Posted in

শুকনা বীজতলা জনপ্রিয় হচ্ছে ঘিওরের কৃষকদের মাঝে

ঘিওর, মানিকগঞ্জ থেকে সুবীর কুমার সরকার

জলবায়ু পরিবর্তন বিশে^র একটি অন্যতম সমস্যা। জলবায়ু পরিবর্তন যেমন চাষাবাদ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করছে তেমনী নানা রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাবে ভ’মিকা রাখছে। গ্রাম বাংলার কৃষক – কৃষাণীরা এ জলবায়ু পরিবর্তনে কোন ভূমিকা না থাকলেও তারাই বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় প্রয়োজন হয়ে পড়ছে অভিযোজন কলা কৌশল। এ পরিপ্রেক্ষিতে শুকনো বীজতলা নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষকদের।

পরিমিত আর্দ্রতা সম্পন্ন ওপরের স্তরের মাটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী গুঁড়া করে শুকনো অবস্থায় অঙ্কুরিত বীজ বপন করে প্রয়োজন অনুযায়ী গোবর ও খইল মিশ্রিত গুড়াঁ মাটির হালকা আবরণ দিয়ে বীজ ঢেকে দিয়ে পলিথিন আবৃত করে চারপাশে মাটির ঢেলা আটকিয়ে সেচবিহীন অবস্থায় চারা উৎপাদনকে শুকনো বীজতলা বলে।


ঘিওর উপজেলার নালী ও বানিয়াজুরী ইউনিয়নের গ্রামের কৃষকদের মাঝে শুকনো বীজতলা পদ্ধতিতে ধানের চারা উৎপাদন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুকনো বীজতলা সাদা পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা পদ্ধতি অবলম্বন করায় কুয়াশায় বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি নেই।


আগের সাধারণ নিয়মে কাঁদার ভিতর ধানের বীজ বুনা হতো। এতে কৃষকের পৌষ মাঘের তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে বীজ তলাতেই বীজ নষ্ট হয়ে যেতো, আর চারার বয়স বীজ তলাতেই বেশি সময় পার হয়ে যেতো (৮০ -৯০ দিন)। এতে জমিতে রোপণের পর ধান ফুলে বের হতো। এতে ফলন কম হতো। এখন শুকনো বীজতলা করতে পেরে কৃষকদের বীজতলা নষ্ট হচ্ছে না। এ পদ্ধতিতে গোবর ও খৈইল মিশ্রিত শুকনো মাটিতে ধানের বীজ ছিটিয়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। কোন রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়াই ২৫-৩০ দিনে উৎপাদন হয় চারা, ধানের ফলন বেশি হয় বলে কৃষকরা জানান।


এই প্রসঙ্গে প্রবীণ কৃষক প্রফুল্ল মন্ডল (৬৫) বলেন, ‘এ সময় চারার কুশি বেশি হওয়ায় ধানের ফলনও বেশি হয়। এছাড়া রোপণের পর বাতাসে সহজে হেলে পড়েনা। ২০১৪ সালে বারসিক’র পরামর্শে শুকনা বীজতলা করি। ফলাফল ভালো দেখে আমি অন্য কৃষকদেরও পরামর্শ দিয়েছি শুকনো বীজতলা করার। এলাকায় ধীরে ধীরে শুকনা বীজতলার দিকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।’

গাংডবী ও কেল্লাই গ্রামের মোকছেদ মিয়া, রফিক মিয়া, শচীন মন্ডল, সুকুমার মন্ডল, আবুল মিয়াসহ অনান্য কৃষকরা শুকনা বীজতলা করে ধানের ফলন বেশি পাচ্ছেন। শুকনা বীজতলা করলে রোগবালাই কম ধরে। শুকনা বীজতলা করতে বাড়ির নারীদের নিয়েই জমিতে ধান বুনা যায়, এতে সময় ও পরিশ্রম কম লাগে।


বোরো মৌসুমে বোরো ধানের ভিজা বীজতলা করলে শীতে নানাবিধ সমস্যা দেখা যায়। তাছাড়া চাষীরা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরো ধানের বীজতলা করে থাকেন। এতে করে মূল জমিতে রোপণের সময় ধানের চারার বয়স ৮০-৯০ দিনের হয়ে যায়। ফলে যে সমস্ত ধানের জীবনকাল কম সে জাতগুলো লাগালে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই থোড় বের হয়ে যায়। চারার বয়স বেশি হওয়াতে কৃষকরা কাঙ্খিত ফলন পান না।
অন্যদিকে শুকনা বীজতলা করলে পানি দিতে হয় না, শীতে চারার কোন ক্ষি ত হয় না, চারা তুলতে বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না, চারার শিকড়ের কোন ক্ষতি হয়না, সঠিক বয়সে সুস্থ সবল চারা জমিতে রোপণ করা যায় বলে কৃষকরা জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.