সাম্প্রতিক পোস্ট

উপকূলীয় এলাকায় মসলা চাষে কৃষকের প্রচেষ্টা

শ্যামনগর সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের জয়নগর ও রমজাননগর ইউনিয়নের রমজাননগর গ্রামের কৃষকরা চলতি মৌসুমে এলাকার জন্য কোন কোন মসলা সবচেয়ে উপযুক্ত তা বাছাই করার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ প্রকার মসলা সংগ্রহ করে তা লাগিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এলাকায় ধান ও সবজি তুলনামূলকভাবে চাষাবাদে কৃষকরা সফল হলেও মসলা চাষে তাদের তেমন কোন সফলতা নেই বললেও চলে। সেক্ষেত্রে কি করে এলাকাতে মসলা চাষের জাত ও পরিমাণ বাড়ানো যায় তা নিয়ে তাদের চেষ্টার কমতি নেই!

মূলত মসলার জাত ও চাষাবাদের পরিমাণ বাড়ানো এবং এলাকা উপযোগী মসলা নির্বাচনের জন্য চলতি মৌসুমে অন্যান্য ফসলের সাথে কৃষকেরা ঝাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, ধনে, জিরা, মৌরি, কালোজিরা, এলাচ জাতগুলো জমিতে লাগিয়ে পরীক্ষণের উদ্যোগ নেন। এই প্রসঙ্গে জয়নগর গ্রামের কৃষানী অর্চনা ও কল্পনা রানী বলেন, “আমাদের এ এলাকাতে বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ হয় এবং মসলার ক্ষেত্রে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মৌরি ও ঝাল জাতের চাষ বেশি হয় প্রায় বাড়িতে। এ জাতগুলো এলাকা উপযোগী এবং উৎপাদন ও মোটামুটি ভালো।”
Presentation1
অন্যদিকে কালেজিরা, জিরা, এলাচ এ জাতগুলো এলাকা উপযোগী নয় বলে তা চাষ করা হয় না এবং এ মসলাগুলো অন্য মসলার চেয়ে দামেও বেশি। এই বিষয়ে রমজাননগর গ্রামের কৃষাণী অঞ্জলী রানী সরকার বলেন, “বাজারে মসলার দাম অন্যান্য ফসলের চেয়ে বেশি থাকে। তাই আমরা গ্রামের কয়েকজন উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ১০টি মসলা জাত সংগ্রহ করে ভিটায় লাগিয়ে দেখছি কোনটা কেমন ফলন হয়। এছাড়া এগুলোর ্্্এলাকার জন্য উপযোগী কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার চেষ্টা করছি।” একই গ্রামের কৃষাণী আন্জুয়ারা বেগম বলেন, “আমাদের এ গ্রামের প্রায় প্রত্যেক বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ হয় এবং আমাদের এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের আয় হয় এ কৃষি কাজ থেকে। তাই ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখানকার কৃষক-কৃষাণীরা লাভজনক ও বাজার চাহিদার উপর ফসল চাষাবাদের চেষ্টা করেন। ১০ ধরণের মসলা জাতের মধ্য থেকে এলাকার জন্য উপযোগি জাত বাছাইয়ের উদ্যোগ অবশ্যই একটি ভালো প্রচেষ্টা।”

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি আজ অনেকটা বিপন্ন। কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণের বিলুপ্তি, লবণাক্ততা এবং চিংড়ি চাষের কারণে কৃষকরা কৃষি থেকে প্রায় নির্বাসিত হতে যাচ্ছেন। এই প্রতিকূলতার মাঝেও কৃষকরা কিছু না কিছু উৎপাদনের চেষ্টা করছেন। এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন মসলা জাতীয় শস্য-ফসল আবাদ তাদের এই অবিরত চেষ্টারই ফসল। কৃষকের এই চেষ্টাই দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সর্বোপরি দেশের খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল করে রাখবে। তাই কৃষকের উদ্যোগের পাশে থেকে সহায়তা করা খুবই ন্যায়সঙ্গত ও জরুরিও বটে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: