদেব সাহা, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক সুদেব সাহা, মো: ইকবাল হোসেন, বারসিক’র পরিচালক পাভেল পার্থ ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ ।

উল্লেখ্য, এর আগে বারসিক’র আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়ের স্বাগত বক্তব্যের পরে দিবস উদ্যাপনের শুরুতে আগত শিশুরা কবিতা আবৃতি ও গান গেয়ে দিবসকে প্রাণবন্ত করে তোলে। এছাড়া শিশুদেরকে আপনজালা উদ্ভিদের পরিচিতি ও বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। দিবসকে সামনে রেখে সপ্তাহব্যাপি গ্রাম পর্যায়ে শিশুরা যে সকল চিত্রাংকন করেছিল সেগুলো তারা গ্যালারিতে প্রদর্শন করে খুবই আনন্দিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ৩টি গ্রæপে চিত্রাংকনকারী শিশুদের পুরুস্কার বিতরণ ও গ্রামীণ কৃষাণীদের হাতে তৈরি পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.