Posted in

নেত্রকোনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও জনসক্ষমতা ও জেন্ডার বিশ্লেষণ’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মানিকগঞ্জ থেকে মো. নজরুল ইসলাম ও আছিয়া আক্তার

গত ১৩ ও ১৪ মার্চ বারসিক’র উদ্যোগে নেত্রকোনায় দুইদিন ব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন, সক্ষমতা ও জেন্ডার বিষয়ক এক কর্মশালার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বারসিক রাজশাহী রিসোর্স সেন্টার, শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টার, মানিকগঞ্জ রিসোর্স সেনটার ও নেত্রকোনা রিসোর্স সেন্টারে কর্মরত মোট ১১ জন নারী ও ১২ জন পুরুষ অংশগ্রহণ করে। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন বারসিক’র সমন্বয়কারী সৈয়দ আলী বিশ্বাস ও পাভেল পার্থ।

IMG_20190314_144001
প্রশিক্ষণের শুরুতেই ভূমিকা অধিবেশনে বারসিক সমন্বয়কারী সৈয়দ আলী বিশ্বাস কর্মশালার উদ্দেশ্য ও দুই দিনের কর্মশালার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে সক্ষালক সৈয়দ আলী বিশ^াস জলবায়ু পরিবর্তন, সক্ষমতা ও জেন্ডার বিষয়ক কর্মশালার কিছু ধারণাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, আপদ, ঝুকি, ঝুকি হ্রাস, দুর্যোগ, বিপদাপন্নতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অভিযোজন, প্রশমন, সক্ষমতা, জেন্ডার, বয়সন্ধিকাল, জেন্ডার সমতা প্রভৃতি। এই ভাবে আলোচনার ভেতর দিয়ে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে অংশগ্রহনকারীদের ধারনাগত স্পষ্টতা তৈরি হয়।

কর্মশালার বিষয়কে সামনে রেখে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে নির্ধারিত পাঁচটি বিষয়ের উপর জনগোষ্ঠী পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা উপস্থাপন ও বিশ্লেষণের জন্য দলীয় অনুশীলনের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়। জনগোষ্ঠীর সাথে দলীয় আলোচনার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ বিষয়ক দলীয় অনুশীলনের জন্য যে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয় সেগুলো হলো- ১. এলাকার বসতবাড়ি বাগানের সমস্যা এবং সমস্যা মোকাবেলায় নারী ও পুরুষের ভূমিকা ২. বয়োঃসন্ধিকালীন ছেলে-মেয়েদের সংকট এবং সংকট মোকাবেলায় মা ও বাবার ভূমিকা ৩. এলাকার জ্বালানি সংকট : সংকট মোকাবেলায় নারী ও পুরুষের ভূমিকা ৪. আবহাওয়ার পরিবর্তন: শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং সমস্যা মোকাবেলায় নারী ও পুরুষের ভূমিকা এবং ৫. এলাকার দুর্যোগ তালিকা: দুর্যোগে কে বেশি সংকটাপন্ন (নারী, পুরুষ, প্রবীণ, শিশু ও শারিরীক প্রতিবন্ধী) এবং কিভাবে?

পাঁচটি দল নেত্রকোনা এলাকার ৫টি গ্রাম থেকে জনগোষ্ঠীর সাথে আলোচনা করে উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর তথ্য সংগ্রহ করে এবং দলীয় অনুশীলনের মাধ্যমে পরিস্থিতি তুলে ধরেন। উল্লেখিত বিষয়ে ৫টি গ্রাম থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে অংশগ্রহণকারীদের উপলব্ধি হয় যে, প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীদের যুক্ততা বেশি থাকলেও অবদানের স্বীকৃতি নারীরা সেভাবে পায়না। অপরদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপর এর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গ্রামীণ নারীরা। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনজনীত কারণে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, আর এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর সাথেই গ্রামীণ জীবন-জীবিকার সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি। তাই এই বিষয়গুলোর সাথে গ্রামীণ নারীর যুক্ততা, অবদান ও মূল্যায়নের বিষয়টি দলীয় অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়। যার ভেতর দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে জেন্ডার সর্ম্পকের সামগ্রিক বিশ্লেষণ উঠে আসে।

2 (10)

কর্মশালার ২য় দিনে বারসিক সমন্বয়কারী গবেষক পাভেল পার্থ জলবায়ু পরিবর্তনে নারী ও পুরুষের জীবনে প্রভাব এবং পরিবর্তন মোকাবেলায নারী পুরুষের ভূমিকা বিশ্লেষণ ও সংকট মোকাবেলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এই পর্যায়ে তিনি জেন্ডার ক্রাঞ্চ মডেল ধারণাটি সকলের সামনে তুলে ধরেন। এই মডেল কিভাবে দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও পুরুষের ভূমিকা বিশ্লেষণে অবদান রাখে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। জেন্ডার ক্রাঞ্চ মডেল আলোচনার প্রেক্ষিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের পুরনায় ৫টি দলে ভাগ করে প্রত্যেক দলকে নিজ কর্মএলাকার চিহ্নিত ৫টি সমস্যার মধ্য থেকে একটি সমস্যাকে জেন্ডার ক্রাঞ্চ মডেল এর আলোকে বিশ্লেষণের জন্য দলীয় অনুশীলন করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি দল অনুশীনের ক্ষেত্রে অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত সমস্যার মূল কারণ, বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক চাপ বা গতিশীল চাপ ও অনিরাপদ অবস্থাগুলো কি তা চিহ্নিত করার জন্য বলা হয়।

৫টি দল দলীয় অনুশীলনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো তুলে ধরে এবং আলোচনা করা হয়। এভাবে দলীয় ভাবে সমস্যা বাছাই করে সুপেয় পানির অভাব, জলাবদ্ধতা, নারীরর কর্মসংস্থানের অভাব, জ্বালানি সংকট, লবণাক্ততার মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যাকে জেন্ডার ক্রাঞ্চ মডেলের আলোকে নারী পুরুষের ভূমিকাকে বিশ্লেষণ করা হয়। সেই সাথে বারসিক তার চলমান কর্মপ্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে কিভাবে অনিরাপদ অবস্থা ও বিভিন্ন ধরনের চাপগুলো মোকাবেলায় জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করতে পারে সেই বিষয়টিও আলোচনা করা হয়। এইভাবে আলোচনা, মাঠ পর্যায়ে দলীয় আলোচনা ও তথ্য সংগ্রহ এবং দলীয় অনুশীলন থেকে শিখনসমূহ সকলের সাথে সহভাগিতার ভেতর দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, সক্ষমতা ও জেন্ডার বিষয়ক দুইদিনব্যপি কর্মশালা সম্পন্ন হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.