সাম্প্রতিক পোস্ট

গঙ্গা স্নানে ধুয়ে যায় পাপ

গঙ্গা স্নানে ধুয়ে যায় পাপ

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

গঙ্গায় স্নান  করলে সমস্ত পাপ মুছে যায় এবং জীব মুক্তি লাভ করে এমন বিশ্বাস থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা গঙ্গা স্নান করে থাকেন। গঙ্গা নদীর মূর্তি স্বরূপ গঙ্গা দেবী হিন্দু ধর্মে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী এবং জাহ্নবী। গঙ্গার জন্মকাহিনী নিয়ে একাধিক মত থাকলেও ব্রহ্ম যে গঙ্গাকে পবিত্র করে স্বর্গে উত্তীর্ণ করেন এ নিয়ে মতভেদ নেই। মহাভারত, স্কন্দপুরাণ, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, ঋগে¦দে ও গঙ্গার উল্লেখ আছে। গঙ্গা নদী ও তার শাখা প্রশাখার তীরবর্তী অনেক স্থানে পূণ্যার্থীরা তাই গঙ্গা স্নান করে থাকেন। তাই তো চাটমোহর ও এর পাশে এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা সুদীর্ঘকাল থেকে প্রতিবছর মধু কৃষ্ণা ত্রয়োদসী তিথিতে পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে গঙ্গা দেবীর পূর্জা অর্চনা ও গঙ্গা  স্নান করেন।

gonga snan pic-2

গত বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) পাবনার চাটমোহরের নিমাইচড়া ইউনিয়নের করকোলা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গার শাখা নদী গুমানীতে অত্র এলাকার ঐতিহ্যবাহী গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হলো। সকাল থেকেই গুমানী নদীর এ স্নান ঘাট পাবনা নাটোর সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। কেউ এসে পূজার আনুষ্ঠানিকতা সেরে স্নান করছেন, কেউবা স্নান করে পূজার আনুষ্ঠানিকতা করছেন। বেল পাতা বিভিন্ন রকমের ফল ফুল অর্ঘ সামনে করে নদীর ধারে সারিবদ্ধ হয়ে বসেন পুরোহিতরা। পূণ্যার্থীরা দুহাত তুলে পুরোহিতের সামনে বসে প্রার্থনা শেষে নদীর জলে স্নান করছেন। পুরোহিতদের যে যার ইচ্ছামতো দক্ষিণা দেন। কেউ আসছেন কেউ বা যাচ্ছেন। স্নান শেষে বসন পাল্টে স্নান ঘাটে শুকিয়ে নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে বসেছিল মেলাও। এলাকার মানুষ যেন এ দিনটির অপেক্ষায় থাকে। হিন্দু মুসলামান উভয় ধর্মের মানুষ এ মেলায় আসেন যা সম্প্রীতির চিহ্ন বহন করে। মাটির তৈরি খেলনা এ মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলেও ঘোল, জিলাপি, বিভিন্ন ধরণের খেলনা, খাবার, দা বটি, হস্তশিল্পজাত দ্রব্যাদী পাওয়া যায় এ মেলায়।

gonga snan pic-3

করকোলা ঋষিপাড়া গ্রামের প্রধান ক্ষিতিশ চন্দ্র প্রধান বলেন, “শত শত বছর যাবত করকোলায় বারুনীর গঙ্গা স্নান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দূর দূরান্ত থেকে পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখানে এসে গঙ্গা স্নান করে যান।” মির্জাপুর গ্রামের পুরোহিত শ্রী গোপাল চক্রবর্ত্তী (৩৫) জানান, মূলত পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে গঙ্গা স্নান করে থাকেন এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। শিশু কিশোর যুবক যুবতী বৃদ্ধ বৃদ্ধাসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ বছরের শেষ ভাগে এসে একসাথে গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে নিজেদের ধুয়ে মুছে ফেলেন। পুরোহিত নরেশ চক্রবর্ত্তী জানান, কালী পূজার আনুষ্ঠানিকতার পর এখানকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গঙ্গা স্নান করে থাকেন। পূণ্যার্থী চাটমোহরের মন্টুনাথ রায় জানান, প্রতিবছর পহেলা চৈত্র এখানে স্নান হয়ে থাকে। আমরা বিশ্বাস করি এসময়ে এখানে স্নানের ফলে আমাদের পাপগুলো মোচন হবে। চাটমোহর পৌর সদরের বালুচর মহল্লার নিতাই গৌড় মন্দিরের পুরোহিত শ্রী সুকুমার বাগচী বলেন, “মধু কৃষ্ণা ত্রয়োদসী তিথিতে করকোলায় গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হয়।”

gonga snan pic-4

গঙ্গা  স্নান উপলক্ষে নিকটস্থ ঋষিপাড়ায় বিরাজ করে উৎসবমূখর পরিবেশ। ঋষি পাড়ার বাসিন্দাদের মেয়ে জামাইরা এসময় নায়ারে আসেন। আসেন অন্যান্য আত্মীয়স্বজনও। কয়েক দিনের জন্য এ পাড়াটি যেন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: