Posted in

কীটনাশক কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ, ক্ষতিগ্রস্ত করছে পরিবেশ

রাজশাহী থেকে শহিদুল ইসলাম শহিদ

রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল গ্রামে স্থানীয় জনসংগঠন ও বারসিক‘র আয়োজনে সম্প্রতি প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায় কীটনাশকের প্রভাব ও উত্তরণ বিষয়ক ‘উঠান বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে কৃষকগণ কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন প্রভাবগুলো তুলে ধরেন। একই সাথে তার ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য দিকগুলো আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরেন।

IMG_20181128_161635
কৃষকরা জানান, চাষক্ষেত্রে কীটনাষক ছাড়া কোন ফসল আমরা উৎপাদন করতে পারিনা। আমাদের প্রধান ফসল আলু ও ধান। এই এলাকায় অন্যান্য ফসল তুলনামূল কম চাষ হয়। ধানে সাধারণত ৪ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এ বছরে কেউ পাঁচ বার পর্যন্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। আলুতে বিগত দশ বছর আগে চারবার বিষ দিলেই হতো, বর্তমানে আট বার করে প্রয়োগ করতে হয়েছে। দিন দিন কীটনাশক ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

IMG_20181128_161743
তারা আরও জানান, কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন করতে গিয়ে মাছ, পাখি, মৌমাছিসহ কিছু প্রজাতি কমে গেছে। কিছু কিছু বৈচিত্র্য আর আমাদের এলাকায় দেখা যায় না। যেমন- শামুখল, কাদোখোচা, হটটিটি, টিয়া, হুটরা পাখি, বালিহাঁস, রাজহাস। বিলে ও খাড়িতে পাওয়া যাচ্ছে না কোন ঝিনুক। এছাড়াও জলাশয়ে কমেছে ব্যাঙ, কুইচা, কাঁকড়া, শামুখ ও কচ্ছপ।

অপরদিকে কীটনাশক ব্যবহার করা শস্য ফসল, শাকসবজি ও ফলমুল খেয়ে গ্যাসট্রিক, ব্লাডপেশার ও ক্যান্সারসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা মনে করেন, উক্ত সংকট থেকে বের হওয়ার জন্য পরীক্ষামুলকভাবে জৈব বলাইনাশক ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা। জৈব বালাইনাশকের উপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করা। পরীক্ষামুলকভাবে কীটনাশক ছাড়াই অল্প জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করা যেতে পারে।

IMG_20181128_161957
উক্ত উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রিশিকুল আনসার ভিডিপি ক্লাবের সভাপতি আয়নাল হক শান্ত, রিশিকুল মেডিকেল পাড়া নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আদরী খাতুন, স্থানীয় কৃষক, কৃষাণী ও সংগঠনের সদস্যগণ। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ ইমরান আলী মন্ডল ও সঞ্চালনায় সহায়তা করেন বারসিক প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম শহিদ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.