Posted in

কুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদে রয়েছে নানা ধরনের ওষুধি গুণাবলী

সিংগাইর, মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান

“নিরাপদ খাবারের গল্প শুনি” শ্লোগানে গতকাল সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের ব্রী-কালিয়াকৈর নয়াপাড়া গ্রামে কুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদের খাদ্য উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রী-কালিয়াকৈর নয়াপাড়া ও বারসিক’র যৌথ সহায়তায় কুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদের রান্না উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রান্না উৎসবে ২২ জন নারী বাড়ির আশেপাশের পালানি জমি থেকে কুড়িয়ে পাওয়া শাকসবজি ও ওষুধিগুণ সমৃদ্ধ উদ্ভিদ সংগ্রহ করেন এবং আলাদা আলাদা চুল্লী স্থাপন করে একসাথে রান্না করেন। স্কুল কলেজের শিক্ষাথীসহ দেড় শতাধিক নারী ও পুরুষ রান্না উৎসব উপভোগ করেন।

IMG_20181030_150654
রান্না শেষে সংগঠনের উপদেষ্টা প্রবীণ কৃষক মো. আশোক আলীর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় রান্না উৎসবের মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরেন বারসিক কর্মকর্তা বিমল চন্দ্র রায়। রান্না উৎসবে নিরাপদ খাবারের গল্প শোনান কৃষাণী রমেলা বেগম, ছালেহা বেগম, হেনা বেগম, কৃষক সাহামুদ্দিন, ছকেল উদ্দিন এবং বারসিক কর্মকর্তা শিমুল কুমার বিশ্বাস, মাসুদুর রহমান প্রমূখ।

IMG_20181030_152225
পাচ বছরের শিশুর মুখে রান্না করা শাক তুলে দিয়ে কুড়িযে পাওয়া উদ্ভিদের গুনাগুণের উপর আলোচনা শুরু হয়। অভিজ্ঞ কৃষক মেছের মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, ‘নিরাপদ খাবারের উৎস হচ্ছে বিভিন্ন পালানী জমি ও বাড়ির আশেপাশে জন্মানো কুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদ। কুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদগুলো শুধু নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করেনা এর রয়েছে নানা ধরনের ওষুধি গুণও।’ কৃষাণী রমেলা বেগম বলেন, ‘এসব শাক সবজি আমাদের বাড়ির আশে পাশে পালানি জমিতেই পাওযা যায়। এগুলো চাষ করতে হয় না একাই জন্মায়। আমরা আগে থেকেই এ শাকসবজি নিয়মিত খেয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে এসব শাকে সবজির সংখ্যা কমে যাচ্ছে আগের তুলনায় আর পাওয়া যায়া না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের গ্রামে প্রচুর ইটের ভাটা হওয়ায় জায়গা কমে যাচ্ছে যে কারণে এসব শাকগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মরে যায়।’

IMG_20181030_155548
কৃষাণী ছালেহা বেগম বলেন, ‘এসব উদ্ভিদে কোন রাসায়নিক সার ও বিষ নেই। মানবস্বাস্থ্যের জন্য এ খাবারগুলো খুব নিরাপাদ এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ। নিরপাদ খাদ্যা হিসেবে এ ধরনের উদ্ভিদ আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষক ছকেল উদ্দিন বলেন, ‘রান্না উৎসবের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নানা ধরনের শাক সবজির সাথে পরিচিত হতে পেরেছে। যে উদ্ভিদগুলো আমাদের নিরাপদ খাবারের উৎস।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.