সাম্প্রতিক পোস্ট

নেত্রকোনার ঘুড্ডির কারিগর প্রতিবন্ধি রফিক

নেত্রকোনা থেকে অহিদুর রহমান:
দেশে চলছে মহামারি করোনার জন্য লকডাউন,দেশের স্বাভাবিক কাজকর্ম বন্ধ । আটপাাড়া উপজেলার ষাটকাহন গ্রামের ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম । কৃষিশ্রমিক রফিকের কোন কাজ নেই। কিন্তু তার জ্ঞান,কারিগরি জ্ঞান,ঘুড়ি বানানোর কৌশল, সৌন্দর্য্যবোধ, বৈচিত্র্যতা সকলকে হার মানায়। নেত্রকোনার আকাশ এখন রং বেরংয়ের ঘুড়িতে যেন রঙ্গিন এক আলোর জগত। শুধু দিনেই নয় রাতের আকাশেও মিটমিট করে তারারা জ্বলে। আসলে তারা না লাল,সবুজ,নিল বাতিযুক্ত ঘুড়ি আকাশজুড়ে।
রাতের আকাশে উড়ছে শত শত আলোকিত ঘুড়ি। ঘুড়িগুলোর মধ্যে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে নানা রঙের এলইডি বাতি। জেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নের সকল এলাকার ঘুরে দেখা গেছে এমন ঘুড়ি উড়ানো চিত্র। গত এক মাস যাবত ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ এখন ঘুড়ি উড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। করোনার মধ্যে এই ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য রাতের প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
স্থানীয়রা ইউপি সদস্য মাহাবুব পাঠান জানান, এমন শত শত ঘুড়ি আগে কখনো ওড়াতে দেখেনি তারা, তাও আবার রাতের বেলা। আগে ঘুড়ি ওড়ানো হতো দিনে। এখন দেখছি রাতের আকাশে শত শত ঘুড়ি ওড়ানোর হচ্ছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে আকাশের তারাগুলো বুঝি নিচে নেমে এসেছে।


কলেজ শিক্ষার্থী মিঠু জানান, সবাই ঘুড়ি ওড়াচ্ছে তাই আমরাও তাদের দেখাদেখি (উড়োজাহাজ) ঘুড়ি ওড়াচ্ছি। সবাই মিলে অনেক মজা করছি। তিনি নানা জাতের ঘুড়ি বানান। তার মধ্যে রয়েছে চিল ঘুড়ি, আপেল ঘুড়ি,স্টার, মানুষ ঘুড়ি,প্লেন ঘুড়ি, ঘুড়ি,লাভঘুড়ি,উড়োজাহাজ ঘুড়ি, ঘরঘুড়ি, টিনঘুড়ি, ময়ুর ঘুড়ি, তেলেঙ্গা ঘুড়ি,কোয়াড ঘুড়ি,পেটকাটা ঘুড়ি, ও সাপ ঘুড়ি। একটি বড় ধরনের ঘুড়ি তৈরিতে সময় লাগে দুইদিন। আর তৈরিতে লাগে পলিথিন, বাঁশের চটি,সুতা,,এলইডি বাল্প ও ব্যাটারী।
মঙ্গলসিদ্ধ গ্রামের শামীম বলেন, প্রতিদিন ‘সন্ধ্যার পর ঘুড়ি উড়িয়ে দিই আকাশে। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়, কার ঘুড়ি কত সুন্দর দেখায় এবং কত উপরে ওঠে। সে জন্য যে যার মতো আলোকসজ্জা করে ঘুড়ি আকাশে উড়িয়ে দিই। শুধু রফিক না নেত্রকোনা সদর,আটপাড়া, কেন্দুয়া,এলাকায় অনেক সৌখিন,পেশাদার ঘুড্ডির কারিগর আছেন আটপাড়ার স্বরমুশিয়া গ্রামের ছালাম মানুষঘুড়ি ও প্লেনঘুড়ি,চিল ঘুড়ি তৈরী করে প্রতিটি ৬০০-১০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।


আবু আব্বাস কলেজের প্রভাষক মনিরুল হক বলেন, আগে দেখতাম শিশু কিশোররা দিনের বেলাতে ঘুড়ি উড়াতো। এই করোনা পরিস্থিতিতে সময় কাটানোর জন্য রাতের আকাশে তারা ঘুড়ি উড়াচ্ছে। তাদের দেখে বড়রাও ঘুড়ি উড়ানোর কাজে এগিয়ে এসেছেন। এমন দৃশ্য আগে দেখা যায় নি। হালকা বাতাসে দিন-রাতে আকাশে উড়ছে শত শত ঘুড়ি। যে কাউকে এই দৃশ্য মুগ্ধ করবে। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘুড়ি উৎসবে মেতেছে তারা। আমরা চাই, আমাদের শিশু-কিশোররা এবং যুবকরা এমন সুস্থ বিনোদনের মধ্য দিয়ে এই করোনাকে জয় করুক।

happy wheels 2
%d bloggers like this: