সাম্প্রতিক পোস্ট

বিমল কবিরাজ এর ঔষধি বাগান

কলমাকান্দা নেত্রকোনা থেকে মুন্না রংদী
নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের তারানগর গ্রামে বাস করেন বিমল মারাক। বয়স প্রায় ৮২ বছর। তিনি একজন বীর মুক্তি যোদ্ধা। তবে তিনি বিজ্ঞান কবিরাজ নামেই বেশি পরিচিত।


তাঁর পরিবারের মূল আয়ের উৎস কবিরাজী। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি এ পেশায় জড়িত। তিনি অসংখ্য রোগের চিকিৎসা করে থাকেন। বর্তমানে তিনি নিজে অসুস্থ স্ট্রোক করে এক পাশ বাম হাত ও পা অনেকটা অবশ হয়ে গেছে। ফলে রোগীর সমাগম অনেকটা কমে গেছে। আগে প্রতিদিন যেখানে ২৫-৩০ জন রোগী থাকতো সেখানে এখন প্রতিদিন ১০-১৫ জন রোগী আসে। তবে এখন সহায়ক হিসেবে তাঁর স্ত্রী রুপা রেমা কাজ করছেন। তার স্ত্রী রুপা রেমা জানান, এখন যে করিবাজী করতো সেই অসুস্থ, আর এখন হাসপাতালে মানুষ বেশির ভাগ চলে যায়। আর করোনা ভাইরাস এর প্রাদুর্ভাব থেকে রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমে গেছে। চিকিৎসা পাওয়ার পর রোগীদের কি ধরণের পরিবর্তন হয় তা জানতে চাওয়া হলে রুপা রেমা জানান, এমন কিছু রোগী এখানে ভালো হয়েছে যারা কিনা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে বড় বড় ডাক্টার দেখানো পরও ভালো হয় নাই। অনেক রোগী যাদেরকে বাঁচার আশা করা যায়নি তারাও ভালো হয়ে গেছেন। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে ঔষধি গাছগাছালীর। এখন সহজে আর ঔষধি গাছগাছালি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ঔষধ তৈরি করতে দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। নিজে যদি কিছু ঔষধের গাছ রোপণ করা যেত তবে ঔষধ তৈরি করা সহজ হতো বলে জানান।


বারসিক কলমাকান্দা রিসোর্স সেন্টার এর পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে ঔষধি উদ্ভিদ ও গাছ গাছালি রোপণ ও সংরক্ষণের জন্য ৩০টি মাটির বড় টব ও বেড়ার দেওয়ার জন্য নেট বেড়া সহযোগিতা করা হয়। মাটির টব এর জন্যই দেওয়া হয়েছিল যে তিনি বলছিলেন যে, মাটিতে সরাসরি রোপণ করলে কিছু উদ্ভিদ বেশি দিন বাঁচে না। কিন্তু টবের মধ্যে রোপণ করা হলে অনেক দিন বাঁচে ও সংরক্ষণ করা যায়। এখন টবের মধ্যে ঔষধি উদ্ভিদ রোপণ করার ফলে খুব সহজে এসব উদ্ভিদ সংগ্রহ করে ঔষধ তৈরি করা যাচ্ছে বলে জানান রুপা রেমা। আগে এসব উদ্ভিদ সংগ্রহ করতে অনেক সময় লাগতো। তারপরও সময় মত পাওয়া যেত না। কিন্তু এখন টবের মধ্যে ঔষধি উদ্ভিদ রোপণ করার ফলে হাতের কাছেই সব কিছু পাওয়া যাচ্ছে।


তবে বিলুপ্ত হয়ে গেছে অনেক উদ্ভিদ যা এখন আর খুজেও পাওয়া যাচ্ছেনা এগুলো হলো, সাদা লজ্জাবতী (গারো নাম) জাওরা খাচ্ছি, শকজান গাছ, তেজ বল গাছ ইত্যাদি)। ফলে বাজার থেকে কিছু বিকল্প উপাদান ক্রয় করে ঔষধ তৈরী করতে হচ্ছে। বাজার থেকে যেসব উপাদান ক্রয় করেন সেগুলো হলো, জায়ট্রিক, লোহা জারক, মেন্থল, গুল মরিচ, জয়ফল বীজ, হরতকী, বহেরা সন্থী ইত্যাদি। এগুলোর সাথে বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ মিশিয়ে ঔষধ তৈরি করা হয়। তবে সম্ভব হলে একটি বড় আকারের ঔষধি বাগান করা ইচ্ছা আছে তার।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: