সাম্প্রতিক পোস্ট

চিনতে পারলেই অনেক গুণ

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

‘আমাদের আনাচে কানাচে প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ জন্মে। এ সকল উদ্ভিদকে আমরা খোটাশাক, কুড়ানো শাখ বলে থাকি। এ সকল উদ্ভিদ নানান গুণে ভরপুর। প্রত্যেকটার গুনাগুণ যদি বলা হয় তাহলে দেখা যায় কোন ঔষধ আর কেনা লাগে না। তাই তো এ শাক সম্পর্কে মুরব্বিদের কাছে শুনেছি। যে চিনলেই অনেক গুণ, না চিনলেই নেই গুণ।’

pic-1
উপরোক্ত কথাটি বলেছেন কাঠালবাড়ি গ্রামের কৃষাণী আকলিমা বেগম। গতকাল শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের কাঠালবাড়ি গ্রামে কাঠালবাড়ি নারী সংগঠনের উদ্যোগে ও বারসিক’র সহায়তার অচাষকৃত উদ্ভিদের গুণাবলী সম্পর্কে পরিচিতি এবং সহভাগিতাকরণে গ্রাম পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুইজ প্রতিযোগিতায় কাঠালবাড়ি গ্রামের কৃষক, কৃষাণী, শিক্ষার্থীসহ মোট ৪৩ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় অচাষকৃত উদ্ভিদের উপর গ্রামের কৃষক-কৃষাণীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন মেলার মাধ্যমে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছিল সেসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে ২৫টি প্রশ্ন তৈরি করা হয় এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদেরকে দেওয়া হয়।

pic-4
প্রতিযোগিতা উন্মুক্তভাবে করা হয়। সেক্ষেত্রে ২০ জন নারী ও ৮ জন শিক্ষার্থী স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় যারা সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন তারা পর্যায়ক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেন এবং অন্যদেরকে সান্তনা পুরুস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন আফরোজা বেগম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন আকলিমা বেগম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন শিক্ষার্থী খায়রুন্নেছা।

pic-2
কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নারী সংগঠনের সদস্য অযুফা বেগম বলেন, ‘গ্রাম পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন একটি ভালো উদ্যোগ। এভাবে অচাষকৃত উদ্ভিদের পাশাপাশি অন্য বিষয় নিয়ে কুইজ করলে আমরা সকলে অনেক কিছু জানতে পারবো। এবং আমাদের ছেলেমেয়েরা উপকৃত হবে।’ সংগঠনের সভানেত্রী আফরোজা বেগম বলেন, ‘আজকে এ মেলার মাধ্যমে আমরা অচাষকৃত উদ্ভিদ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম। একটা একটা উদ্ভিদের যে অনেক গুনাগুণ রয়েছে তা সকলে জানতে পেরেছি এবং আমাদের মধ্যে এখন থেকে একটি প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হচ্ছে। আমরা এগুলো সম্পর্কে আরো বেশি বেশি জানার চেষ্টা করবো। যে জানা আমাদের পারিবারিক কাজে যেমন লাগবে তেমনি আমরা অন্যদেরকেও জানাতে পারবো।” অংশগ্রহণকারী সালমা, মফিজা, রোকেয়ারা জানান, অচাষকৃত প্রত্যেকটা উদ্ভিদ মধ্যে কোন না কোন গুনাগুণ আছে। তাঁরা এ সকল উদ্ভিদের ব্যবহার ও গুণাবলী নিজেরা জানবেন এবং অন্যদেরকে জানাবেন। তবেই প্রকৃতির সকল উদ্ভিদ সম্পর্কে মমতাবোধ তৈরি হবে বলে তারা মনে করেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: