Posted in

জলবায়ু-উদ্বাস্তু বস্তিবাসীদের জন্য তহবিল ও নগর পরিকল্পনা চাই

বারসিকনিউজ ডেস্ক

‘আমরা ঝুপড়িতে থাকি, বৃষ্টির দিনে পানি পড়ে আর গরমে ফোস্কা পইড়া যায়। ময়লা আবর্জনার ভিতরে কোনোমতে আমরা বাঁচি। আমরা যা কামাই করি সব খরচ হয় ঘরভাড়া আর ঔষধ কিনতে। দশ হাত ঝুপড়ি ঘরেই থাকা, খাওয়া, রান্না সবই করতে হয়। আমরা তো শখ কইরা শহরের বস্তিতে আসি নাই। আমরা নদীভাঙ্গা মানুষ। কিন্তু বস্তিতে আইস্যাও কষ্টের দিন শেষ হইতেছে না।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া (ভিআইপি) মিলনায়তনে গতকাল বারসিক, পবা এবং কাপ আয়োজিত ‘জলবায়ু সংকটে নগর দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে এই বক্তব্য তুলে ধরেছেন মোহাম্মদপুর ঝিলপাড় বস্তির শেফালী আক্তার। শেফালী আক্তারের পাশাপাশি বস্তিবাসী অধিকারকর্মী হোসনে আরা বেগম রাফেজা, প্রাণকমল সরকার, তানিয়া বেগমও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানচ্যুত হয়ে নগরে আসা বস্তিবাসী নগরদরিদ্রদের নানা সংকট ও সমাধানের কথা তুলে ধরেন সংলাপে।

সংলাপে স্থপতি শামসুল ওয়ারেশ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত গৃহহারা আজকের শহরের নগরদরিদ্রদের জন্য বাসযোগ্য নগর ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের মানবিক পরিকল্পনা ও দক্ষ নেতৃত্ব দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আজ কেউ সব হারিয়ে শহরে এসে আরো ঝুঁকিতে পড়বে তা হবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের নামে আজ মানুষের সাথে অন্যায় করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে।’

পবার চেয়ারম্যান বিশিষ্ট পরিবেশবাদী সংগঠক আবু নাসের খান বলেন, ‘ঢাকাসহ দেশের সকল নগর দরিদদ্রের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নগর দরিদ্রদের এলাকায় পরিকল্পিত বর্জ্যব্যবস্থা, বর্জ্য থেকে সম্পদ রূপান্তরের কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পিত নগরকৃষির আওতায় নগর বস্তি ও নগর দরিদ্রদের যুক্ত করতে হবে। নগরবস্তি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিরাপদ বিষমুক্তক খাদ্য উৎপাদনে ভ’মিকা রাখতে পারে আর এজন্য দরকার বহুমুখী সহযোগিতা ও পরিকল্পনা।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী আবদুস সোবহান বলেন, ‘ধনী দেশকে অবশ্যই সবার কার্বণ নির্গমণ বন্ধ করতে হবে, কারণ আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নই। কিন্তু এর জন্য আমরা প্রতিদিন সমস্যায় পড়ছি, নগরেও চাপ বাড়তেছে। আজ নগর বস্তিবাসীদের বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে হলে, সঠিক অভিযোজন কর্মসূচি তৈরি করতে হলে তহবিল দরকার। আর এরজন্য সরকারকে আরো বেশি আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে হবে।’

নগরগবেষক জাহাঙ্গীর আলম ধারণাপত্রে বলেন, ‘নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়ানো এবং সকল ধরণের সরকারি সেবা-সহযোগিতায় তার অভিগম্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে নগরদরিদ্রদের আবাসন, বর্জ্যব্যবস্থাপনা, কৃটিরশিল্পভিত্তিক নিরাপদ কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণসহ উপযোগী অভিযোজন উদ্যোগগুলোকে সহায়তা করু জরুরি।’


উল্লেখ্য, বারসিক’র ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট স্থপতি শাসসুল ওয়ারেস, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর (কাপ) এর সহ সভাপতি মো: মাহবুবুল হক, বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান স্থপতি মোসলেহ উদ্দিন, কাপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবেকা সান ইয়াত, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) এর সাধারণ সম্পাদক মো: তৈয়ব আলী, বাংলাদেশ গ্রীন রুফ মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. গোলাম হায়দার প্রমূখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.